-
কবিতা- তুমি আর আমি
তুমি আর আমি
-কাজী মুহাম্মাদ রাকিবুল হাসানতোমার ভল্টে টাকা আর গহনা,
আমার ভল্টে কবিতার ব্যঞ্জনা।তুমি দিন-রাত জমাতে মগ্ন,
আমি অহর্নিশি কবিতায় নিমগ্ন।তুমি ফুলে-ফেঁপে অপ্সরা,
আমি ধুকে ধুকে আধমরা।তোমার চারপাশে কত আয়োজন,
আমার আশেপাশে যত বিয়োজন।তোমার আটপৌরে জাঁকজমকে সবাই অবাক,
আমার কলমের তৃপ্ত আঁচড়ে প্রেয়সী হতবাক।তবুও তোমার মাঝে কেন জানি শূণ্যতা,
আর আমার কবিতা আমায় দেয় পূর্ণতা।তোমায়, অশুভ চিন্তাসমূহ কুড়ে কুড়ে খায়,
আমায়, ভাবনাগুলো কবিতার খোরাক যোগায়।হয়তো তোমার জীবনটা অসুন্দরে জারিত,
আর আমার জীবনটা কবিতায় পরম তৃষিত। -
কবিতা- হনুজ দুরস্ত
হনুজ দুরস্ত
– কাজী মুহাম্মাদ রাকিবুল হাসানমাটি ফুঁড়ে খাড়া ঐ ক্যাকটাস
যেন উদ্ধত নাঙা তলোয়ার,
দৃশ্যত অনিমেষ চোখ রাঙানি-
ভীষণ আগ্রাসী আহ্বান!চঞ্চল মুখর মায়াময়ী ঐ সজারু
যেন কণ্টকময় গোলাপ গাছ,
হাত বাড়ালেই শত ফোড়ন-
স্পর্শের পরশ সুদূর পরাহত!ছায়াসঙ্গী হয়ে পথ চলে ঐ চাঁদ
যেন বিশ্বস্ত সহযোগী বা অনুচর
মিটিমিটি হাসে দূর থেকেই-
তবুও ধরা দেয় না সকাশে।৫’ ৩” সমেত..দেখো ঐ ‘ডানাকাটা পরী’
হেটার্সরা বলে, “আমার” মনোলোভা প্রেয়সী
অথচ ‘বন্ধু’ বানিয়েই রেখে দিল যাদুঘরে-
“ভালোবাসা”..? সে তো আসলেই হনুজ দুরস্ত। -
কবিতা- অভিমানী নিসর্গ
অভিমানী নিসর্গ
– কাজী মুহাম্মাদ রাকিবুল হাসানদ্রোহে অনড় প্রকৃতি
স্তব্ধ নিসর্গের স্ফূরণ,
খোল নলচে বদলানো দৃশ্যপট
ঘোল কলা অদ্ভুত সমীকরণ।সৃষ্টির বহমানতায় ঋতুর পালাবদল যেন
ছিলই ‘বর-কনে’র প্রত্যাশিত মালাবদল,
সগৌরবে আজ ঋতু ভাঙে তালা সকল
কাটায় একঘেয়েমির সমূহ ধকল।নিসর্গ এখন প্রচণ্ড আত্নসম্মানবোধে জারিত…
চায় না হতে রঙ্গমঞ্চের নাচের পুতুল
চায় না হতে ক্ষারীয় ল্যাবের গিনিপিগ,
হতে চায় চিত্র বিচিত্রময় গিরগিটি
হতে চায় সম শুকতারা দিগ্বিদিক।মানবের নিদারুণ অমানবিকতায়
সর্বংসহা অভিমানী নিসর্গ,
সমানুপাতিক প্রতিশোধ পরায়নে
ছাড় দিবে না বিন্দুবিসর্গ।