-
কবিতা- ভালোবাসার ফেরিওয়ালা
ভালোবাসার ফেরিওয়ালা
– রাণা চ্যাটার্জীছড়িয়ে ছিটিয়ে ভালোবাসার ফেরিওয়ালা,
ফেসবুক থেকে পরিচিত আনাচে কানাচে থিকথিকে ভিড়ে সর্বত্র ঘাপটি মেরে…ভা..লো…বা…সা..নেবে,.. ভা.. লো…..বা….সা..
….. খাঁটি ভা… লো..বা….সা..চাই? এভাবেই ফেরিওয়ালার সুর বেঁধে অদৃশ্য আহ্বান…..
এ যেন অনেকটা ঘোলা জলে মাছ গেঁথে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামা মুখোশ প্রলেপে সম্মানীয়!সত্যিই তো সম্মানীয়!..যে ভালো গুণাবলী দেখে সমাজ তাঁকে দিয়েছে যাবতীয় সম্মান সেটাই অস্ত্র করে বোঁড়শি হাতে “ব্রহ্মা জানে আসল কম্ম টি..”
মেকী পসারে চোখ ধাঁধায় জানি..
ঝাঁক বেঁধে আসা রমণীয় মাছের দল, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে উপলব্ধি করেও কিভাবে অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে দুচার মৎস কন্যা…
জড়িয়ে যাচ্ছি, তলিয়ে যাচ্ছি অতলে তবু আঁকড়ে ধরে ভেসে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টায় রত মধ্যমনিরা লম্পট সম্মানীয়দের সাহায্যে এগিয়ে…
ছি ধিক্কার, জাল বিছানো ক্ষমতা ভোগ করার লোভীদের…এভাবে সাঁকো হয়ে কাজ করার থেকে টেনে খুলে দিন মুখোশ, ভদ্রবেশী সম্মানীয়দের,
নইলে নিজেদের স্বরূপ প্রকাশ পেয়ে
পরিচিতদের সহানুভূতিটুকু থেকেও বঞ্চিত হবেন,
পরে থাকবে তাচ্ছিল্য,
ততক্ষনে ভালোবাসার ফেরি ওয়ালা অন্য পাড়ায় অন্য খদ্দেরের খোঁজে
ভা.. লো…বা…সা…চাই….ভা… লো…বা..সা…
খাঁটি ভা… লো…বা…সা…. -
কবিতা- পাংশুটে জীবন
পাংশুটে জীবন
-রাণা চ্যাটার্জীবদলে যাচ্ছে কাছের মানুষ ঘেরাটোপ আবর্তে,
কেমন যেন শক্তপ্রাচীর গাঁথা, একা থাকার শর্তে!আগে কত হই-হুল্লোড়, বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস ঢেউ,
ছোঁয়াচে মৌনতায়, একসাথে থাকবে না কেউ!পাল্টে যাওয়া হয়তো সোজা, দায় এড়ানোর ঢাল,
স্মৃতি তাজা হয়ে ডাক দিলে, মন আমার উত্তাল!পাল্টে যাওয়া এ নগর জীবন, পরিস্থিতিতে তুমিও,
নিশাচররাত, জেগে গালে হাত, পারলে বরং ঘুমিও।মনের মধ্যে তুমিটা জেগে, বাইরের খোলস শক্ত,
অদল বদল দিনযাপনে মনে জমে ওঠে বদরক্ত।কষ্ট যদি শেয়ার করো, সমালোচনা হয় আড়ালে,
মুখে কৃত্রিম মিষ্টি প্রলেপ! না হয় সরেই দাঁড়ালে।দায়িত্ব এড়ানো মানুষগুলোরই জ্ঞানবর্ষণ ফ্রী,
সম্পর্কের নোনা দেওয়াল, স্যাঁতস্যাঁতে বিশ্রী! -
অণু গল্প- সহযোগিতা
সহযোগিতা
-রাণা চ্যাটার্জীঠেকে এসে একটু গল্প আড্ডা দিবি তা নয় গুম হয়ে কি এত ভাবছিস বলতো অয়ন! এত কিসের ভাবনা তোর?
-না রে কিছু না বলে সিগারেটে টান দিতেই পুলক পাশ থেকে প্রশ্ন করে তুই কি ভাবছিস রে এতো, কাল তোর বাড়ি গিয়েও দেখছি কি সব কাগজ কলমে হিসেব আর ভেবেই চলছিস!
পল্টু ফুট কেটে বললো, তবে চল সবাই মিলে আয়নক্স যাই, ফিল্ম দেখে পিৎজা খেয়ে ফিরবো। অয়ন না করিস না ভাই।
-থাক না ওসব,পুজো আসছে হাতে টান আছে, এসব পরিকল্পনা না হয় অন্য একদিন হবে।
-কি বলিস রে অয়ন তুই। দিল দরিয়া তোর কিনা অর্থের টান! আগে প্রায় দিন কম খাওয়াতিস তুই! এখন কি তবে প্রেমে ইনভেস্ট করছিস, এত চিন্তা মগ্ন!-না রে, পুজোর চার দিন কিছু ভিখারিকে ভিক্ষা করতে নিষেধ করেছি, ওদের নিয়ে আরো কিছু করার ইচ্ছা ছিল। ওদের সংখ্যাটা আর কিছু যদি বাড়াতে পারতাম খুশি হতাম কিন্তু আমি নিরুপায়।
-কি ভাবনা তোর শুনি? ভিক্ষা করতে মানা করলে ওদের চলবে কি করে? পুজোর দিনগুলো ভিক্ষা করতে না দিয়ে তোর আমার কি লাভ মাথায় আসছে না। বলে মাথা চুলকে সুকান্ত থামতেই শান্ত গলায় অয়ন বললো, বলছি দাঁড়া বলে আর একটান দিয়ে সিগারেটের আগুনটা জুতোয় নিভিয়ে বসলো।
তেমন বিরাট কিছু করিনি রে- পাড়ার একটা হোটেলে বলে দিয়েছি ওরা এলে যেন যত্ন করে খাওয়ায়, তাচ্ছিল্য না করে, খাবারের বিল মেটাবো আমি। দেখলাম চল্লিশ টাকা করে মিল হিসাবে পাঁচ জনের দুবেলার খাবারের দায়িত্ব নেবার আটশো টাকা হাত খরচায় জমেছে আমার।
কি দারুণ ভাবনা রে বন্ধু! এত সুন্দর করে ভাবে কজন বল? তাহলে একটু একটু করে দায়িত্ব ভাগ করে নিলে এত অভাব অভিযোগ থাকে না রে।
-হম রে ভীষণ মানসিক শান্তি। ওদের নির্ভেজাল হাসি আসলে আশীর্বাদ স্বরূপ।অল্প হলেও দায়িত্ব নিয়ে দেখ ভালো লাগবে। শুধু নিজে ঘুরবো-ঠাকুর দেখবো, পূজায় আনন্দ করবো, খাবো এসব না করে ওরাও কটা দিন একটু চিন্তা মুক্ত হয়ে ঠাকুর দেখুক।
আমিও রাজি অয়ন। সামান্য টিউশানি করি তাই দুজনের দায়িত্ব নিতেই পারি। পল্টু বললো, আমিও নেব।
-বাহ, এভাবেই আমার ভাবনা যদি ছড়িয়ে পড়ে, খুশিগুলো বাঁটোয়ারা করতে পারি তবেই আমার শপথের সার্থকতা। তোদেরও খুব ভালো হোক। কথা দিলাম বিবেক পরিশুদ্ধ হয়ে দারুণ কাটবে পূজা।
-
প্রসঙ্গে- হায় আধুনিকতা!
হায় আধুনিকতা!
-রাণা চ্যাটার্জীযত বেশি স্বাধীনতা তত দেখছি এর অপব্যবহার। চায়ের দোকানে এঁটো বাসন মাজা ছেলেটার বাড়িতে ভাত ফুটানোর জোগাড় আছে কিনা ঠিক নেই, হকার দাদাটার কাল কি করে চলবে চিন্তায় নেই কপালে ভাঁজ কিন্তু পকেটে এন্ড্রয়েড মোবাইল আর ডেলি ফ্রি ডাটা মজুত। হোক আটা দামি বয়েই গেল, নেট দুনিয়ায় রগরগে ভিডিওর প্রতুলতা বুঁদ করে রেখেছে শিক্ষিত অশিক্ষিত ছোট বড় সকলকে। প্রকাশ্যে ঘুরছে যৌন উস্কানি ভিডিও রমরমা।অশ্লীলতার মোড়কে পণ্য জাত হচ্ছে নারী শরীর। এ যেন মগের মুলুক স্বাধীনতা, যখন যাকে খুশি যা খুশি ভাবে করায়ত্ত করার প্রচেষ্টা আর বাধা পেলেই নোংরা তকমায় বিদ্ধ।
কি দেখতে হয় আর কি দেখার বয়স হয় নি এই লক্ষণ গন্ডি ধুয়ে মুছে সাফ। পরশু খবরে পড়লাম মফস্বল ছোট শহরে এক মধ্য বয়স্ক ঠান্ডা মাথায় প্রতিদিন বিভিন্ন বাড়ি ঢুকে মহিলাদের খুন করতেন আবার স্বাভাবিক জীবন যাপন। শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে ভয়ঙ্কর অপরাধ প্রবণতা। স্কুল বাচ্চা প্রায়শই ধর্ষণের শিকার, সদ্যজাত ঝলসে উঠছে লালসার আগুনে, বৃদ্ধা হোক মধ্যবয়সী সে হোক নান কিংবা ভিখারি সবাই টার্গেট এই নর পিশাচ আবহাওয়ায়। তবে কি কোথাও নিরাপদ নয় আমরা, আমাদের মহিলা, শিশু কন্যা মহল?
কিসের আমাদের বড়াই তবে? রুচি সংস্কৃতির দোহাই। দেওয়াল জুড়ে মনীষীদের বাণী নিভৃতে কাঁদে। সদা জাগ্রত প্রশাসন কি করবে মনের মধ্যে যদি অপরাধ প্রবণতার বিষাক্ত লেলিহান আষ্টেপৃষ্টে বাঁধে আমাদের। সম্প্রতি ফুলের মতো একরত্তি শিশু তিন বছরের টুইঙ্কেলকে যেভাবে নৃশংসতার সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় খুন করে ফেলে দিয়ে যাওয়া হলো শিহরণ বয়ে গেল ঠান্ডা রক্ত স্রোতের।দেখ কেমন লাগে আর কত ভয়ঙ্কর হতে পারি আমরা এই বার্তা প্রকাশ্যে খুল্লম খুল্লা ছোবল মারছে। “দেশ বাঁচাও বেটি বাঁচাও স্লোগানের ছত্রছায়ায় মা বাবার স্নেহ ভালোবাসায় হাসি খুশিতে বড়ো হওয়া শিশু কন্যার এমন ভয়ঙ্কর পরিণতি কিসের পূর্বাভাস সত্যিই জানা নেই। কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফোঁপরা করে দেশকে ছিবড়ে করা আর সামান্য ধার করে ফেলে তাগাদাকারীর হুঙ্কার, বীভৎসতার নমুনা দেখে বড় গা সওয়া এ আধুনিক জীবন।
-
কবিতা- একলা পথিক
একলা পথিক
-রাণা চ্যাটার্জীআসবো না আর কথা দিলাম,
খোলা মন জানলার গরাদ ধরে উদাত্ত ডাক দেওয়া থেকেও নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবো দেখো,
বদ্ধ ভাবনার আঙিনায় বরং অভ্যস্ত তুমিটা দরজায় খিল তুলে রেখো।
নাই বা টোকা দিলাম আগের মতো,
অপেক্ষায় এই বুঝি সূর্যমুখী হাসির আগমন..
ছন্দে আত্মহারা হওয়ার দিন শেষ, শুধুই প্রস্থান!
কি যায় আসে তাতে তাজা ফুটন্ত লাল গোলাপের!আজ সব এলোমেলো, ছন্নছাড়া অভিমুখ…
মন ভাবনায় ঝড় তুলছে চির সবুজ স্মৃতি,
সব ভুলে নতুন ভাবে শুরু হোক জীবন, নোনাধরা জীর্ণ বাড়ির জানলা থেকে ভাসছে রেডিও সঙ্গীত,
“আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে…” -
কবিতা পাচার
কবিতা পাচার
-রাণা চ্যাটার্জীসাবধান কবিবর একটু সতর্ক হোন
আপনার কবিতাও মিষ্টি মুখের প্রলোভনে
কখন চুরি হয়ে যাবে টের পর্যন্ত পাবেন না!যা কিছু পছন্দ ভালো লাগছে তা বলে হাইজ্যাক!
নিখুঁত দক্ষতায় ববিতা, সবিতার ভিড়ে কবির সৃষ্টি
সন্তান সম কবিতারাও আর সেফ নয়।অন্যের সৃষ্টি কবিতার ধড়-মাথা আলাদা করে
সুনিপুণতায় নিজের লেখায় পাচার করিয়ে তৃপ্ত হবার হাসি, নিজের পিঠ চাপড়ানো বাহাদুরি,
আদতে হেরে যাওয়া পলেস্তারাখসা আসল স্বরূপ।দেখে অভ্যস্ত অনেকেই, আজ তোমরা সতর্ক হও।
পড়লে ধরা মনোহরা ক্ষমা স্বীকার, আবার নতুন
চাল নতুন ভাবনার কলা কৌশলে নতুন
সাহিত্য গ্রূপে বাহবা পেতে পথ হাঁটা।সাবাস সাহিত্য অনুরাগী চালিয়ে যাও,
বিশ্বাস ভরসা অনেক কষ্টে অর্জন করতে হয়।
একবার ভঙ্গুর হলে জোড়া দেওয়া বেশ শক্ত!অন্যের দ্রব্য যেমন বিনা অনুমতিতে হাত অপরাধ,
নিজ সৃষ্টির শোভাবর্ধনে অন্যের সৃজনশীলতা
বিনা দ্বিধায় গ্রহণ অনেকের চোখে তোমায়
বিশ্রীভাবে নামাতেই শুভাকাঙ্খি আমরা
এ হঠকারী নতুন রূপে সত্যি মর্মাহত। -
কবিতা-সময় যখন থমকে দাঁড়ায়
সময় যখন থমকে দাঁড়ায়
-রাণা চ্যাটার্জীবুকের মধ্যে এক সমুদ্র কোলাহল চেপে
বদ্ধ ঘরে ভাবুক স্বত্বার কড়িকাঠে উদাস চাহনি।
বাইরে রৌদ্রের চিৎকার গায়ে মেখে ফেরিওয়ালার খদ্দের হীন পথ হাঁটা…শোকের চাদর গায়ে মেখে বাড়ি মহল্লার নিস্তব্ধতা,
বড্ড বেমানান প্রাণ চঞ্চল পাখি প্রকৃতির কাছে!তবু ফোঁটা ফোঁটা জমে সমুদ্র হওয়া পাপের প্রায়শ্চিত্তে হাবুডুবু আধুনিক শৈলী পটু মানব কূল!
বাড়ির ডাস্টবিনে খাবার উপযোগী কিছু নেই জেনেও বারে বারে রাস্তার ভবঘুরে বেড়ালের উঁকি,
জানে সে জীবনের ঝুঁকি তবু লক্ষ্য বস্তু পাওয়ার উদগ্রীবতা মোহিত করে…
ছুঁড়ে দিতে কই পারে রান্না করা মাছের টুকরো-
কাজ হারানো অর্ধভুক্ত শ্রমিক!তবু আশায় বাঁচে অসহায় চোখের অসম বন্ধুত্ব।
অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঝাঁপ নামা ফ্যাক্টরি গেট…
“মানছি না মানবো না, দিতে হবে করতে হবে” দাবি দাওয়া আদায় আন্দোলনের পোস্টার সাঁটা দেওয়াল ঘেঁষে শুয়ে রাত জাগে অভুক্ত সারমেয়!তবুও নিরুপায় থমকে যাওয়া গতিশীল সময়,
পরীক্ষা নেয় ধৈর্য্যের, প্রকৃত সচেতনতা,
কতটা আত্মস্থ করেছে, “সব জানি বুঝি ভাবখানার নাগরিক” সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন চিহ্ন!মুক্তি কি আছে আদৌ এই নাগপাশ থেকে…ভেঙে পড়ে শুধু অর্থনীতির চাঙড়!
একটা ভয় যায় তো এসে পরে আর এক ধ্বংস,
মৃত্যুর লাশের ওপর প্রতিহিংসার বিজয় উল্লাস! -
কবিতা- ঝড়
ঝড়
-রাণা চ্যাটার্জীনদী উপকূলে এক একটা আছড়ে পরে ঝড়,
রাত জাগা পাখি হয় প্রশাসন.
ঘর বাঁচাতে মরিয়া নিদ্রাহীন আশঙ্কার কালোমেঘ,
ত্রাস বুকে মাথা খুঁড়ে মরে জনপদ!সাইক্লোন দাপটে লিলিপুটের শহর,
বসতি কাঠামো চিবিয়ে খায় ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দৈত্য..
উড়ে যায় চালা, ক্রন্দন ধ্বনিতে ঝালাপালা,
অশ্রুজলে ভাসে স্বপ্ন সন্ধানী চোখ,
হাহাকার বুকে আশ্রয় খোঁজে প্রেমের আঁতুড় ঘর!এ শহর-গ্রাম, বসতি, জনপদ নিশ্চিহ্ন হওয়ার ভ্রুকুটি মেখে শোনে হরিনাম…. আজান ধ্বনি।
ভয়ের কোনো ধর্ম হয় না, রঙ বিভাজন…
বেচেঁ থাকার আকুতির কোনো জাত।
তবু ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে ক্ষতিপূরণের তালিকা বানাতে নেতা খোঁজে কে রমেশ কে রমজান…ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে নয় কেন মানদন্ড আতঙ্ক-শোক?
শুধু বুঝে নেওয়ার পালা কারা নিজেদের লোক।!,
-
কবিতা- মন উচাটন বিভাজন
মন উচাটন বিভাজন
-রাণা চ্যাটার্জীআঁধার কালো মন অগোছালো,
আতঙ্কের প্রহরে বাংলাদেশ,
উৎসব মুখর সম্প্রীতি বার্তায়,
ধুয়ে মুছে যাক ক্ষোভ বিদ্বেষ।ঝলসে যাওয়া বাঁশ প্যান্ডেল,
বিভীষিকাময় ঐ আর্তনাদ!
মৌলবাদের কেন উড়ছে ধ্বজা,
আমরা-ওরা ‘র মরণ ফাঁদ!একই বৃন্তে যে দুইটি কুসুম,
নজরুলের তবু ভিজছে চোখ,
মুজিব স্বপ্নে যে সোনার বাংলা,
হায় এই কিনা পরিণতি দুর্ভোগ!তাকিয়ে দেখো মহান ভারত,
রাম, রহিম, জোসেফ একসাথে,
মানবতাই জানি আসল ধর্ম,
কি সুখ পাও হিংস্র সংঘাতে!যে বিভাজন ডেকে আনে ক্ষত,
রক্ত চুঁইয়ে শুধু ঝরায় অবিরত,
অগ্রাহ্য হোক সে বিভেদ ফাঁদ।
আকাশে যেমন জোছনা চাদরে
সম্প্রীতি বার্তায় ঐ উজ্জ্বল চাঁদ।ধর্ম কখনো চায় না বিভেদ ফাটল,
এসব উস্কানি,প্রলোভনেই ক্ষতি
অন্ধ উন্মত্ততায় লঙ্ঘিত মানবতা,
রাম,রহিম জোসেফের সম্প্রীতি। -
গল্প- পাশেই আছো মা
।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার।।
পাশেই আছো মা
– রাণা চ্যাটার্জীকইগো শুনছো জানলা দিয়ে সকালে আলো ফুটতে না ফুটতেই ধড়ফড় করে উঠে বসল তৃণা। অঘোরে ঘুমিয়ে থাকা রজতকে ঠেলেই চলেছে। “উফ কি হলো কি”!
জানো আজকে স্বপ্ন দেখলাম মা কে।এই নিয়ে প্রায় সাত বার গো।বলছি হ্যাঁ গো এটাও কি সম্ভব বলো!!
“আচ্ছা গো,আর একটু শুয়ে নেই,উঠে বলছি” বলেও আর ঘুম এলো না রজতের।”মনটা প্রসন্নতা য় ভরে উঠেছে তার ।মা আজ প্রায় দেড় বছর নেই,অসম্ভব যন্ত্রণা কাতর মুখ নিয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে অনেক বছর কষ্ট সহ্য করে বেঁচেছিলেন। শয্যাশায়ী হলেও আপ্রাণ মনোবলে শরীরের কষ্ট উপেক্ষা করে সকলের দিকে ছিল সমান নজর।নতুন বিয়ে হয়ে আসা এবাড়ির বউ তৃণা কে ভীষন স্নেহ করতেন মা।”যা তুই পড়তে বোস,আমি সব সামলে নিচ্ছি” এমন ভাবে সাপোর্ট কজন শাশুড়ি করে! অতীত থেকে চলে আসা একটা ভুল ভাবনা শাশুড়ি আর বৌমা বুঝি দুই প্রতিপক্ষ সেটা এ বাড়ীতে এলে কারোর বোঝার উপায় থাকতো না এরা দুজন মা মেয়ে না শাশুড়ি বৌমা! একটা নিখাদ বন্ধুত্ব যে কত সুন্দর ভাবে ডালপালা মেলতে পারে, পল্লবিত হয় তার চরম সুন্দর দৃষ্টান্ত ছিল তৃণা ও শাশুড়ি সবিতা।দুজনের মধ্যে ছিল দারুন একটা এডজাস্টমেন্ট যা অন্যদের ঈর্ষান্বিত করত। দুপুরে খাওয়া শেষ হলে কাজ গুছিয়ে চলতো দুজনের নিটোল গল্পের আসর।সময়ের সাথে সাথে সংসারে বহু বাধা-প্রতিবন্ধকতা এসেছে, বাইরের লোকের আক্রমণ ।”ও দিদি রান্নাঘরটা ছেড়ে বউটাকে কাজে লাগাও” “ওর যখন সময় হবে ঠিক দায়িত্ব বুঝে নেবে”এমন চাঁচাছোলা উত্তরে থেমে যেত প্রতিপক্ষ।
যেদিন সবিতা দেবীর মৃত্যু হল কে জানতো তৃণা ও রজতের হাতে দুপুরের শেষ খাবার টা খেয়ে শান্তির ঘুমের ঢলে পরবেন উনি । খেতে খেতে জড়িয়ে যাওয়া গলায় বারবার বলছিলেন, তার নিজের স্বর্গীয়া দিদির নাম করে,’ ওই দেখ ওই দেখ দিদি ডাকছে আমায়!”বিষয়টা আজ ভাবলে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ওঠে প্রিয় মানুষটাকে হারানোর যন্ত্রনা।
ব্যালকনিতে সবিতা দেবীর যে মালা পড়া ছবিটা রয়েছে, প্রত্যেকটা দিন ঘুমাবার আগে রজত হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। মায়ের সঙ্গে সব কথা শেয়ার না করলে তার যে ঘুম আসবে না !যেন মা তাকিয়ে বলে, যারে সকালে উঠতে হবে অফিস জার্নি, শুয়ে পর।তৃণা প্রায়শই স্বপ্ন দেখছে আর বলছে জানো আজও মা কে দেখলাম কি সুন্দর স্নান সেরে নতুন শাড়িটা পরে বেঞ্চে বসে।আমি পড়ছিলাম মাথায় হাত রেখে বলছে যা খেয়ে নে,।এর পর দুজনে প্রতিদিনের মতো সবজি বাজার বেরুলাম। অবাক কান্ড কি জানো, মা একদম সুস্থ,নিজেই হেঁটে বাজার যাচ্ছে। পাড়ার সবাই দেখে খুব অবাক যে মানুষটার শেষ কয়েক
বছর হুইল চেয়ারে কেটেছে একদম নিরোগ,সূর্যের আলোয় আলোকিত।ঘুম থেকে উঠে মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে মন খুশিতে ভরে উঠলো রজতের।মনে মনে বললো আমি তো জানি মা, তুমি কেবল ছবি নও এ সংসারের রক্ষাকারী,সব সময় আমাদের পাশে আছো।যেখানেই থাকো ভালো থেকো মা,প্রণাম তোমায়।