• কবিতা

    শুভ দিন

    শুভ দিন
    -রত্না চক্রবর্তী মুখার্জী 

     

     

    সেদিন বোধহয় নক্ষত্রামৃতযোগ হয়েছিল
    সেই গুরুবারে
    স্বাতী,পুনর্বসু,পুষ্যা ও অনুরাধা হ’তে
    অনিবার জ্যোতি এসে পড়েছিল
    আমাদের পথের উপরে
    তাই বুঝি আমাদের পায়ে পায়ে ছায়াপথ হ’লো।

     

    পৃথিবীর কাজ শেষে,এসো, সেই পথে হাঁটি
    এই পথে অমৃত, তুমি জানো,এই পথে মরণের জয়
    সূর্য দিয়ে ঢাকা দিন
    আলো চলে গেলে এই পথ মন্দ আলোময়।

     

    আমাদের কথা দেখো,কতবর্ষ, কতকাল ধরে
    লেখা হয়ে আছে চাঁদের বুকের ভিতরে

    আমরা কলঙ্ক ভাবি,ভাবি কত ক্ষয়।

     

    এভাবেই হেঁটে যায় চিরকাল পাশাপাশি প্রেমাতুর জন।
    আমাদের এই পথ, এই পথের সৃজন
    কেউ ভাবে নভপথ,কেউ ভাবে আলো।

     

    এই গ্ৰহ, এই চাঁদ,এই নক্ষত্র বাহার,
    এই নীল ছায়াপথ
    এভাবেই অনন্ত আকাশের গায়ে
    আমাদের গল্পগুলি
    চিরদিন লিখে রেখে যাবে।

  • গল্প

    অভিযোজন-হীন

    অভিযোজন-হীন

    -রত্না চক্রবর্তী মুখার্জী 
    মুন, অনেক অপেক্ষা আর আকাঙ্খার শেষে বাবা-মায়ের কোলে একমাত্র সন্তান জন্মগ্ৰহণ করল।মা বাবার নয়নের মণি।তারপর ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলো মুন।
    : কই গো, কোথায় গেলে? মুনের বোধহয় খিদে পেয়েছে, কেমন ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদছে। তাড়াতাড়ি ওর খাবার নিয়ে এস।বাটি স্টেরিলাইজ করেছ তো?হাত ধুয়েছে সাবান দিয়ে?ওর জন্য যে বাটি চামচ এনেছি,সেগুলোই ব‍্যবহার কর তো?
    : আমার সোনা খেয়ে ‌নেয়। দেখি কেমন করে খায় দেখি।এই তো! আমার সোনা মুন।
    : মুন সোনা! খাবার সময় টিভি র দিকে তাকিয়ে থাকতে নেই। খেয়ে নাও। কি হল মুন?নাও,নিজে হাতে খাও।এই তো, কি সুন্দর নিজে হাতে খাচ্ছো! আমি তো বসে আছি তোমার সঙ্গে। একসঙ্গে খাবো আমরা।কেমন!
    : কী হলো মুন?রাগ করে খাচ্ছিস না?কী হয়েছে মা? মা কিছু বলেছে?আয় মা, আমার সঙ্গে বসে খাবি আয়।
               (এবার মুনের বিয়ে হল। দুটি মানুষের সংসার)
    : মুন, দু’জনের খাবার একসাথে বেড়ে নাও। জানি, তুমি একা একা খেতে পারো না।এক থালাতেও নিয়ে নিতে পারো।
    : মুন,দেখো, তোমার জন্য কী এনেছি। তুমি তো চাইনিজ খেতে ভালোবাসো। তাই ‌আনলাম।
                                   (মুন ‘মা’হলো)
    : ওঃ মুন, তুমি বাবাইকে খাওয়াচ্ছো?আচ্ছা, আমাকেও একটু খেতে দিয়ে দাও না। খুব খিদে পেয়ে গেছে।
                      (মুনের সংসার পুরনো হতে থাকলো)
    : তুমি আমার জন্য বসে থাকলে কেন এতক্ষণ? খেয়ে নিতে পারতে!ওঃ একা খেতে পারি না বললে চলে??
    : শোনো, রাত্রে আমার নেমন্তন্ন আছে।
    : না আজ খাব না বললাম তো!! তুমি খেয়ে নাও।সে তুমি না খেলে না খাও। আমার কিছু করার নেই।
                            (মুনের বাবাই বড় হচ্ছে)
    :  মা, তুমি তো আমার সাথেও খেতে পারো,বাবার সাথে সবদিন না- ই যদি হয়!!
    :  মা, আমি টিভি দেখতে দেখতে খাবো। আমাকে খাবারটা দিয়ে দাও। আমি দোতলায় নিয়ে যাই। তুমি আর বাবাও চলে এসো না! একসঙ্গেই খাবো।
                           ( মুনের ছেলের বিয়ে হলো )
    :  মা, তুমি আজ একাই খেয়ে নিও প্লিজ! আমি আর সেঁজুতি আজ বাইরে খেতে যাবো।
    :  মা, তুমি খেয়ে নাও। রাত হয়ে যাচ্ছে। টুকুন কে ঘুম পাড়িয়ে সেঁজুতি আসুক।ও আর আমি খেয়ে নেব।
    : ওঃ মা, তুমি কেন বসে রইলে আমাদের জন্য।একা একা খেতে পারি না বললে চলে??
    :  কী যে করো না তুমি মা! খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়তে পারো না? এত রাতে এটা ওটা খেয়ে শরীর খারাপ করলে আমাকেই তো সেই নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটতে হবে!!যত্ত সব।
    :  কী হলো?এত রাতে তুমি দরজা খুললে? সেঁজুতি কোথায়? খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝি?ওর শরীর ভালো নেই? কেন,কী হলো আবার?ওঃ যা টাফ ভোটের ডিউটি গেলো না! শরীর আর টানছে না। আমি পরিষ্কার হয়ে আসছি। একটু কিছু খেতে দাও।তারপর টানা ঘুম দেব।
          একী,মা! দুটো থালায় খাবার ‌বাড়লে কেন? সেকি, তুমি খাওনি?এই রাত তিনটে পর্যন্ত তুমি না খেয়ে জেগে বসে আছো? কেন মা কেন?কেন যে এরকম করো তুমি!মা!

You cannot copy content of this page