-
ভুল বুঝনা
-অপর্ণা রায়
বন্ধু আমায় ভুল বুঝোনা,আজকে সু -প্রভাতে,
একটুকু সুখ নেই যে আমার, যা দেব তোমার হাতে।
হয়তো পাখির কলতানে জাগবে না আজ ভোর,
হয়তোবা ঐ রবির কিরণ খুলবেনা আজ দ্বোর।
হয়তো দীপ জ্বালবে না আর রাতের ধ্রুবতারা,
কোন সে ছায়াপথের দেশে,আমি যে পথহারা।
স্বপ্ন আমার হারিয়ে গেছে দূর ভুবনের পারে,
চলবো শুধু একলা পথে,আনবো খুঁজে তারে।
অমানিশা বিনাশ করে সত্যের দীপ জ্বালি,
দুহাত ভরে আনবো প্রভাত, দেখবে দুচোখ মেলি।
সেদিন তোমার বাতায়নে ছড়িয়ে সোনার আলো,
বলবো প্রিয় বন্ধু, আমায় একটু বেসো ভালো।
-
যদি ভুলে যাই
-অপর্ণা রায়
যদি ভুলে যাই,
তবে মনে কোরো-কোনো এক বিস্মৃতির অন্ধকার -ওপারে
হারিয়ে গেছি আমি।
যেখানে চাওয়া -পাওয়া ,হা-হুতাস তুমি, আমি কিছু নেই।
ষেথা-
কাউকেই কোনদিন খুঁজে বেরানোর প্রয়োজন,কারো কাছে কখনোই নয় ততো দামি!
বাঁকা হাসি হেসে হয়তো কোনো সন্দেহ কবে-
কঠিনের ভয়ে ভীত ,দায়বদ্ধ জীবন থেকে পালিয়েছি আমি।
তুমি তো জানলেনা –
ঊষর বাস্তবের বুকে গড়েছিলাম কত স্বপ্নের মহল ,দিন গুলো ছিল ঝলমল।
একদিন চেয়ে দেখি -তুমি পাশে নেই!
ব্যাথার বেদনে ,অশ্রু যমুনা পারে, আমার স্বপ্নের হল সমাধি মহল।
বিশ্বাসগুলো যবে ভুল হয়ে-একেএকে ঘিরে ধরে পাশ –
তখনই বুঝেছি-
কতশত আলোকবর্ষ দুরে ,
বহু দুরে চলে গেছ তুমি।
মরিচিকাময় চলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, হয়রান হয়ে কত খুঁজে -খুঁজে আজ-
বড়ো ক্লান্ত হয়েছি।
আমাকে বিদায় দিয়ে ,
কেন চলে গেলে?
তুমি কি এতটুকু বুঝলেনা!
-তোমাকে ছাড়া কত অসহায় এ প্রাণ,
এলোমেলো স্মৃতিময় মুহুর্তগুলোত-কান্নায় ভেঙে পরে ,শুন্য পানে প্রশ্ন তোলে-
কেন এমন হোলো?
মাধুর্য্যহীন অসুন্দর নিষ্ঠুর জীবনের কষাঘাতে –
অনর্গল নীলবিষে আচ্ছন্ন্ হৃদয়।
মহাশূন্যে ভারশূন্য দেহতরী,
তোমাকে হারায়ে -খুঁজে দিশাহীন,
গভীর অন্তরালে বিস্মৃতির ছায়াপথে,
আজ সেই “আমিটারই” শেষ -অস্তিত্ত্ব বিলীন।
-
প্রতীক্ষা
-অপর্ণা রায়
আমি আকাশ ভরা দৃষ্টি নিয়ে,
পথের পানে চেয়ে থাকি-
প্রভাত আলোর পথটি ধরে ,
কবে যে তুই আসবি ফিরে।
সন্ধ্যা তারার বিদায় ক্ষনে
প্রশ্ন সুধাই তারে-
আঁধারে দীপ জ্বেলে ধীরে,
কবে যে তুই আসবি ফিরে।
মেঘ বালিকা উড়নী ওড়া ,
ঘুড়নী ঝড়ের হাওয়ায় ধেয়ে,
ওমনি ভাবি -ওই আকাশে,
এলো বুঝি আমার মেয়ে।
সমব্যাথার বন্যা নিয়ে ,
ঝড়ে পড়ে দু-চোখ পরে,
বিদ্রুপেরই ঝিলিক দিয়ে,
মিলিয়ে যায় আকাশ পাড়ে।
কত যুগ যে বয়ে গেল ,
অশ্রু নদী শুকিয়ে গেল,
জীর্ণ আশায় আজও বেঁচে,,,,,,,
তোর তরী তো এলোনা তীরে?
হৃদয় বীনা ছিন্ন করে,
সন্ধ্যা নামে জীবন পড়ে,
মরণকে ও থামিয়ে দিয়ে,
চরণ তাহার আছি ধরে।
প্রবল ঝড়ের দোলায় দুলে
কে গো আশার সিন্ধু তীরে,
অন্ধ হয়ে প্রশ্ন করি——
তুই কি তবে এলি ফিরে?