গল্প

কিছু ফিরিয়ে দেওয়া

কিছু ফিরিয়ে দেওয়া
-সোনালী গুপ্ত

 

 

আমাদের ব্যস্ততাপূর্ণ জীবন, কাজের চাপ, কাকে কতটা হারাতে পারব, বিভিন্ন সমস্যার চাপে রোজ একটু একটু করে কোথায় যে হারিয়ে যাচ্ছি তা বুঝতে চাইছি না অথবা বুঝতে পারছি না। এগিয়ে যেতে গিয়ে আমরা বাড়ির বয়স্ক মানুষ দের উপস্থিতিই ভুলে যাচ্ছি। ওনারা সংসারের জন্য জীবনের প্রায় সবটাই দিয়ে দিয়েছেন। তার বদলে কতটুকু সময় আমরা তাদের জন্য দিতে পারছি? আচ্ছা এই ব্যস্ততাপূর্ণ জীবন থেকে সারাদিনের শেষে একটু সময় তাদের জন্য কি আমরা বের করে নিতে পারিনা? একটু সময় বের করে তাদের কাছে বসে তাদের ভালবাসা, ভাললাগা, তাদের মনের ইচ্ছাকে জানার চেষ্টা ত আমরা করতেই পারি। কেন আমরা ভুলে যাচ্ছি তাদের ও একটা মন ছিল। ভালবাসা, ভাললাগা ছিল। তাদের একান্ত আপন একটা মন ও জীবন ছিল। আমাদের মত ওনারাও নিজেদের জীবন নিয়ে কিছু স্বপ্ন একেঁছিলেন মনের মধ্যে। বৃদ্ধরা অমুকের কাকা, বাবা, ছেলে, জেঠু, স্বামী এবং বৃদ্ধারা অমুকের মা, কাকী, বৌমা, জেঠিমা হতে গিয়ে নিজেদের স্বপ্নের বিসর্জন দিয়েছিলেন এবং নিজেদের নামটাই ভুলে গিয়েছিলেন। অমুকের বাবা, অমুকের মা হয়েই তারা কাটিয়ে দিলেন জীবন টা। রোজ যদি কিছুটা সময় তাদের দিই, তাদের ভাললাগা, ভালবাসা,পছন্দ,অপছন্দের কথা জিজ্ঞেস করি তাহলেই তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া মন ও স্বত্বা কে আবার ফিরে পাবেন। যে অপছন্দকে তারা সংসারের চাপে পছন্দের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন আমরা হয়ত সেই অপছন্দ থেকে তাদের মুক্তি দিতে পারব একটু সময় দেবার মাধ্যমে।
কিচ্ছু না। ওনাদের একটু সময়, যত্ন ও সম্মান করলেই ওনারা খুশী থাকবেন।দিনের শেষে পাশে বসে তাদের জিজ্ঞাসা করা, “কেমন কাটল আজ সারাদিন?” রোজ রান্নার সময় জিজ্ঞাসা করা, ” আজ আপনার কি খেতে ইচ্ছা হচ্ছে?” কোন কাজ করার আগে একটু তাদের মতামত নেওয়া। তাহলে ওনারা অনুভব করবেন সংসারে ওনারা ব্রাত্য নন। বয়স্ক মানুষ গুলো এর থেকে বেশী কিছু চান না। সপ্তাহের ছুটির দিনে মাঝেমাঝে ওদের কোথা থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন দেখবেন ওনারা কত খুশী হবেন। তার বদলে ওনাদের মুখে যে হাসিটি দেখতে পাবেন তা হচ্ছে আপনাকে দেওয়া ওনাদের আশীর্বাদ।
আজকাল প্রযুক্তিবিদ্যা অনেক উন্নত হয়ে গেছে। তার সাহায্য নিয়ে আমরা পারি এই বয়স্ক মানুষ গুলোর যে বন্ধু ও বান্ধবীরা জীবিত আছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে। সংসারের বেড়াজালে তারা তাদের যে ব্যক্তিগত জীবনকে হারিয়ে ফেলেছিলেন আমরা পারি তাদের মনকে সেখানে পৌঁছে দিতে। শেষ কয়েকটা দিন নাহয় একটু নিজের মত করে বাঁচলেন। আর কতদিনই বা এই মানুষগুলো দুনিয়াতে থাকবেন? নিজেদের ভবিষ্যতে কি হতে পারে সে কথাই না হয় চিন্তা করে বয়স্ক মানুষগুলোকে শেষ জীবনে একটু তাদের মত করে থাকতে সাহায্য করি। ওনারাও ভাল থাকবেন এবং আমাদের দেখে আমাদের সন্তানরাও আমাদের ভাল রাখার চেষ্টা করবে। কথাতেই ত আছে, ” তুমি যেমন করবে ঠিক তেমনই ফল পাবে।”

Loading

Leave A Comment

You cannot copy content of this page