জীবনগান -সুমিতা দাশগুপ্ত প্রতিদিনের মতো আজও পাখির কলকাকলিতে ভোর ভোরই ঘুমটা ভেঙে গেল বিমলবাবুর। মুখ হাত ধুয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই একরাশ টাটকা বাতাস জড়িয়ে ধরলো তাঁকে। বাতাসে পাতলা কুয়াশার আস্তরণ , সূর্য ওঠেনি এখনও। বুক ভরে শ্বাস নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে বাগানে নেমে এলেন তিনি। ডানদিকে তরকারির বাগান । প্রথমে সেইদিকেই পা বাড়ালেন । শিশিরভেজা সবুজ […]
অণুগল্প- সাদা কালো
সাদা কালো -সুমিতা দাশগুপ্ত “একি বুবুসোনা, তুমি এখনও কেঁদেই চলেছো? অনেকক্ষণ কেঁদেছো, নাও এবারে কান্নাকাটি থামাও।” “কী করবো মা, আমার যে খুব কান্না পাচ্ছে। ঐ দুষ্টু লোকেরা মিলে মিছিমিছি ভালো দাদুটাকে মারলো কেন? জানো মা,রোজ সকালে মোবাইলের ইস্কুল শেষ হয়ে গেলে,’বাই বাই ম্যাম্’ বলে আমি যখন দোতলার এই বারান্দাটায় বসে বসে রাস্তা দেখি তখনই রোজই […]
অণু গল্প- শিক্ষক
শিক্ষক -সুমিতা দাশগুপ্ত -মা জানো, কাল তো শিক্ষক দিবস। আমাদের ম্যামদের জন্য কী চমৎকার সব গিফট কেনা হয়েছে, উঁচু ক্লাসের দিদিরা সব গিফট সুন্দর করে প্যাকও করে ফেলেছে।কাল দেওয়া হবে। সব রেডি। -আমার গিফটও রেডি। -তোমার গিফট? কার জন্য মা? তোমার ম্যামের? কোথায় থাকেন তিনি? কোথায় খুঁজে পেলে তাঁকে? -এইখানেই, শুধু চোখ মেলে দেখি নি […]
প্রবন্ধ- লীলাময়ী লীলা মজুমদার
।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার।। লীলাময়ী লীলা মজুমদার-সুমিতা দাশগুপ্ত বড়ো ইচ্ছে, তাঁর জন্মদিনে একখানা হলদে পাখির পালক উপহার দিই ।তুমি বলবে — ওমা সে তারিখ তো কবেই পেরিয়ে গেছে !আমি বলি তাতে কী? তারিখ পেরিয়ে গেলেই তো আর জন্মদিনটা মিথ্যে হয়ে যায় না , বিশেষ করে আপামর বাঙালির বুকের মধ্যে একখানি […]
প্রবন্ধ- মায়ের আঁচল
অমরনাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার প্রবন্ধ- মায়ের আঁচল -সুমিতা দাশগুপ্ত বাংলায় একটা কথা আছে “বন্যেরা বনে সুন্দর , শিশুরা মাতৃক্রোড়ে” । কোনও সন্দেহ নেই জগতের সমস্ত শিশুদের জন্যই এই কথাটি ধ্রুব সত্য। মানবশিশুর জন্য আরও একটি পরম ভরসাস্থল ধ্রুবতারার মতো চিরসত্য হয়ে বিরাজ করে , সেটি হলো মায়ের আঁচল। এই জগতে মায়ের আঁচলের তুল্য আর আছেটা […]
প্রবন্ধ- খাদ্যরসিক বাঙালি
।। অমরনাথ স্মৃতি সাহিত্য প্রতিযোগিতা ।। খাদ্যরসিক বাঙালি-সুমিতা দাশগুপ্ত বাঙালি যে চিরকালের খাদ্যরসিক, সেকথা কে না জানে ! এই অবিসংবাদিত সত্যটি এক লহমায় জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায় সুরসিক সাহিত্যিক শ্রী সুকুমার রায়ের লেখা বিখ্যাত “খাই খাই” কবিতায়। বাঙালিকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন –“যতো কিছু খাওয়া লেখে বাঙালির ভাষাতে ,জড়ো করে […]
চিঠি- আমার একলা লাগে ভারি
আমার একলা লাগে ভারি-সুমিতা দাশগুপ্ত ….আজ রবিবার। সকাল থেকেই তুমুল বৃষ্টি নেমেছে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। আমার বাড়ির প্রশস্ত লনের কোণে, বিশাল ওক গাছটা থেকে থেকেই প্রবল বেগে মাথা ঝাঁকাচ্ছে, এই বন্দীজীবন ওর আর ভালো লাগছে না বোধহয়, ওরও কী আজ মনখারাপের দিন ঠিক আমারই মতো!আশ্চর্য! কতোগুলো বছর কেটে গেল এদেশের মাটিতে, তবু এইরকম […]
অণুগল্প- প্রভু আমার প্রিয় আমার
প্রভু আমার প্রিয় আমার-সুমিতা দাশগুপ্ত -“দাদু ও দাদু নীচে যাবে না?” ঠাকুরমশাই তো কখন এসে গেছে। পুজোও শুরু করে দিয়েছে, একটু পরেই আরতি হবে। ঠাম্মা তোমাকে নীচে যেতে বললো।”-“আমি যে এখানেই আরতি দেখতে বসে আছি দাদুভাই।”-“সে আবার কী, এখানে আবার কে আরতি করবে? কোন ঠাকুরের আরতি?”-“এখানে যে স্বয়ং প্রকৃতি আয়োজন করেছেন জগদীশ্বরের বন্দনায়। […]
অণুগল্প- জীবনের চালচিত্র
জীবনের চালচিত্র-সুমিতা দাশগুপ্ত তরুণ ফল বিক্রেতা ফটিক, ঠেলাগাড়িতে করে ফল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করে বেড়ায়। বেলা এখন প্রায় সাড়ে দশটা। নানান এলাকা ঘুরে, অবশেষে এই শুনশান পাড়াটিতে ঠেলা নিয়ে ঢুকে পড়লো সে। এদিককার ফ্ল্যাটবাড়িগুলোতে অনেক বাঁধা খদ্দের আছে তার।এই এলাকায় বেশ কিছু সম্পন্ন মানুষের বসবাস। ফটিক সঠিক ওজনে, ন্যায্য দামে, টাটকা ফল বেচে বলে […]
অণুগল্প- চির পথের সাথী
চির পথের সাথী-সুমিতা দাশগুপ্ত -“ঈশ্, কী যে বিচ্ছিরি লাগছে, এবারের পঁচিশে বৈশাখটা, কেমন মাঠে মারা গেল, বলো দাদু! না কোনও সেলিব্রেশন, না একটু গান বাজনা, কেবলই মনখারাপ করে ঘরে বসে থাকো।”-“গান! সে তো তুমি ঘরে বসেও গাইতে পারো”।-“দূর্ আমি কি গাইতে পারি নাকি? সুর ভুল হয়ে যায়।-“তুমি তো অন্যকে শোনানোর জন্য গাইছো […]