• কবিতা

    অনুভূতি

    অনুভূতি
    বর্ণালী নন্দী
    দাঁড়িয়ে আছি শান বাঁধানো ঘাটের’পরে,
    অতল দীঘির নিকষ কালো জলের দৃষ্টিমেখে ।
    পরম তৃপ্তিতে বিভোর হয়ে চেয়ে রইলাম,
    হংসমিথুনের মাতোয়ারা জলকেলিতে ।
    মাছরাঙা তার রাঙাঠোঁটের বিশ্বাসে,
    একনিষ্ঠ ছিল পরম লক্ষের আশায় ।
    ছোট্ট ছোট্ট তরঙ্গমালার প্রতিবিম্ব রূপ,
    বিন্দু বিন্দু করে চুঁইয়ে পড়ল হৃদয়ের আঙিনায় ।
    থরে থরে সাজানো শালুকের শ্বেত শুভ্র শির,
    কেউ স্পন্দনে, কেউ ভ্রমরালাপে,
    কারো বা আলুলায়িত পাপড়ি ।
    অনতিদূরে দৃষ্টি কাড়ে একটি কচুরিপানা ফুল,
    কারুকার্যে সাতটিরঙে রঞ্জিত ঠিক যেন কৃষ্ণের শিখা ।
    ব্যাকুল আর্তিতে বৃন্তে স্পর্শ পাওয়ার বাসনায়,
    এক অনাবিল আনন্দে ভরে ওঠে আবেগিমন ।
    হঠাৎ সম্বিৎ ফেরে নেপথ্য প্রহসন কণ্ঠধ্বনিতে,
    আমি কলমিলতা, জড়িয়ে আছি তোর রাঙা যুগল পায় ।

  • কবিতা

    ব্যর্থ…….???

    ব্যর্থ…….???

    -বর্ণালী নন্দী

     

    তুমি কেন এত চঞ্চল?

    ছোট্ট ডিঙিটা ভাসতে চায়,

    তোমার বুক জুড়ে; তোমার উথাল পাথাল তরঙ্গে,

    দিকভ্রান্ত আজ তার গতি।

    পাহাড়, তুমি কেন এত কঠিন?

    ক্ষুদ্র চারাটি বৃক্ষ হতে চায় তোমার বক্ষ চিরে;

    তোমার তপ্ত হৃদয়ের জ্বালা মেখে,

    ঝিমিয়ে পড়েছে তার শরীর।

    ঝর্না, তুমি কেন এত দুরন্ত?

    ক্ষুদ্র নুড়ি-পাথর তোমার সাথে প্রতিযোগিতায়!

    তুমি ঝরে পড় আপন সুখে,

    একা পড়ে সে মাটির বুকে।

    সাগর, তুমি কেন এত গভীর?

    পানকৌড়ি মন ডুব দিতে চায় তোমার অতল জলে;

    ডুব সাঁতারে আহার খোঁজে, মুক্ত ছাড়া ঝিনুক মেলে।

    আকাশ, তুমি কেন এত দূরে?

    পাহাড় চায় তোমার কোলে ঘেঁষতে;

    হাতছানির ব্যর্থ আর্তিতে,

    মেঘ জমেছে মনের কোনে।

    বাতাস, তুমি কেন এত বহমান?

    খাঁচার পাখি উড়তে চায় তোমার সাথে দূরদেশে;

    তাল মেলানোর মিথ্যে প্রয়াসে,

    ঝড় উঠেছে তার বুকে। চাঁদ,

    তুমি কেন এত সুন্দর?

    তোমাতেই মুগ্ধ আজ মম অন্তর;

    জ্যোৎস্না মাখার ভ্রান্ত আশায়,

    নিশি যাপনের চলছে রেশ।

    সূর্য, তোমার কেন এত তেজ?

    তোমাতে একটু শীতলতা চায় সবুজ বনানী;

    চৈতালী আহরণের তরে,

    ফুটিফাটা ধরনী হৃদয়।

  • কবিতা

    কল্পনার আঙিনায়…..কি জানি…

    কল্পনার আঙিনায়…..কি জানি…

    -বর্ণালীন্দী

     

    এক পলকহীন দৃষ্টিতে চেয়েছিলাম,

    নীল গগনে উদাস নয়নে ।

    কি জানি ! হয়তো তোমার কথাই ভাবছিলাম ।

    দাঁড়িয়ে ছিলাম ঠায় নিশ্চুপে নিরালায়,

    সবুজ মাটির বিজন গহনে ।

    কি জানি ! হয়ত তোমারই অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম ।

    ধরনীর চেরাচুলের সিঁথি ধরে হাঁটছিলাম,

    নীরব স্পর্শের গন্ধ মেখে,

    কি জানি ! হয়ত তোমারই দেখা পেয়েছিলাম ।

    মুগ্ধতার সিঁড়ি বেয়ে চন্দ্রচূড়ে পৌঁছেছিলাম,

    অম্বর প্রাঙ্গনে লুকোচুরি মাঝে ।

    কি জানি ! হয়ত তোমাতেই চন্দ্রিমায় মেতেছিলাম।

    শৈত্যপ্রাতে কুহেলিকার সাথে হারিয়েছিলাম,

    অবচেতন মনের অস্তিত্ব রেখে ।

    কি জানি ! হয়ত তোমাকেই হিমের সাথে দেখেছিলাম ।

    বৃষ্টি আশায় চাতকের ন্যায় চেয়েছিলাম,

    নিথর দিঘির স্ফটিক নয়নে, 

    কি জানি ! হয়ত তোমাতেই একপশলা বৃষ্টির স্বাদ খুঁজেছিলাম ।

    সারি সারি শ্বেত শুভ্র বলাকার সঙ্গধরে উড়েছিলাম,

    চির প্রিয় কপোতির ন্যায় ।

    কি জানি ! হয়ত তোমাতেই একচিলতে শান্তি আশায় ভেসেছিলাম ।

    উত্তরাকাশে ধ্রুবতারা দর্শনে বিহ্বল নয়নে নেচেছিলাম,

    অনাবিল কোন সৃষ্টি নেশায় ।

    কি জানি ! হয়ত তোমাকেই পথপ্রদর্শক মেনেছিলাম ।

<p>You cannot copy content of this page</p>