চিঠি

শ্রদ্ধেয় নেতাজী, তোমাকে খোলা চিঠি

শ্রদ্ধেয় নেতাজী, তোমাকে খোলা চিঠি
-তন্ময় সিংহ রায়

 

 

 

প্রথমেই তোমাকে নত মস্তকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা, শতকোটি প্রণাম ও হৃদয়ের গহিনের সবটুকু নিবেদিত ভালোবাসা। হে মান্যবর নেতা, স্বঘোষিত সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণটির প্রকৃতি এমন যে…. মানবরুপী ঈশ্বর দর্শনে আমার এ ক্ষুদ জীবন ধন্য। হে পরম পূজনীয় নেতা, তোমার দেওয়া উপহার তৎকালীন অখন্ড ভারতে, স্বপ্ন আজও সবাই দেখে কিন্তু সমস্ত জাতি-ধর্মমিশ্রিত দেশকে বর্বর ব্রিটিশদের শৃঙ্খল থেকে উদ্ধার করার যে একটাই স্বপ্ন তোমার সারাজীবনের রাতের শান্তির ঘুমটুকু পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিলো, এমন স্বপ্ন আজ আর কেউ দেখেনা। তোমার দেশে আজ বীরের মেলা, কিন্তু তোমার মত বীর আজ আর জন্মায়না। স্বার্থের অস্তিত্ব আজও তোমার সাধের দেশে জীবিত কিন্তু তোমার স্বার্থ আজ প্রাণ ত্যাগ করেছে। সমাজসংস্কারকে আজ পূর্ণ জোয়ার কিন্তু তোমার মতন সমাজসংস্কারক হওয়ার সাধ্যি কারো নেই। তুমি যে অদম্য তাই তো তোমার ছিলো এত শত্রু, তুমি যে অভেদ্য তাই তো পৃথিবীর সব শত্রুই ছিলো তোমার পদতলে। হে গর্বিত বঙ্গ মায়ের অপরাজেয় বীর সাধক, একজীবনের সবটুকু সুখকে ত্যাগ করে কি যন্ত্রণাময় জীবনকে তুমি উপেক্ষা করেছো, উপেক্ষা করেছো বর্ণচোরাদের, শুধু আমাদের জন্যে, তা আজ ঠিক কজনের গভীরে আঁচড় কাটে আমার জানার বাইরে। ত্যাগের প্রায় শেষ সীমায় তুমি পৌঁছেছো শুধু আমাদের-ই জন্যে, শত লাঞ্ছনা ও অপমানে প্রতি দিন তুমি রক্তাক্ত হয়েছো শুধু আমাদের-ই জন্যে। কিন্তু আজ……. ? তোমায় শুধু মুখস্থ করা হয় ডিগ্রী বাড়ানোর স্বার্থে ও মাঝে মধ্যে কর্তব্য পালনের মাধ্যমে আদর্শের বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে নিজেকে মহৎ প্রমাণ করার জন্যে। রং করা ফিল্মি হিরোয় বিশেষত নবপ্রজন্ম বুঁদ আর তুমি আজ আলেয়া। রাজমিস্ত্রি আজও দেওয়াল গাঁথে কিন্তু অধিকাংশ অভিভাবক-ই আজ তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেওয়ালে তোমার আদর্শ গাঁথেনা তাই আজ ঘরে ঘরে জন্ম নিচ্ছে আত্মকেন্দ্রিক সন্তান। আজ তোমার খন্ড ভারতে সবাই নিজ নিজ সুখ শান্তির সংসার গড়তে উদ্যত শুধু সংসারটার সুখ শান্তি তোমার কপালে জুটলোনা। জেলে আজও যায় অনেকেই তবে তোমার মতন মহৎ উদ্দেশ্য সফলের স্বপ্ন নিয়ে নয়, দুর্নীতি করে। তোমার আবির্ভাব থেকে আজ অবধি কতবার যে তোমায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে তা হিসাব বহির্ভূত, তবুও তুমি ছিলে অকুতোভয় ও অভঙ্গুর। হে আধিদৈবিক সিংহপুরুষ, ভীষন ভালো লাগে অনুভব করে যে জিলেটিনের প্রলেপযুক্ত কাগজের টুকরোতে তুমি অস্তিত্ববিহীন কারণ, ঈশ্বরের আসন কোনো কাগজের টুকরোতে নয়, ১২১ কোটির হৃদয়ে। আর যে পরিমান দুর্নীতি আজ ওই কাগজের টুকরোর বিনিময়ে চলছে তা বর্ণনাতীত। হে পরম পূজারী, আমি আপ্লুত, মন বলছে, ধামা চাপা বিকৃত ও মানুষ ভোলানো ইতিহাস নগ্ন হওয়ার সময় আসন্ন। কিছু বিশিষ্ট কৃতঘ্নদের মুখোশ-ও উন্মোচনের পথে কারণ, “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়না।” মাঝে মধ্যেই এ প্রশ্ন মনের জরায়ুতে জন্ম নেয় যে তাহলে, ‘প্রকৃত বর্বর কারা?’…. যতদিন এ পৃথিবী জীবিত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আমার সক্রিয় হৃদপিণ্ডে তুমিই আমার ভগবান। হে মানবরুপী ভগবান, স্বাধীন হয়েছি নিশ্চিত কিন্তু তোমার শিক্ষায় আজও শিক্ষিত হওয়ার যোগ্যতাটুকু তৈরী করতে পারিনি। ক্ষমা কোরো, এ লজ্জা একান্তই আমাদের। (ব্যতিক্রম অবশ্যই স্বীকার্য) ইতি……..লজ্জিত তন্ময়।

Loading

One Comment

Leave A Comment

You cannot copy content of this page