স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

  • কবিতা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    কবিতা- বিনিসুতোয় প্রেম

    ।। অমরনাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ।।

     

    বিনিসুতোয় প্রেম
    -প্রদীপ শর্ম্মা সরকার

     

     

    প্রেমের ভাষ্যে যথারীতি মেদূরতা,
    সঙ্কল্প, সেও ভীত চোখে চায়–
    যুগোত্তীর্ণ প্রেম আসলে ব্যথা,
    প্রেমের শপথ বুদবুদ হয়ে যায়।

    প্রেম বোঝে না বয়সের জটিলতা,
    অনুপানে তার সংখ্যার সাথে সখ্য–
    বিনোদনে তার আগ্রাসী মধুমিতা,
    বিদ্যুল্লতা বেষ্টনে কাঁপে বক্ষ।

    অন্য সে প্রেম গলিপথে শুধু বিস্ময়,
    নটরাজের তান্ডব সেও প্রেম–
    হাতে হাত রেখে সাহসিনী আজ দুর্জয়,
    নয় আদিসুখ ,প্রেম নিকষিত হেম।

    বিনিসুতো দিয়ে বুনে রাখা যত স্মৃতি
    জলরঙে আঁকা একান্ত অভিসার–
    ঘি এর সাথে অগ্নি শোধনে প্রীতি
    সংখ্যাসখ্যে কুসুমিত সংসার।

  • কবিতা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    কবিতা -আত্মোপলব্ধি

    ।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ।।

     

    আত্মোপলব্ধি
    -শৌভিক মন্ডল

     

     

    ঐতো কোজাগরী চাঁদ দেখা যায়,
    জলের বিন্দু ওঠে ঝকমকিয়ে,
    অশীতিপর নৌকার চলাচল
    কেটে দেয় জল-জোছনার মিতালী।

    এইভাবে কত বছর কেটে গেল,
    এল কত চন্দ্রভূক রাত্রি ,
    কালো থেকে আরো কালো অন্ধকারে ডুবলাম।
    এতই অন্ধকার যে কাঁধে হাত রাখা হাতগুলো পরিচয় করালো ওটা কালো নয় নিগূঢ় অমাবস্যা বলে।

    তবে আজ আর অমাবস্যা আর পূর্ণিমার ,
    তফাৎ করতে তেমন ভুল হয় না। বছর ঘুরে আবার কোজাগরী চাঁদ দেখি ।
    আর তফাতটাও নিজে নিজে করি ,
    কোনটা পূর্ণিমা আর কোনটা অমাবস্যা।

  • কবিতা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    কবিতা- চিনে নিতে

    ।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ।।

     

    চিনে নিতে
    -তমালী বন্দ্যোপাধ্যায়

     

     

    চারপাশে এত মানুষ
    কিন্তু কেউ মানুষ নয়,
    সবাই মানুষের মত সেজে রয়েছে!
    মাঝে মাঝে এমনও তো মনে হয় নিশ্চয়-
    চারপাশে এত বন্ধু,
    তাও কিন্তু কেউ বন্ধু নয়।
    শুধু বন্ধুর মত দেখতে লাগে তাদের!

    এমনো তো হয়,
    সত্যিকারের যারা বন্ধু,
    তাদেরই চিনতে পারেনা মন।
    হয়তো তাদের কাছে
    কখনো পৌঁছনোই হয়না।
    অথবা সত্যিকারের মানুষের
    সামনে দাঁড়িয়ে সন্দেহ হয়–
    চিনে নেওয়া হয়না প্রকৃত মানুষকে।।

  • কবিতা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    কবিতা- আমি আর তুমি

    ।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ।।

     

    আমি আর তুমি
    -অমর দাস

     

     

    যদি তুমি হও বৃষ্টি আমি আকাশ হতে পারি,
    যবে মোর হৃদয় আকাশ হতে ঝড়ে প্রেম বারি।
    যদি নদী হও তুমি আমি সাগর হতে পারি।
    তব প্রেম নদী মম প্রেমসাগরে পড়ে আছাড়ি।
    যদি তুমি হও শিশিরবিন্দু আমি সবুজ দূর্বাদল,
    তোমার প্রেম শিশিরবিন্দু ঝড়িছে অবিচল।
    যদি তুমি পাহাড়ী ঝরণা রুক্ষ পাহাড় আমি,
    তোমার প্রেমের ঝরণা ধারায় স্নিগ্ধ হলাম আমি।
    তুমি আমার প্রকৃতি হলে আমি যে প্রেম তোমার।
    প্রকৃতি-প্রেমের মহামিলন হলো মোদের ভালোবাসার।
    আমি তোমার সঙ্গীত আর আমার সুর যে তুমি।
    সুর-সঙ্গীতের ঐক্যতানে বাঁধা মোদের প্রেম কাহিনী।
    তুমি আমার কবিতা যদি আমি তো ছন্দ তোমার,
    তোমার আমার মিলনে রচিব কাহিনী ভালোবাসার।
    আমি তোমার মরুভূমি যদি তুমি আমার মরুদ্যান ,
    তোমার স্নিগ্ধ স্পর্শে সিক্ত হোক আমার সুষ্ক প্রাণ।
    আমি রাতের আঁধার তুমি মোর রবির আলো,
    ঘুচাও আঁধার জীবনে মোর জ্বালো আলো জ্বালো।
    আমি তোমার প্রেম , তুমি যে প্রেয়সী আমার ,
    আমাদের প্রেমে গড়িব আমরা পবিত্র স্বর্গদ্বার।
    প্রেমসাগরে ভাসায়েছি নাও চলো প্রেমনগরে ,
    তুমি আমার কাণ্ডারী এই গহিণ প্রেম সাগরে।
    তুমি আমার সাহিত্য জীবনে কাব্য প্রেমের ধারা,
    তুমি আমার কাব্য সৃষ্টি নতুন সাহিত্য ধারা।
    আমি যদি প্রতিবাদী তুমি প্রতিবাদের ভাষা,
    আমাদের মিলনে মোদের জাগ্রত ভালোবাসা।
    আমি যদি আঁধার রাত্রি তুমি যে আমার স্বপ্ন,
    বিনিদ্র রজনী আমি তোমার স্বপ্নে নিমগ্ন।
    আমি তোমার জীবন যদি তুমি মোর জীবনধারা
    মোদের হৃদয়ে বহিছে এক প্রেমের অমৃতধারা।

  • কবিতা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    কবিতা- শান্তি নিবাস

    ।।  অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার।।

     

    শান্তি নিবাস
    -অনিমা দাস

     

     

    চাই না আমি অট্টালিকা
    চাই ছোট্ট একটা বাড়ি ,
    আমার চাওয়া ক্ষুদ্র অতি
    আমি যে সাধারণ নারী ।

    শান্তি নিবাস নাম হবে তার
    শান্তি বিরাজ মান ,
    হাসি খুশি থাকবে সবাই
    রাখবে সবার মান।

    আনন্দ রাজ করবে বিরাজ
    কম কিছু তো নয়,
    সারা জীবন রাখবো ধরে
    করবো মোরা জয়।

    থাকবে সেথায় ফুল বাগিচায়
    রঙ বাহারি ফুল ,
    প্রভাত হতেই ফুল তুলতে
    ছড়িয়ে এলো চুল ।

    ফুলের সুবাস ভোরের হাওয়া
    স্নিগ্ধ তনু মন ,
    ভালো রাখার ভালো থাকার
    করেছি যে পণ।

    ফুল বাগিচায় ফুল দলে
    রঙিন প্রজাপতি ,
    পাখায় পাখায় রং মেখে
    ওই খেলবে কানামাছি ।

    পায়রা গুলো ঘুলঘুলিতে
    করবে বক্ বকম্ ,
    শস্য দানা ছিটিয়ে দিলে
    খুঁটবে সারাক্ষণ ।

    মুক্ত বায়ু চলবে সেথা
    করবে কানাকানি ,
    প্রাণের পরে শীতল বায়ু
    দেবে হাত ছানি।

    বাড়ির উঠোন গন্ডি টানা
    নয় তো কিছু কম ,
    খোলা আকাশ মাথার উপর
    প্রাণ ভরে নিই দম।

    তুলসী তলায় সন্ধ্যা প্রদীপ
    জ্বলবে সন্ধ্যা কালে,
    শুদ্ধ মনে ভক্তি ভরে
    চলবে নিত্য তালে।

    বাড়ি টুকু গড়তে গিয়ে
    কত রক্ত ক্ষয় ,
    নিজের বাড়ি ছোট্ট বাড়ি
    তাতেই হবে জয়।

    ছোট্ট বাসা ছোট্ট আশা
    হোক না সবার তরে ।
    সেই টুকু তেই খুশি থাকুক
    সারা জীবন ধরে ।

  • গল্প,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    গল্প- করোনাকাল

     ।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ।।

     

    করোনাকাল
    -সুতপা মন্ডল

     

     

    ব্রেকিং নিউজ: করোনায় লকডাউন, চাকরি হারিয়ে আত্মঘাতী ইঞ্জিনিয়ার।

    প্রত্যেকটি চ্যানেলে খবরটা বারবার দেখাচ্ছে। খবরটা শুনতে শুনতে পার্থ ভাবে তার মনের কথাটা জানল কি করে?

    কাল রাতেই টারমিনেশন লেটার পেয়েছে মেলে, পাওয়ার পর থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না এই মুহূর্ত থেকে সে বেকার।
    বারবার বাবা-মা, ছোট বোনটা, সুচেতার কথা মনে পড়ছে।

    ভালো করে পড় বাবু, তোকে অনেক বড় হতে হবে। তুই যখন বড় হয়ে এই এত বড় চাকরি করবি তখন আমাদের আর কোনো দুঃখ থাকবে না।

    দেখো মা, একদিন আমি অনেক বড় হবো, এত বড় চাকরি করব, আর বাড়ি বানাবো অনেক উঁচুতে ওই হারান জেঠুদের ঘর টার থেকেও উঁচুতে।

    পার্থ হেড স্যার এসেছেন বাড়িতে।
    আজ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরিয়েছে বাবা, ” তুমি আমাদের স্কুলের, এই অঞ্চলের নাম রোশন করেছ। আশীর্বাদ করি তুমি অনেক অনেক বড় হও, দশজনের একজন হও।”

    দাদা তুই জয়েন্টে চান্স পেয়েছিস! তুই এবার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বি?
    ধুর বোকা মেয়ে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে কত খরচ হয় জানিস? ওসব আমাদের জন্য নয়।

    বাবা শুনতে পেয়ে বলেন এসব নিয়ে ভাবিস না বাবা, আমি সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি, পুবের মাঠের জমিটা বেচে দিয়েছি আর তোর মায়ের গয়নাগুলোও আছে, তুই একদম চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে, তুই শুধু মন দিয়ে পড়াশোনাটা কর।
    কিন্তু বাবা বোনের জন্য মায়ের গয়না গুলো-
    তুই চাকরি করে বোনের জন্য গয়না। গড়িয়ে দিস।

    দাদা চাকরি পেয়েছিস! কলকাতায় থাকবো আমরা! আমার বন্ধুদের কে বলব আমার দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরি পেয়ে গেছে।

    বাবাকে প্রনাম করে বলে চাকরি পেয়েছি এখনই মাইনে বেশি নয় তবে পরে উন্নতি হলে মাইনেও বাড়বে।

    পাঁচ বছর হয়ে গেছে পার্থর চাকরি। সাধারন একজন এমপ্লয়ী থেকে পার্থ এখন ম্যানেজার, মাইনের রকম টাও ভালো।

    বোনের বিয়ে তো ঠিক হয়ে গেছে, কিছু গয়না যে গড়াতে হবে বাবা।
    চিন্তা করোনা বাবা, আমার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দিয়েছি বোনকে, বলে দিয়েছি ওর যা যা লাগবে কিনে নিতে। তুমি ভয় পেয়ো না বাবা, আমার স্যালারি থেকে মাসে মাসে কেটে যাবে।

    বাবা গাড়ি কিনলাম তোমাকে আর মাকে নিয়ে মাঝে মাঝে বেরিয়ে পড়বো এখানে ওখানে ঘুরতে।
    এখনই এত টাকা কোথায় পেলি বাবা, একটু বুঝেশুনে খরচা কর।
    বাবা টাকা একসাথে দিতে হয়না E MI তে কিনেছি, আস্তে আস্তে শোধ হয়ে যাবে।

    বাবা একটা ফ্ল্যাট বুক করলাম, তিনটে রুম বড় একটা হল ঘর রান্নাঘর নিচে গ্যারেজে আছে। আর ভাড়া বাড়িতে থাকব না। অনেক উঁচুতে ফ্ল্যাট শহরটাকে তোমরা ব্যালকনিতে বসে দেখতে পাবে।

    খোকা ফ্যাট কিনতে যে অনেক টাকা লাগে বাবা!

    বাবা কিছু টাকা দিয়ে বুকিং করেছি আর বাকি টাকা লোন করেছি, মাসে মাসে স্যালারি থেকে কেটে যাবে।
    এখন টাকা জমিয়ে আর কেউ ঘর কেনে না, নিজের ঘরের আরামে থাকতে থাকতে কিস্তিতে কিস্তিতে লোন শোধ করে।

    কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিয়ে হয়েছে পার্থর আর সুচেতার। সুন্দরী, সুশিক্ষিত সুচেতা সুন্দর করে সাজিয়েছে ঘর।
    শাশুড়ি বউ দোকানে দোকানে ঘুরে ম্যাচিং করে কিনেছে পর্দা থেকে চাদর।
    প্রতিটা ঘরের আসবাবপত্রের মধ্যেও একটা শৌখিনতার ছাপ। ঘরে ঢুকলেই দামি জিনিসের আভিজাত্য টুকু চোখে পড়ে।
    এইতো মাত্র কয়েকদিন আগেই রান্না ঘরের ইন্টেরিয়র বদলে ফেলল। আগের ইন্টেরিয়ার এর সাথে লিভিংরুমের ইন্টেরিয়ার ঠিক ম্যাচ খাচ্ছিল না।

    সব মিলিয়ে পার্থর এখন বেশ গোছানো সংসার। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
    বাবা মা সুচেতা পার্থ, বেশ সুখের সংসার।

    করোনার জন্য সব লন্ডভন্ড, দেশজুড়ে তথা বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলছে।
    পার্থদের যদিও ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলছে।
    কয়েকদিন আগে হঠাৎই ওদের প্রোজেক্ট বন্ধ হয়ে যায়, নতুন প্রজেক্ট এর আশা এখন প্রায় নেই।
    কাল রাতে এসে গেছে টার্মিনেশন লেটার।
    পার্থর চোখের সামনে ভাসতে থাকে ঘরের ইএমআই গাড়ির ইএমআই ক্রেডিট কার্ডের লোন ……
    তারপর:-
    সকাল থেকে টিভি চ্যানেল গুলোতে ব্রেকিং নিউজ, “লকডাউন এর জেরে চাকরি খুইয়ে আত্মঘাতী ইঞ্জিনিয়ার।”
    পর্দায় ভেসে ওঠা ছেলেটাকে একদম পার্থর মত দেখতে।

    ….সমাপ্ত……

  • কবিতা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    কবিতা- ছুঁয়ে যাক

    ।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ।। 

     

    ছুঁয়ে যাক
    -তমাল হাইত

     

     

    আমার কলমের সঙ্গী তুই এখন,
    একলা থাকার সময়টা আকঁড়ে ধরা তোকে।
    বুঝি এসব পাগলামী স্রেফ, শুনলে বলবে লোকে।

    লোকের কথায় কি আসে যায়,
    যদি তোর কথা শুনে মন নিজেকে হারায়।
    নিজেকে রাখবো বাজি, একবার হ রাজি ; বল ভালবাসবি আমায় অনন্ত।

    জানিস কি কে তুই ?
    কি এই সম্পর্কের পরিচয়?
    কেন আটকাতে পারেনি মন, বারেবারে শুধুই আশকারা দেয়।

    যেদিন পেয়েছিলাম প্রথমবার কাছে তোকে,
    শরীরে মনে উঠেছিল ঝড়,
    বারেবারে তাই পেতে চাই আমি
    শুধুই তোর বন্য আদর।

    যে আকুতি সীমাবদ্ধ ছিল শুধুই তোর পায়ে,
    কখনো নূপুরে, কখনো বা স্পর্শের অস্থিরতায়।
    সময়ের সাথে কখন জানি হয়েছে গভীর আরো,
    ছুঁয়েছে তোর হৃদয় ভীষণ উন্মত্ততায়।

  • কবিতা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    কবিতা- ভিক্ষা

    ।। অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ।। 

     

    ভিক্ষা
    -শম্পা সাহা

     

     

    বরফের মত গলতে থাকা ধূমায়িত রাত্রি
    চাপচাপ বিষণ্ণতার জঙ্গলে বসে
    শুধু শ্বাপদের দীর্ঘশ্বাস
    বহুকাল রক্ত চেটে তাদের জিহ্বাও আজ আড়ষ্ট
    শিরায় উপশিরায় রক্তের ক্লেদ
    ধমনীতে আর শোধন হতে চায়না
    ব‍্যর্থ জালিকা দাবি তোলে রদ বদলের

    জঙ্গলের আইনেও চাইছে বদল বৈপ্লবিক কিছু শাকাশী
    রক্ত নয় হাতিয়ার শুধু ভালোবাসা
    তাতেই নাকি গলতে পারে জমে থাকা ক্ষত পুঁজ রক্ত শেষে
    ছেঁড়াকাটা লাশে মাছি বসে ডানা ঝাপটায়
    বড় ভালো আছি
    বড্ড বেশি রকম আছি ভালো
    এই বলে উড়ে চলে যায়
    নিথর সভ‍্যতার মরা মাছের মত স্থবির দৃষ্টি
    আর শীতল শোণিতে যদি কখনো প্লাবন আসে
    ফের যদি আগুন লাগে বিবেকের কোণে

    হয়তো সভ‍্যতায় প্রাণবায়ু ফিরলেও ফিরতে পারে
    না হলে
    শুধুই অপেক্ষা
    অথবা প্রাপ্তি ভিক্ষা কয়েক পলের!

  • গল্প,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    গল্প- সুরভী

    অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    সুরভী
    – সঞ্জিত মণ্ডল

    সন্দীপের অফিসে কদিন থেকে খুবই ধকল যাচ্ছে। একটা মেধাবী মেয়ে নাম মানসী, তার রহস্যজনক ভাবে লোপাট হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সন্দীপ সি আই ডি অফিসার, বিভিন্ন ধরণের তদন্তের কাজে দিন রাত ব্যস্ত থাকতে হয়। কখনো কখনো দিন রাত অফিসেই কেটে যায়, বাড়িতে আসার অবসর হয় না। সেদিন ও তাই হয়েছে, রাত এগারোটা বেজে গেলে সন্দীপ ভাবলো তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী সোনালী কে একটা ফোন করে নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানায় আর দু চারটে সোহাগের বাণী বলে তাকে খানিকটা সান্ত্বনা দেয়।
    সেই মতে সন্দীপ ফোন করে সোনালী কে, বলে, তোমার সুরভী নিয়ে একটু যে ঘুমাবো তার উপায় নেই। সোহাগের ছলে বলা কথাগুলো শোনা মাত্র সোনালী ঝাঁঝিয়ে ওঠে। অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে কর্কশ গলায় বলে, দেখো, তোমাকে আমি সাবধান করে দিচ্ছি, আমার সামনে তুমি সুরভীর নাম মুখে আনবে না। সুরভী তোমার যত পেয়ারের লোক হোক না কেন, তাকে আমি চিনিনা, চিনবো না, চিনতে চাই না। সব পুরুষ মানুষ গুলো এক সমান। বউ যত সুন্দরী হোক না কেন তাকে মনে ধরে না, অন্য মাগী একটু ফুটফুটে হলেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে বাধে না। একজনের কাছে মন বাঁধা দিয়ে বিয়ে মারাতে গেছিলে কেন লজ্জা করে না? তাইতো বলি, আমার দিকে নজর নেই, খালি বাজে অজুহাত দিয়ে বাইরে বাইরে রাত কাটানো, জানোয়ার কোথাকার।
    সন্দীপ নির্বাক বিস্ময়ে স্ত্রীর কথা গুলো শুনতে শুনতে ভাবতে লাগলো সে ঠিক কি বলেছে যার জন্যে সোনালী এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লো তার উপরে। সে তো শুধু বলেছিল, তোমার সুরভী নিয়ে একটু যে ঘুমাবো তার উপায় নেই। সুরভী নাম শুনেই সোনালী এমন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো কেন। সে নিজেও তো সুরভী নামে কাউকে চেনে না। কে এই সুরভী? কিন্তু সুরভীর চিন্তা মন থেকে জোর করে সরিয়ে দিতে হয়, কেননা যে মেধাবী মেয়েটি নিখোঁজ হয়েছে তার নাম মানসী। এফ আই আরের ফাইলটা গভীর মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকে। পড়তে পড়তে কয়েকটা শব্দের নীচে লাল কালির দাগ দেয়। একটা কথা বিদ্যুৎ চমকের মতো মাথায় খেলে যায়। দুজন সহকারীকে ডেকে নেয়, রাত তখন দুটো। নিজে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে তাদেরও প্রস্তুত হয়ে নিতে বলে, ড্রাইভারকে গাড়ি রেডি রাখতে বলে।পাঁচ মিনিটের মধ্যে ওরা বেরিয়ে পড়ে কৃষ্ণ নগরের দিকে।
    ভোরের আলো ফোটার আগেই ওরা কোতোয়ালি থানায় পৌঁছে যায়, ডিউটি অফিসারকে অতিক্রম করেই ওরা ওসির ঘরে ঢুকে পড়ে। ওসি অরুণাভকে নিজের পরিচয় পত্র দেখায়। ওসি গুড মর্নিং স্যার বলে স্যালুট জানিয়ে সুদীপ্ত কে বসতে অনুরোধ করে। সুদীপ্ত সংক্ষেপে কি করতে হবে কেন করতে হবে সেটা বলে, আটজন আর্মড ফোর্স নিয়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গে একটা বিশেষ ঠিকানায় রেড করতে বলে।
    দুটো গাড়িতে ওরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যে বাড়িতে হানা দিল সেটা সুদীপ্তর শ্বশুর বাড়ি। সুদীপ্ত তিন চার জন বন্দুক ধারি কে নিয়ে বাড়ির চারিদিকে নজর রাখে, অরুণাভ কে বলে রাখে বাড়িতে মহিলা বা পুরুষ যেই থাকুক না কেন, তাকেই যেন গাড়িতে তোলে। এটা যে তার নিজের শ্বশুর বাড়ি সেকথা ঘুণাক্ষরেও কাউকেই জানায় না।
    ওসি অরুণাভ ভিতরে ঢোকার পর আধঘন্টা কেটেছে, পর পর দুবার গুলির আওয়াজ পাওয়া গেছে। সুদীপ্তর উৎকন্ঠা যখন চরম সীমানায় তখনই দুটো লোককে হিড়হিড় করে টানতে টানতে গাড়িতে তোলে।
    সুদীপ্ত খুব কঠিন গলায় বলে, তুমি নিজে বলবে অথবা থার্ড ডিগ্রি চাইছ। সুদীপ্তর মেজশালা বাদল চোখ লাল করে বলে, ও তুমি ই তাহলে আমাদের সর্বনাশ করতে এসেছ। তাই বলি, এই না হলে জামাই। সুদীপ্ত অরুণাভ কে ঈশারা করা মাত্রই অরুণাভর কনুই টা বাদলের মোক্ষম জায়গায় আঘাত করে, বাদল রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে যেতে রাজি হয়ে যায়। বলে, বেথুয়া ডহরির মৃগদাবর দিকে যেতে হবে। অরুণাভ কঠোর গলায় বলে, বেচাল দেখলে ওইখানে তোকে পুঁতে দেবো। গাড়ি ছুটতে থাকে বাংলাদেশ বর্ডার বরাবর। এক সময় ওরা বেথুয়া ডহরির বিভূতি ভূষণ অভয়ারণ্যে পৌঁছে যায়। ঢুকেই ডান হাতে একটা রাস্তা সরাসরি ইছামতীর দিকে এগিয়ে গেছে, ঘাটের পাশেই একটা কাঠের গুদাম। বাইরে থেকে চাবি বন্ধ করা আছে। দুটো লোক বাইরে বসে খৈনি বানাচ্ছিল, পুলিশ দেখেই দৌড়ে নদীর ঘাটের দিকে পালানোর চেষ্টা করলো। বন্দুক ধারি সেপাইরা হল্ট হল্ট করতে করতে পিছনে ছুটে গিয়ে বললো, রুক যাও, নেহিতো গোলি মার দুঙ্গা। লোক দুটো তোয়াক্কা না করে নদীতে ঝাঁপ দিল। নদীতে প্রচুর কচুরিপানার মধ্যে আত্মগোপন করার চেষ্টা করলো। একটু দূরে কয়েক জন মাঝি নৌকা নিয়ে মাছ ধরছিল, পুরো ব্যাপার টা দেখে আর পুলিশের কথা শুনে লোক দুটো কে বললো, ভালোয় ভালোয় উঠে এসো, নাহলে লগির খোঁচায় এখানেই তলিয়ে যাবে। লোক দুটো ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে নৌকায় উঠতেই হঠাৎ ভুটভুটি নৌকা ইঞ্জিন চালু করে লোক দুটোকে নিয়ে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে গেলো। এপার থেকে গুলি চালিয়ে ও ওদের নাগাল পাওয়া গেল না।
    এদিকে তালা বন্ধ দরজা ভেঙ্গে মুখ বাঁধা অবস্থায় মানসীকে পাওয়া গেলো সম্পূর্ণ আচ্ছন্ন অবস্থায়। চোখেমুখে জলের ঝাপটা দিয়ে কোনোমতে জ্ঞান ফিরিয়ে এনে ওরা কলকাতার দিকে রওনা দেয়। মানসীকে অত্যন্ত কড়া পাহারায় হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েই পার্ক স্ট্রীটে নিজের কোয়ার্টারে মহিলা আর্মড ফোর্স নিয়ে হাজির হয়। তার স্ত্রী সোনালী দরজা খোলা মাত্র সে ইশারা করে, সোনালী এ্যরেষ্ট হয়ে যায়। সুদীপ্ত অফিসে ফিরে অবসন্ন হয়ে চেয়ারে শরীর এলিয়ে দেয়।
    মূহুর্তে মানসী উদ্ধারের খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এও রটে যায় সি আই ডি অফিসার সুদীপ্তর নিকট আত্মীয় এমনকি তার স্ত্রী ও এ্যরেষ্ট হয়েছে। শুধু সাংবাদিকরা নয় উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও জানতে চায় সুদীপ্ত এই রহস্য উন্মোচন করলো কিভাবে।
    সুদীপ্ত বললো সুরভী শব্দটা এই রহস্য উন্মোচন করতে সাহায্য করেছে । আর সাহায্য করেছে আমার নিজের বিবাহিত স্ত্রী। সে যদি সুরভী এই সামান্য কথায় সাংঘাতিক রেগে গালিগালাজ না করতো তবে আমার পক্ষে এ রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হতো না। ওর কাছে বিনাকারণে অসহ্য গালি খেয়ে মানসীর ফাইল ঘাঁটতে শুরু করি, ঘাঁটতে ঘাঁটতে দেখি মানসীর ডাক নাম সুরভী। ব্যাপার টা আমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। আমার স্ত্রী ই তার সঙ্গে পুরানো বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে মানসীকে কৃষ্ণ নগরে দাদাদের হাতে তুলে দেয়, দাদারা তাদের ব্যবসায় মন্দার কারনে মানসীকে বাংলাদেশে বিক্রি করে দেবার ব্যবস্থা পাকা করে ফেলে।
    একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে, কিন্তু কেন আপনার স্ত্রী তার নিজের বন্ধুর এমন সর্বনাশ করতে উদ্যত হলো?
    সুদীপ্ত বলে আদিম ঈর্ষা! আমার ফুলশয্যার রাতে মানসী নাকি একটু বেশী উৎসাহ দেখিয়ে ফেলেছিল, সেটা আমার স্ত্রীর ভালো লাগেনি। তার জন্যেই এই চরম পদক্ষেপ। আমি বড়ো ক্লান্ত, এবার আমাকে ক্ষমা করুন, আপনারা আমাকে একটু একা থাকতে দিন।

  • রম্য রচনা,  স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার

    রম্য- “ঘুম ঘুম চাঁদ”

    অমর নাথ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার”

    “ঘুম ঘুম চাঁদ”
    -রাখী চক্রবর্তী

    “দিনের শেষে ঘুমের দেশে”
    ক্লান্ত শরীর বিছানায় বসলেই চোখ জুড়ে ঘুম চলে আসে,কিন্তু পরিপাটি করে শোওয়ার‌ ব্যবস্থা করলেই ‌ঘুম উধাও হয়ে যায়।
    সারাদিনের কাজ,ব্যর্থতা, হাসি মজা সব মগজের এক প্রান্তে রেখে ঘুমকে প্রেমিক প্রেমিকার মতো জড়িয়ে ধরে ভালবাসতে হয় তবেই নিশ্চিন্তের ঘুম ঘুমানো যায়।
    ফুটপাথে যার শুয়ে থাকে তারা চাঁদকে দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ে,চিন্তা ভাবনা নেই,হারিয়ে যাওয়ারও কিছু নেই ওদের,দুনিয়ার ‌সবচেয়ে সুখী ওরা, আমরা তাই ভাবি।
    ঘুম যে অনেক প্রকারের হয় সেটা ওরা জানলেও মাথা‌ঘামায় না ।
    যেমন ভাতঘুম, রুটি ঘুম, বিরিয়ানি ঘুম।
    কতো রকমের যে ঘুম হয়।আবার চোর ,ডাকাত ,প্রেমিক প্রেমিকা
    এনাদের ঘুম একটু অন্য রকমের।
    গেরস্থদের দুপুর বেলার ভাত ঘুম অনেকটা এই রকম গৃহকর্তা গৃহকর্ত্রী মুখে এক খিলি পান গুজে বিছানায় এলিয়ে পড়েন।তারপর ভাত ঘুম ।ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ মুখ একটু ফোলা ফোলা লাগে ।বেশ লাগে দেখতে
    ,মানে ঐ বাড়ির কর্তা‌ গিন্নি এনাদের কথা বলছি আর কি।

    ছেলে ,বৌমা ,মেয়ে অফিসে টিফিন টাইমে চেয়ারে হেলান দিয়ে একটু রুটি ঘুম দিয়ে দেন।মানে দুটো কি তিনটে রুটির খাওয়ার জন্য ঘুম বরাদ্দ দশ মিনিট । অবশ্য অফিসের বসদের দিনে ঘুমানো বারণ আছে,টানটান উত্তেজনা ওনাদের মধ্যে কাজ করে কি দিন কি রাত,
    এরপর এক বিশেষ মুহুর্ত আসে বড়লোক বা মধ্য বিত্ত চাকুরিজীবি দের ছুটির দিনে ,মর্টন বা চিকেন বিরিয়ানি খেয়ে বিরিয়ানি ঘুম চলবে টানা চার ঘণ্টা ।
    চিন্তা ভাবনার কোন বালাই থাকে না এই ঘুমে ।ফলে স্বপ্নরাও আসে না ।লালপরী নীলপরীরা রাতের ঘুমে আসে ।দিন ওদের পছন্দ না।
    যে ছেলেটা বা মেয়েটা
    সারাদিন কাজের পর রাতের বেলায় খাতা পেন নিয়ে লিখতে বসে ছাদে বা বেড়ার ছাওনির এক চিলতে ঘরে মনে মনে কবি হওয়ার স্বপ্ন দেখে ,
    ঘুম ঘুম চাঁদ তাদের কাছে খুব রোমান্টিক ।পেটে ক্ষুধার জ্বালা থাকে পরিবারের ভার থাকে সারা শরীর জুড়ে ।কিন্তু চোখে ঘুম নেই ।চাঁদকে নিয়ে কবিতা লিখে যায় ‌একটার পর একটা,যদি প্রকাশকের মনে ধরে,কবিতা যদি ছেপে বের হয়,তাহলে মা বাবা আর বলতে পারবে না ছাই কপালে কিছু ‌হবে না,ও সব লেখালেখি বাদ দে,

    একমাত্র চোর ডাকাতরা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়।
    আমাদের ঘুম যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে হয় তার জন্য ওরা ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে।চোর ডাকাত বলে কি ওরা মানুষ না ? ওদের প্রার্থনা কি ঠাকুর শুনবে না?নিশ্চই শোনে ঠাকুর ।নিজেদের চোখের ঘুম নষ্ট করে ওরা মা বাবা পরিবারের পেট ভরায় ।তাই ওদের কাছে ঘুম ঘুম চাঁদ বাতুলতা মাত্র ।

    “ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকমিকি তারা ঐ
    মাধবীরাত আসে নি কো বুঝি আর জীবনে আমার” বিখ্যাত গান
    প্রেমিক প্রেমিকার মনে ঝড় তোলে।ঘুমের দেশে ওরা পৌছে তো যায় ,কিন্তু ঘুম কতটা গাঢ় হয় সেটা ওরা নিজেরাও জানে না।ঘুমের মধ্যে ওরা ঘর সংসার করে পরিপাটি করে । প্রেমিকার খোঁপায় বেলফুলের মালা জড়িয়ে প্রেমিক বলে ,”সারাজীবন তোমার হয়ে থাকবো।সত্যি ,সত্যি, সত্যি তিন সত্যি “।ঐ চাঁদকে সাক্ষী রেখেই চলে ওদের কতো না অঙ্গীকার ।

    বৃদ্ধাশ্রমে বসে মা বাবারা চাঁদের দিকে তাকিয়ে হয়তো ভাবে,যে চাঁদকে জন্ম দিলাম, মানুষ করলাম সেই চাঁদই ঘুম কেড়ে নিল।রাত বাড়তে থাকে চাঁদেরও ঝিম আসে।ঘুম ঘুম চাঁদ প্রহর গোনে অপেক্ষা কিছু মিনিটের ।তারপর বিশ্রাম ।
    অবাঞ্ছিত মা বাবাদের বিশ্রাম নিতে নেই ,ভাবতেই হবে তাদের সন্তানের কথা।তাই নিজেদের অজান্তে ঘুম পাড়ানির গান গেয়ে ওঠে মায়েরা
    “ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি আমাদের আসল বাড়িতে এসো,
    আসার সময় আমার চাঁদের চোখের
    ঘুমটি নিয়ে এসো ”

    “খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এল দেশে,
    মা বাবা তোদের জেগে আজও
    তোদের প্রাণের পরশ পেতে”

    তারপর আরও‌ রাত বাড়ে আস্তে আস্তে ঘুম ঘুম চাঁদ মেঘের আড়ালে চলে যায়,
    রাতের শেষে ঘুমের দেশে বিশ্রাম
    নেয় চাঁদ,তারপর ভোর হয় শুরু হয় আমাদের জীবন সংগ্রাম,,দিনের শেষে ঘুমের দেশে

<p>You cannot copy content of this page</p>