
কবিতা- মুক ও বধির
মুক ও বধির
-সুমিত মোদক
ন-দশ বছরের ছেলেটাকে পিটিয়ে পিটিয়ে
মেরে দিল ওরা ;
সেটাও আবার ঘটা করে ছড়িয়ে দিল
সমাজ মাধ্যমে;
ছড়িয়ে দিতে চাইলো নতুন আরেক ভয়…
এই অন্ধকার বাতাবরণে;
ছেলেটির নাকি অপরাধ, খিদের জ্বালায়
খাবার চুরি করে ছিল;
আরও নাকি বড় অপরাধ, সে অন্য ধর্মের;
সে বুঝলো না ধর্ম কি! বিদ্বেষ কি!
কাকে বলে স্বদেশ!
আট-ন বছরের মেয়েটির মুখে কাপড় গুঁজে
কাঁধে নিয়ে দৌড় দিল, ওরা …
নদীর পাড়ে, ঝোপের আড়ালে;
মেয়েটি চিৎকার করতে চাইলো,
পারলো না;
দু-এক জনের লক্ষ্য পড়ল;
তারাও পিছু নিলো, ভাগ নিতে ;
শরীরের ভাগ, কিশোরীর শরীরের ভাগ ;
বিধর্মী নাবালিকা মেয়ের শরীরের স্বাদ …
সে কি উল্লাস, সে কি উচ্ছ্বাস;
মেয়েটি জানলো না ধর্ম কাকে বলে!
কাকে বলে বিধর্মী!
ওরা বাদ দিল না মৃত্যুর পরেও!
একের পর এক মৃত দেহগুলি
কেবল মাত্র ছবি হয়ে ঘুরছে
এক ভূখণ্ড থেকে আরেক ভূখণ্ডে;
এক সমাজ থেকে আরেক সমাজে ,
সমাজ মাধ্যমে;
কিসের বার্তা দিতে!
এতো কিসের উল্লাস!
যারা এতো দিন মানবতার গল্প শোনাতো
তার হঠাৎ করে দু চোখে কিছুই দেখা পেলো না;
চারি দিকে যে ভীষণ অন্ধকার;
যারা এতো দিন সম্প্রীতির বুলি আওড়াতো
তারা হঠাৎ করেই কথা বলা বন্ধ করে দিল ষ;
চারি দিকে যে বাতাস ভীষণ ভারী
অসহায় মানুষের বুক ফাটা কান্নার শব্দে;
যারা এতো দিন এপার… ওপার… করতো
উৎসবে মেতে উঠতো,
তারা এখনও অপেক্ষা করছে
রক্তাক্ত মৃতদেহগুলির উপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে
গলায় আত্ম অহংকারের উত্তরীয় পরে
বাড়ি সাজানোর স্মারক ও মানপত্র
মাথায় তুলে নেওয়ার;
যারা চির নিন্দুক তারা
এদের বা ওদের কাজকর্মগুলিকে
কোনও ভাবেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিতে পারলো না ;
এটাই দুঃখ থেকে গেল এ মুক ও বধির সমাজের।

