-
ফিরে এসো
ফিরে এসো
-শিবশঙ্কর মণ্ডলব্যস্ততার চরম উষ্ণায়নে দগ্ধ
শাল পিয়ালের ছায়ায় বসে
বিজন অরণ্যের সেই সাধের
অমরাবতীতে কত খুঁজেছি তোমায়।
অনুক্ষণ বুনো মউলের ঘ্রাণে;
ক্ষুধার্ত নেকড়ের চোখে হৃদয়
রক্ত মাংসের গন্ধে অথবা বুভুক্ষা
পেঁচার চকিত চাহনিতে,ধূসর
অন্ধকারে।এখনো যার মনের ছোঁয়ায়
ঘুমাবৃত স্বপ্নেরা খোঁজে ভালবাসা;
চাহিদার স্ফুটনাঙ্ক ছুঁয়ে হৃদয়
মরুতে ফোটে প্রেমের পারিজাত….
তার ফেরার প্রতীক্ষায় ঢুলুঢুলু
চোখে জেগে আছে চাঁদ।
প্রতিটা রাতের স্বপ্নস্ফীত বৃন্তে
প্রেমের মেহেন্দি এঁকে তোমারই
ফেরার নির্জন পথে নিদ্রাহীন
আকাশে বুকে জ্বালিয়েছে আলো
স্বাতী,বিশাখা।অন্ধকারের শিকড় ছুঁয়ে জোনাকিরা
দেহের প্রতিটা ভাঁজে বিস্ফারিত
চোখ মেলে খোঁজে হলুদ বসন্তে
ফেরার অমোঘ প্রতীক্ষা।
তুমি না এলে হৃদয় নির্ঝরিণী
হারায় তার নাব্যতা, প্রতীক্ষার সাঁকো
ভেঙে উপেক্ষার রাতে কবিতা পাতায়
শুধুই লেখা রবে নৈ:শব্দের কথা। -
কৃষ্ণচূড়ার পথ ধরে
কৃষ্ণচূড়ার পথ ধরে
-শিবশঙ্কর মণ্ডলচোরকাঁটা বিদ্ধ হলুদ শাড়ীর
কামরাঙা আঁচল পেতে সবুজ
ঘাসের উপর ঘুমিয়ে সোনালি
রোদ্দুর স্বপ্ন দেখে নিরবচ্ছিন্ন
অঘ্রাণ হিম রাত তার বুকে
ঢেলে দেবে বরফের স্তূপ।
সাগরের ঢেউ এনে বসন্ত কোকিল
চৈতালি বিকেল আরক্ত সূর্যের
আভায় নখ চিরে অতি সাবধানে
রক্তের স্পন্দনে গেয়ে যাবে
চির নূতন বসন্ত গান।দূর দিগন্তরেখায় নীল সন্ধ্যার
আগমনে কেঁপে ওঠে হিমায়িত
বুকের বিক্ষুব্ধ স্বপ্ন তরঙ্গ।
তন্দ্রা নামে পৃথিবীর ঢুলুঢুলু
চোখে,বোবা বেদনারা ছিঁড়ে
খায় সোনালি রোদ্দুর রেণু।
শিকারী পেঁচার স্তব্ধ চোখে
ঝরে যায় নীল পৃথিবীর
অগাধ রাত্রিতে সাদা কুয়াশার
থোকা থোকা স্বপ্ন তন্তু।
সবুজ স্পর্শবৃন্ত ছুঁয়ে রূপালি
শিশিরের চুম্বনে নিদ্রা ভঙ্গ হয়
নীল রাত্রির দুই চোখে।এপৃথিবীর সব প্রেম মেখে
বসন্ত কোকিলের কুহুকুহু রবে
জেগে ওঠে এই নির্ভীক বুক
চির প্রেম প্রেম স্পন্দনে।
সোনালি ডানার রোদ্দুর বাতাসের
বুক চিরে আবারও ওড়ায়
শাড়ীর আঁচল,হেঁটে যায়
রাঙা বসন্ত কৃষ্ণচূড়ার পথ ধরে।