• অণু গল্প

    কমলার স্মৃতিচারণ

    কমলার স্মৃতিচারণ

    মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

     

     

    কুন্তল ছিল কমলার একমাত্র সন্তান,
    শৈশব থেকেই বাপ হারা ছেলেকে নিয়ে লড়াইটা ছিল কমলার!
    দিনের পর দিন বাবুদের বাড়ি ঘর মুছে,কাপড় কেচে,বাসন মেজে চলতো কমলার সংসার।
    পড়াশোনার প্রতি ভারি মনযোগ ছিল কুন্তলের।

    কমলা তা ভালোই বুঝতে পারতো—-
    তাইতো রাতের পর রাত জেগে,ঠোঙা বানিয়ে দিয়ে আসত কাক ডাকা ভোরে।
    কমলার জীবনের কষ্টের কাহিনীর অন্তর্গত ছিল কুন্তল, সবই ছিল তাকেই ঘিরে—–
    অভাবের সংসারে মা-ছেলের একটাই স্বপ্ন,
    একদিন এ আঁধার কাটিয়ে রবির কিরণ এসে পড়বে জানালার এপারে,
    তাদের স্পর্শ করে যাবে সোনালি রোদের ছটাক,,,,

    বহু বছর কেটে গেছে——
    আজ কমলা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে মা-ছেলের পুরোনো স্মৃতিচারণ করছে।

    আজ আর সংসারে অভাব নেই,
    কুন্তল আজ সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত,সে যে আজ বড়ো অফিসে চাকরি করে।
    আজ কুন্তল বিবাহিত,নিজেই পছন্দ করে বিয়ে করেছে।
    তবে এতটুকু শান্তি নেই,ওদের বিবাহিত জীবনে—–
    যত যুদ্ধ যেন বৃদ্ধা কমলাকে ঘিরে……
    পাশের ঘরে প্রতিনিয়ত ছেলে-বউ এর অশান্তি যে চরমে…
    শুনতে শুনতে কমলা দগ্ধে মরে!
    যুদ্ধ যে চলে পাশের ঘরে!
    আর যে সহ্য হয়না—-

    কি কাজে লাগে উনি আমার?
    কতোবার বলেছি,এসব দায়িত্ব আমি ঘাড়ে নিতে পারবনা…পারবনা…পারবনা…
    শুধু বসে বসে অন্নের ধ্বংস ছাড়া আর কি আছে ?

    রুনা তোমাকে কত্তো বার বলেছি! মা কে ওভাবে বলবেনা।
    তুমিতো জানো,মা কতো কষ্ট করে আমাকে বড়ো করেছে,
    মানুষ করেছে!

    সে তো সব্বাই করে কুন্তল,
    এটা তো ওনাদের দায়িত্ব…
    আলটিমেটলি,ওনারা তোমাকে জন্ম দিয়েছে।

    সেটাই তো বোঝাতে চাইছি রুনা….
    উনি আমাকে জন্ম দিয়েছে,উনি যে আমার মা!
    আমি ছাড়া কে দেখবে মাকে ?
    এটাও কি আমার দায়িত্ব না!!

    প্লিজ কুন্তল,
    এক্সকিউজ দিওনা…
    কালই আমি রনিতকে নিয়ে বাপির কাছে যাচ্ছি!

    রুনা…

    থাক,,,অনেক হয়েছে,
    তুমি থাকো তোমার বৃদ্ধা মা কে নিয়ে—–

    পাশের ঘর থেকে কমলা ছুটে এসে!
    বাবু!
    শুনেছি বৃদ্ধাশ্রমে নাকি আমার মতন অনেকে থাকেন,
    দেখনা বাবা!
    আমাকে একবার ওখানে রেখে আয় না!
    এমনিতেও সারাটাদিন একঘরে থাকতে আমারও ভালো লাগে না,
    শুনেছি ওখানে সবাই খুব ভালো থাকে!
    তুই নাহলে মাঝেমধ্যে গিয়ে একটু দেখে আসিস!!!

    মা তুমি শেষে বৃদ্ধাশ্রমে…

    তাতে কি হয়েছে বাবা!
    আমিতো তোমার হৃদয় থেকে দূরে যাচ্ছি না!
    এতো বছর তো আমরা একসাথেই ছিলাম,
    আজ একটু নিজের সংসারে মন দাও…..
    তুমি না বাবা হয়েছ,,,,
    মনের মতন করে সন্তান মানুষ করো,
    আমি যে আজ আছি ,কাল নেই…..
    ওদেরকে সাথে নিয়েই যে তোমাকে বাকিটা পথ চলতে হবে বাবা……!

    তবে তোমার বাকিটা পথ বুঝি ওই বৃদ্ধা আ….

    আমি জানি তুমি আমার লক্ষ্মী ছেলে!
    এবার আমার একটা ব্যবস্থা করো বাবা!
    যত তাড়াতাড়ি পারো…

    মা…..

    হ্যাঁ বাবা আমি সব সময়ই তোমার সাথে থাকবো!

    নীরবে চোখের জল মুছে ঘরে গেল কমলা!
    কুন্তলের বুকের হাহাকার বুঝি শুনতে পায়নি রুনা!

    সত্যিই এবার বুঝি বিদায় দেবার পালা—-
    এবার বুঝি সূর্য ডোবার পালা—-

  • কবিতা

    ভগ্ন দেওয়াল

    ভগ্ন দেওয়াল

    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

     

     

    ভগ্ন দেওয়ালে,মগ্ন যে প্রেম
    ছিল শৈশবে আঁকা—-
    প্লাস্টার হয়ে খসে পড়েছে জানি,
    বৃথাই স্বপ্ন দেখা!
    জীর্ণ দেওয়ালে,বিবর্ন প্রেম!
    লুকোনো ইটের ফাঁকে,
    খসে যাওয়া স্মৃতি,রঙচটা নামে!
    শৈশব পিছু ডাকে!!

    দেওয়াল জুড়ে প্রেম কাহিনী,
    ইটের গাঁথুনি বুকে—–
    হৃৎপিণ্ড যেথায় ছিল,
    শ্যাওলারা আছে সুখে!
    নোনা ধরেছে দেওয়ালখানি,
    কবে কোন সে ভুলে!!
    শৈশব বুঝি ফিরে পাওয়া যেত,
    দেওয়ালটা কে ছুঁলে!!

  • কবিতা

    বৃষ্টি

    বৃষ্টি

    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

     

     

    বৃষ্টি মানে বুক ধুকপুক, আচমকা বিদ্যুৎ
    বৃষ্টি মানে তোমায় নিয়ে, পালিয়ে এক ছুট!!
    বৃষ্টি মানে আমি ভিজে, তুমিও ভেজো সাথে
    বৃষ্টি মানে আমার মাথা, রাখবো তোমার কাঁধে!!

     

    বৃষ্টি মানে তোমায় ছোঁয়া, নানান অজুহাতে
    বৃষ্টি মানে তোমায় ভাবা, গহন গভীর রাতে!!
    বৃষ্টি মানে ঠোঁটে ঠোঁট চুপটি করে রেখে
    বৃষ্টি মানে গোলাপি চুম্বন, দেবো তোমায় এঁকে।

     

    বৃষ্টি মানে তোমায় নিয়ে, প্রেমের কবিতা লেখা
    বৃষ্টি মানে স্কুল পালিয়ে, তোমায় একান্তে দেখা
    বৃষ্টি মানে মনে হয় খানিকটা পাগলামি,
    বৃষ্টি মানে জড়িয়ে ধরে একটু দুষ্টুমি!!

  • কবিতা

    ঐক্যতান

    ঐক্যতান

    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

    ধর্ম যদি মানবতা হয়,মানব তবে কি?
    মানব কি মনুষ্য কুল নয় ?
    জাতি তবে কি?
    জাতি ধর্ম নির্বিশেষে উচ্চস্থানে মানুষ,
    যারা ধর্মের নামে ফয়দা লোটে তারা কি সব বেহুঁশ ?
    যারা বুক থাপিয়ে বলে ওঠে আমরা সবাই সমান,
    তারাই আবার ভাগ করে দেয় কে হিন্দু ,কে মুসলমান!!

    জাতি , ধর্ম , বর্ণ থাক না ওসব প্রশ্ন—–
    শিশু মন নাইবা জানুক কে রত্ন আর কে ঘৃণ্য!
    শিশু মনে থাক না আঁকা বন্ধুত্বের সরল রেখা,
    ওরা জানুক রক্ত লাল, দুর্গা মায়ের আলতা পা।

    ভিন্ন নয়কো রথের রশি—
    বারণ করেনি রবি, শশী—
    জাতি ভেদাভেদ বিসর্জনে,
    টান দিই রশি সবে মিলে,
    গড় গড়িয়ে চলবে রথ
    পুষ্প বৃষ্টি ভেজাবে পথ
    শিশু মন যে উঠবে হেসে
    ঐক্যতানের নব ইতিহাসে—-

    রচিত হোক শিশুর মর্ম ।
    চুলোয় যাক হিংস্র ধর্ম ।।

  • কবিতা

    আরও একবার ভিজবো

    আরও একবার ভিজবো

    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

    প্রেমিকের হৃদয় চেয়ে থাকে আজও তোমার প্রতীক্ষায়!
    নূপুর পা’য়ে,এলোকেশী চুলে এসো বিকেলটি বেলায়!!
    আরও একবার ভিজবো মোরা রিমঝিম এ ধারায়!
    দুটি হৃদয় আবার ফিরুক স্রোতের মোহনায়!!
    আবার নাহয় ভিজবো মোরা দহনেরই জ্বালায়।

    তোমার চলার ছন্দে আজও মন কেঁপে কেঁপে ওঠে,
    বিদ্যুতের ঝলকানি যেন তড়িৎ গতিতে ছোটে!
    আরও একবার ঢাকবে মাথা আমার খোলা শার্টে!
    আঙুল স্পর্শ করে যাবে তোমার গোলাপি ঠোঁটে!!
    আবার নাহয় ভিজবো মোরা পুরোনো স্মৃতির মাঠে।

    বৃষ্টি তুমি অঝোর ধারায় আমার আঙিনায় ফেরো,
    বৃষ্টি তুমি শ্রাবণীকে ফিরিয়ে আনতে পারো ?
    সাক্ষী ছিলে তুমিও জানি আমার ভালোবাসায়!
    নৃত্য আমি সাজিয়েছি বাসর বুকের কিনারায়,
    আবার নাহয় ভিজবো মোরা সোহাগ ভালোবাসায়।

    কাজল কালো ডাগর চোখে আরও একবার ভাসবো
    বৃষ্টি তোমায় হাত বাড়িয়ে আরও একবার মাখবো!
    ব্যাকুল মনের বায়না তবে আরও একবার রাখো,
    শ্রাবণীকে সত্যি সত্যি আরও একবার তুমি ডাকো!!
    আরও একবার ভিজবো নাহয় আমরা দুজন মিলে।
    প্রেম সাগরে মিলিয়ে যাব বৃষ্টি তুমি ছুঁলে——!!

  • গল্প

    এক বাবার প্রতীক্ষা

    এক বাবার প্রতীক্ষা

    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

    অনিমেষ বাবু ফোনটা হাতে তুলতেই——
    তুমি আবার ফোন করবে রিঙ্কুকে,,,?
    এইতো সকালবেলায় দেখলাম কতক্ষন বাপ-মেয়েতে গল্প করলে, সবেতো ছয়মাস হয়েছে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে তাতেই যদি এতো অস্থিরতা তবে বাকি দিন গুলো কাটাবে কি করে,,?

    তুমি এতো কথা বলো কেনো,,,? আমি কি তোমার রিঙ্কুকে ফোন করছি নাকি! যখনই ফোন ধরবো তোমার সেই একই কথা——

    অনিমেষ বাবু তাড়াতাড়ি করে তার মোবাইল স্ক্রিনে ওঠা মেয়ের নাম্বারটা ডিলিট করে দিলো।

    দ্যাখো তোমায় একটা কথা বলি,ত্রিশ বছর হতে যাচ্ছে আমি তোমার সঙ্গে সংসার করছি এটুকু যদি না বুঝি তবে তোমাকে আর চিনলাম কি! আমাকে ওসব বোঝাতে এসোনা।

    অনিমেষ বাবু রাগ করে টেবিল থেকে উঠে গেল।

    মিনিট দশেক পর বেলা বেডরুমে গিয়ে টেবিলের ওপর ফেলে আসা ফোনটা দিয়ে বললেন, নাও কল করে মেয়ের সাথে কথা বলে নাও।তোমায় বকাঝকা করেছি জানলে শেষে রিঙ্কুও আমার ওপর রাগ করবে।
    অনিমেষ বাবু ফোনটা নিয়ে বিছানার ওপারেই রেখে দিলেন—-

    এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে চলেছে,পাখিদের বাসায় ফেরার তাগিদে নীল গগনের বুকে ডানা মেলে ভেসে বেড়ানো এদিক থেকে ওদিকে,পশ্চিমে সূর্যাস্ত,আষাঢ়ের আকাশে রক্তিম আভা,যারা মাঠে ফুটবল খেলছিল তারাও খেলা গুটিয়ে নিয়েছে ততক্ষণে।দক্ষিণের খোলা জানালা দিয়ে যেন অনিমেষ বাবু সবকিছুই এতক্ষণে লক্ষ্য করছিলেন।বুঝলেন এ জগৎ সংসারে সবকিছুই নিয়মে বাঁধা।
    এমন সময় বেলা অনিমেষ বাবুর হাতটা ধরে পাশে বসতেই অনিমেষ বাবু বলে উঠলেন–তুমি ঠিকই বলেছো বেলা,মেয়ে তো সবে মাত্র শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে।ওর কতো দায়িত্ব,কর্তব্য,কতো সম্পর্কের বাঁধন। আমিই বারে বারে ভুল করি।আসলে আজ বিকেলেই তো মামনির আসার কথা ছিল। কিন্তু সকালেই বললো রজত অফিস ছুটি পায়নি আর এমনিতেও গতকাল রাতে ওর ননদ রিয়া এসেছে তাই আসতে পারবে না।জানো তো ওর প্রিয় ইলিশ মাছ,পনির সবই নিয়ে এসে ছিলাম। তুমিও তাড়াতাড়ি করে ওর প্রিয় খাবার গুলো রান্না করলে কিন্তু কি জানো কোনো খাবার আমার গলা দিয়ে নামতো না তাই খাইনি।

    আচ্ছা এইরকম করলে কি করে হবে বলতো! রিঙ্কু আমাদের একমাত্র সন্তান। ছোট্ট থেকেই ওর সব আবদার তোমাকে ঘিরেই। তুমি ভালো থাকলে মেয়েটাও ভালো থাকে। সব জেনে বুঝে তুমি এমন করলে ও কি করে মন দিয়ে ওর ঘর-সংসার করবে বলো। কোথায় তুমি ওকে সাহায্য করবে তা না করে….

    আসলে এটাই হয়তো আমার বেশি দূর্বলতা যে মামনি আমার একমাত্র সন্তান—
    এভাবে বলছো কেনো,,,?

    বেলা একবার তুমি ফোন করে বলোনা দেখোনা কাল আসে কিনা তোমার মেয়ে!!
    বলবে বেলা,,,?
    এতো ঘনঘন কি করে আসতে বলি বলো,ওতো গত মাসেই এসে ঘুরে গেল। সবে বিয়ে হয়েছে এতো ঘনঘন বাপের বাড়ি আসাটাও যে ঠিক দেখায় না। তারপর শাশুড়ি, শ্বশুর,ননদ,ওর বড়ো জা সবাই কি ভাববে বলতো!!

    হ্যাঁ তাইতো,আমার মামনির তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে।এটাতো ওর বাপের বাড়ি। আমার সেই ছোট্ট মেয়েটা যে কখন এতো বড়ো হয়ে গেলো…
    মনে হয় যেন এই দুদিন আগেই তোমার সেই পূজা দেবার লাল পেরে শাড়িটা পরে ,গামছা মাথায় পেঁচিয়ে চুল বানিয়ে বলতো ”বাবা দ্যাখো তো আমায় নতুন বউ লাগছে কিনা,,,?”
    অফিস থেকে ফিরলেই আমার সাইকেলের আওয়াজ পেয়ে হই হই করে ছুটে এসে ছোটো ছোটো হাতে গেট ধরে নাড়াতে নাড়াতে বলতো তাড়াতাড়ি দরজা খোলো বাবা এসেছে,কোনো খেলনা ভেঙে গেলেই–”মা রাখো তো বাবা ঠিক করে দেবে” হাত দুটোকে ওপরে তুলে দিয়ে বলতো”আমার বাবা সুপারম্যান” , খিলখিলিয়ে সেকি হাসি,মনে আছে বেলা!
    মামনি একদম ওষুধ খেতে চাইতো না,একবার সে কি জ্বর হলো ওর কিছুতেই কমছিলনা আর জোর করে তুমি, আমি আর মা মিলে চেপে ধরে ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে ওর ঠোঁট কেটে রক্ত বেরিয়ে গিয়েছিল তাই দেখে ওকে বুকে নিয়ে আমি খুব কেঁদে ছিলাম,সেদিন নিজের উপর যা রাগ হয়েছিল তাতো তুমি জানো,আমার ছুটির দিনে ইচ্ছে করে ওকে যখনই বলতাম আমি অফিস যাই ও শুনে কেমন করতো বলো,রাস্তায় বেড়ালেই বেলুন নেওয়ার জন্য ছিল ওর কতো বায়না,তোমার আমার ঝগড়া হলে বার বার চিৎকার করে বলতো “তোমরা ঝগড়া-ঝগড়ি করবে না আমার কষ্ট হচ্ছে”,পড়তে বসালে উল্টে আমাকেই পড়িয়ে দিতো,তুমি বোকলেই আমাকে কেমন নালিশ করতো,তুমি যখনই ঘরে আবৃত্তি করতে কেমন করে আমাকে থামিয়ে দিতো বলো! আর যখন গল্প টাইপ করতে আমাকে বলতো মাকে একদম ডিস্টার্ব করবে না,ও কতো তাড়াতাড়ি সব বুঝে যেতো বলো!

    মন খারাপ করোনা। এটাই সংসারের নিয়ম। তুমিতো শিক্ষা দিয়ে ছিলে,ভালো করে সংসার করতে।শ্বশুর বাড়ি গিয়ে কোনো ত্রুটি যেন কেউ দেখাতে না পারে—-এই ভাবেই তো মেয়েকে মানুষ করে ছিলে। তবে আজ ওকে তোমার কথা গুলো রাখতে দেবে না,,,? আর এমনিতেও ছয় দিন পর বাড়িতে রথের উৎসব। তখন তো আসবেই,যত পারো মেয়েকে সামনে বসিয়ে আদর করে নিও।এখন এই ছয়টা দিন ধৈর্য ধরতো বাপু!!
    হ্যাঁ তা ঠিকই বলেছো তুমি—

    অনিমেষ বাবু চোখ থেকে চশমা খুলে বিছানায় রেখে ওয়াশ রুমে গিয়ে ট্যাপকলটা ছেড়ে দিয়ে অঝোরে কেঁদে নিলেন কিছুক্ষণ।পাছে যাতে কেউ কান্নার আওয়াজ না পায়।গুনগুন করে ভারি গলায় বলতে থাকলেন—
    বেলা তুমি আমায় ছয় দিন অপেক্ষা করতে বলছো আমি যে ছয় মিনিটও মামনিকে ছেড়ে থাকতে পারছিনা।জীবনের বাকি দিনগুলো ওকে ছেড়ে থাকার কথা যে ভাবতেই পারিনা।কেনো যে এমনটা হয়,এতো বড় ত্যাগ কেনো সব মেয়ের বাবাকেই করতে হয়,,,?
    তুমি বুঝবে না বেলা,,,,! তুমি বুঝবে না,,,!

  • কবিতা

    আমার পথেই চলো

    আমার পথেই চলো
    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

     

    চারদেওয়ালের বন্দী ঘরে উথালপাতাল ঝড়,
    নারী! কি তুই সারাজীবন রয়েই যাবি পর ?
    বাপের আঙিনা ছেড়ে নারী শ্বশুরবাড়ি আসে,
    নতুন করে বাবা-মা থাকবে বুঝি পাশে!!
    অবহেলায় ছিন্ন হয় স্বপ্ন যাহা দেখে!
    মায়ের মতন ভালোবাসায় আর কে বেঁধে রাখে।
    ওরে নারী অশ্রুবারি আঁচল দিয়ে মুছিস!
    সবাইকে লুকিয়ে কি সুখ তুই খুঁজিস ?
    নারীর মন বুঝিসনি তো,বুঝবে নাকো কেউ!!
    চারদেওয়ালের বন্দি ঘরে উথালপাতাল ঢেউ।।

    স্বামী যদি থাকে পাশে মুখটি টিপে হাসে,
    তুকতাক আর বশ করেছে বলবে অনায়েসে!!
    ছেলে আমার কুলাঙ্গার বউকে মাথায় রাখে!
    জামাই আমার বড্ড ভালো শির নামিয়ে থাকে!!
    আমার মেয়ে ”লক্ষ্মী” ভারি গুনেও সে শ্রেষ্ঠা!
    ছেলের বুকে দাপিয়ে বেরায় বউ যে আমার ”নষ্টা”!!
    বউয়ের আমার খরচ বেজায় মুখে মাখে ”ব্যসন”!
    মেয়ে আমার ”প্রডাক্টস” মাখে অল্পস্বল্প রকম!!
    ছিঃ! ছিঃ!
    বউ আমার ”জ্যাগিন্স” পরে ফিটিংফাটিং ড্রেস!
    মেয়ে আমার হাঁটুর ওপর ”হটপ্যান্ট” পরে বেশ!!
    মেয়ে আমার ”আদর” করে বরকে ডাকে মনা!
    বউ আবার ”ন্যাকামি মেরে” ছেলেকে ডাকে সোনা!!

    নারীরে তোর এতো রূপে ছন্দ ভেসে আসে,
    যখন নারী প্রতিবাদী,হিংস্র অনায়াসে!!
    ব্যথিত হৃদয় কান্না ভুলে,
    গর্জে ওঠ তুই ”কলম” তুলে!
    বুকের রক্ত কালি করে,
    লিখে যা তুই বেদনা ভুলে!!
    ”মলম”হয়ে দাঁড়াবে সেদিন,
    সেই কালিরই অক্ষর!
    আঙুল তুলে বলবে না কেউ—
    ”নারী তুই নিরক্ষর”!!

    প্রাপ্য সম্মান সেদিন পাবি,যেদিন হবি ”কবি”!
    আলোর ছটাক দেবে এসে নতুন করে রবি!!
    উদিত হবে বুকের ভেতর কালিমা মুছে ফেলে!
    দু-নয়নে স্বপ্ন মাখো,আশার প্রদীপ জ্বেলে!!
    চারদেওয়ালের বন্দী ঘরের দরজা এবার ভাঙ্গো!
    আমার পথেই চলো নারী,
    ”আমার পথেই চলো”

  • কবিতা

    কৃষ্ণচূড়া

    কৃষ্ণচূড়া
    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

     

     

    তোমায় দেখে বহু বার বলবো ভেবেছি,
    কৃষ্ণচূড়া আমি তোমার প্রেমে পড়েছি!
    পথের বাঁকে চলতে রাঙা ফুল কুড়িয়েছি,
    কৃষ্ণচূড়া আমি তোমার প্রেমে পড়েছি!!

     

    বৃষ্টি এলে ছাদে উঠে,তোমায় ভিজতে দেখেছি,
    বাতাস থেকে ওই সুবাস নিয়ে,নিজেও ভিজেছি!
    কত বার ভেবেছি বলবো,তবু বাক হারিয়েছি,
    কৃষ্ণচূড়া সত্যিই তোমার প্রেমে পড়েছি!!

     

    রাঙা হাসি রাশি রাশি ফুলের মালা গেঁথেছি,
    সেই মালা-ই স্বপ্নে তোমায় বদল করেছি!
    শুভদৃষ্টি বহু বার জানালায় এঁকেছি,
    কৃষ্ণচূড়া দিব্যি তোমার প্রেমে পড়েছি!!

     

    লাল পাপড়ি সিঁথি জুড়ে কপাল ছুঁয়েছি,
    সবুজ পাতা স্পর্শ করে স্পর্শ নিয়েছি!
    কাছে গিয়েও বলিনি তোমায়,ভারি লজ্জা পেয়েছি!
    কৃষ্ণচূড়া আমি যে তোমার প্রেমে পড়েছি!!!!

  • কবিতা

    ও মেয়ে

    ও মেয়ে
    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

     

     

    ও মেয়ে!
    তুই পরের ঘরকে আপন করলি,
    আপন ঘরকে পর!
    থুরি, আপন ঘর বলি কেনো
    সেতো বাপের ঘর।

     

    ও মেয়ে!
    তুই সিঁথি রাঙাস লাল সিঁদুরে,
    প্রতিদিন স্নানের পরে!
    স্বামীর হবে দীর্ঘায়ু,
    এমনটা মনে করে ?

     

    ও মেয়ে!
    তুই শাঁখা পরিস,মেহেন্দি পরিস
    হাত দুখানি তোর!
    মেহেন্দিতেও লেখা থাকে,
    স্বামীর নামের আদ্য-অক্ষর।

     

    ও মেয়ে!
    তোর গায়ে হলুদ,
    সেও স্বামীর নামে!
    গলা তোর, মঙ্গলসূত্র
    তার নামেতেই দোলে।

     

    তোর শ্বাস যে বিষের জ্বালা,
    তাইতো থাকে নথের পালা
    ”সধবার” আশীর্বাদ সেও স্বামীর নামে!
    বন্দনা যখনই করিস গুরুজনের চরনে।

    দশমীর সিঁদুর খেলা, নানান রকম ব্রত
    সবই থাকে স্বামীর নামে
    তুই যে কেবল ছুতো।

     

    গর্ভ তোর, রক্ত তোর, দুধ তোর জানি
    সন্তান যে স্বামীর নামের সবাই তাহা মানি
    সন্তান যদি বেপরোয়া হয় দোষটি তোর ঘাড়ে
    বাবার রক্ত বইছে যে তাই সন্তান প্রতিষ্ঠিত হলো রে।

    বাড়ির গেটে নেম প্লেটেও নেইকো তোর নাম,
    তোর পদবী,তোর গোত্রের কে আর দিলো দাম!
    ও মেয়ে তোর পরিচয় জানতে ইচ্ছে করে
    সারা জীবন বেঁচেই গেলি, মরলি নিজের তরে।

    তুই যে সব করেই গেলি
    স্বামীর মঙ্গল কামনায়,
    একবারও কি প্রশ্ন করেছিস
    নিজেকে আয়নায় ?

    সে তোর জন্য কি করেছে এতো দিনের পরে ?
    একটাও কি ব্রত ছিল তোর নামটি উজার করে ?
    কোন চিহ্ন বহন করেছে তোর মঙ্গল কামনায় ?
    প্রশ্ন হানিস মনের ঘরে তুই কি নিরুপায় ?

     

    এতো কিছুর পরেও যখন আঙুল ওঠে ঘরে
    পরকে তুই আপন ভেবে নিয়েছিস মা-বাবা করে!
    তারপরেতেও পর রইলি, হইলি নারে আপন
    স্কুল কলেজের দিনগুলো যে সংসারেতে স্বপণ।

     

    ও মেয়ে!
    আর ফেলিস নারে লুকিয়ে চোখের জল,
    সর্বশেষে উপাধি পাবি—–
    ”ঘরের শত্রু বিভীষণ”

    (সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নহে)

  • গল্প

    নিয়তি

    নিয়তি
    -মৌসুমী সাহা মহালানাবীশ

     

     

    খোকন!
    বের হচ্ছিস বাবা?
    একটু সময় দিতে পারবি ? দুটো কথা আছে—-
    উফফ মা—
    সেই পেছনে ডাকলে,তাড়াতাড়ি বলো দেরি হচ্ছে—
    একটু বিষ এনে দিতে পারবি বাবা!
    ভালো করে ঘুমোতাম—–
    তোর বাবা থাকাকালীন হাসি মুখে বলতাম, আমার খোকন সোনার টুকরো, চাঁদটাও আমাকে এনে দিতে পারে।আজ কি পারবি না বাবা!
    একটু বিষ এনে দিতে_____!!

    উফফ তোমার বকবকানি গুলো এবার থামাও। আবার শুরু করলে। দেখো মা তোমার ভাঙ্গা রেকর্ড আর বাজিও না। অনিতা বলে শুধু এখনও তোমাকে দুটো খেতে দিচ্ছে।সারাটা দিন কি করো ?
    হরির মালা না জপে ওর হাতে হাতে তো একটু কাজ করতে পারো। তাহলে তো আর এতো অশান্তি হয় না।আর ওতো ঠিকই বলেছে,বৃদ্ধাশ্রম কি খারাপ জায়গা নাকি——-
    নাকি তুমি একাই ওখানে থাকবে!
    তোমার মতো কতো মানুষ ওখানে থাকে।তোমার ওখানে মন বসবে,অনেক বান্ধবী জুটে যাবে তোমার।আর এমনিতেও তো এতো বড়ো ঘর তোমার এখন লাগে না,যখন বাবা ছিল সে আলাদা কথা কিন্তু এখন——
    নারে খোকন,ঘরের লোভী নই আমি!
    যখন বিয়ে হয়েছিল এই ঘরে বসে তোর বাবা বলেছিল–হাজার কষ্ট এলেও আমরা হাসি মুখে লড়াই করবো কিন্তু সুলেখা তবু এই ঘর ছেড়ে কোনোদিনও যেওনা,জানি জীবনের নিয়মে একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে সেটা পরের কথা,,,,,,,,!
    থাক মা তোমার ওই প্যানপ্যানানি কথা অনেক বার শুনেছি। ছাড়ো! থাকো বাবার কথা নিয়ে আমি চললাম।
    খোকন দাঁড়া—–
    আমি ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছি তুই কখন নিয়ে যাবি বাবা ?
    কোথায় ?
    কেন বাবা বৃদ্ধাশ্রমে——-
    ও শেষমেশ তুমি রাজি হলে!
    ছেলের কথায় সুলেখা আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি, সবকিছু যেন ঝাপসা হতে লাগছে।সত্যি খোকন আজ মানুষ হয়েছে।অনেক বড়ো হয়েছে।কাঁদতে কাঁদতে সুলেখা উত্তর দিলো———-
    সন্তানের জন্য এতো বছর যখন নিজের স্বপ্ন, অস্তিত্ব সব ত্যাগ করতে পেরেছি, বাবা তখন এটাও পারব।
    তাহলে চলো, অফিসে যাবার পথেই কাজটা সেরে নিই।এমনিতেই ওনাদের সাথে আমার কালই সব কথা হয়ে গিয়েছিল, খুব একটা অসুবিধা হবে না তোমার।জাস্ট কিছু নিয়ম আছে আরকি,,,,,,,,ওকে, এগুলো আমিই দেখে নেবো।
    এখনি যাবি বাবা———
    হ্যাঁ কেনো——
    দাঁড়া হাওয়াই চটির ফিতেটা বড্ড পুরোনো বার বার খুলে যায়,একটু সুতো দিয়ে বেঁধে নিই।
    যা করার তাড়াতাড়ি করো।
    পাশের ঘর থেকে বৌমাকে একবার ডাকবি বাবা চলেই তো যাচ্ছি!!
    একবার মা লক্ষ্মীর মুখটা শেষ বারের মতো দেখে যাই,,,,,,,,,,,,,,,
    অনিতা একবার এসোনা প্লিজ—-
    কিছুক্ষণ পরে অনিতা——
    কি হয়েছে ডাকছো কেনো—–?
    তাড়াতাড়ি বলো,কথা বলছিলাম নিশা লাইনে আছে।
    বৌমা আসলে আমি ডেকেছি!
    আপনার আবার কি হলো——-?
    তেমন কিছু না মা।আমি চলে যাচ্ছি। খোকন আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে কাজে যাবে। তুমি খেয়ে নিও মা আর হ্যাঁ কাতলা মাছটা ভাজার সময় একটু তেল ছিটে ছিল হাতে ,তাই সামলাতে না পেরে মাছটা কড়া ভাজা হয়ে গেছে খোকাবাবুকে ওটা দিওনা। আমি ওর জন্য চাকা চাকা বেগুন ভেজে রেখেছি,যেমনটা ও ভালো খায়। ওকে ওটাই দিও। তুমি এবার যাও মা,খুব ভালো থেকো, সুখে শান্তিতে থেকো।

    একটা ব্যাগ হবে মা! নাহলে একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট দিতে পারো, আসলে আমার ব্যাগটা বড্ড পুরোনো তো মা, আর চেনটাও ছেঁড়া।
    দাঁড়ান দেখছি——–
    কিছুক্ষণের মধ্যে অনিতা একটা ব্যাগ নিয়ে এসে উপস্থিত।
    দাঁড়ান আপনার ব্যাগটা দিন দেখি। না বৌমা তেমন কিছু নেইকো।
    আপনার কি দিতে অসুবিধা আছে?
    না না মা,কিসের অসুবিধা!! নাও তুমি।
    অনিতা ব্যাগের ভেতর থেকে সব গোছানো জিনিসগুলো নামেতেই বলে উঠলো, কি এসব আজেবাজে জিনিস নিয়েছেন। আপনার ছেলের মান সম্মান নষ্ট করবেন নাকি?
    বাবার ছবি নাহয় ঠিক আছে,তবে আপনার নাতির ছবি নিতে গেলেন কেন? আর আমাকে কি একবারও জিজ্ঞেস করেছেন নেওয়ার আগে? এইসব বাটি, ঝিনুক,থালা, টাওয়েল।আপনি কি পাগল নাকি?
    না মা তুমি ভুল বুঝেছো। সুলেখা জলভরা চোখে ঝিনুক বাটিতে হাত বুলাতে বুলাতে কাঁপা স্বরে বলে উঠলো, আমার খোকনের ছোটো বেলার ঝিনুক বাটি মা।জানো! খোকন একদম খেতে চাইতো না, আমি আর আমার শাশুড়ি মা চেপে ধরে খাওয়াতাম।আর এই টাওয়েলে আজও আমার খোকনের গায়ের গন্ধ পাই, আ আ হা! সেই ছোট্ট খোকন আমার।
    জানো বৌমা! এই থালাতে আমার খোকন প্রথম কাঁপা কাঁপা হাতে ভাত খেয়েছিল। সেকি খাওয়ার ভঙ্গি, চারিদিকে ভাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেলেছিলো আর সামান্য ভাত ওই কচি হাতে মুখে তুলেছিলো। তাই দেখে আমি আর আমার শাশুড়ি মা খুব হেসে ছিলাম। তবে আজ কেনো আবার খুব হাসি পাচ্ছে জানি না! অনেক স্বপ্ন ছিল,মা বলতো তুই যেমনটা করে আমার যত্ন করিস তোর খোকনের বউও তোকে তেমন ,,,,,,,,,,,
    সবকিছুই নিয়তির লেখা খন্ডাবে কার সাধ্য!!!!
    সত্যিই বৌমা আজ মায়ের কথা গুলো বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে।
    সুলেখা অশ্রুভরা নয়নে বললে—–আসছি মা!
    তোমার সংসার পরিপূর্ণ থাকুক। খোকাবাবুকে দেখে রেখো। একটা কথা বলি মা,যখন বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর হাত ধরে এই বাড়িতে এলাম বুকটা যেমন ফেটেছিলো আজ ছেলের বাড়ি ছেড়ে,,,,,
    আর বলতে পারলোনা সুলেখা কথা গুলো যেন বুকের হাহাকারে চোখের প্লাবনতায় ভেসে গেল।
    চল খোকন,গাড়িতে উঠতেই পাশের ক্লাবে রক্ত দান শিবির হতে ভেসে আসছে—
    “আমার দিন ফুরালো ব্যাকুলও বাদলো সাঁঝে …আমার দিন ফুরালো…”
    কাঁদতে কাঁদতে খোকাবাবু দৌড়ে এসে,,,,ঠাম্মি কোথায় যাচ্ছো? আমাকে নেবেনা ?
    দালাও নুতুন জামা পলে আসি।
    না খোকাবাবু—–
    আজ তোমাকে নিতে পারবোনা সোনা।আমি অনেক বড়ো হয়েছিতো তাই একাই যেতে হবে।তুমি বড্ড ছোট খোকাবাবু। তুমি পড়াশোনা করে মস্ত বড়ো হও। মানুষের মতন মানুষ হও। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি তোমার যেন ওখানে কোনোদিনও না যেতে হয়। তুমি ভালো থেকো।
    দালাও ঠাম্মি  “আমি যখন বলো হবো,তখন আমাল মাও অনেক বলো হবে তখন আমিও আমাল মাকে ওখানে পাঠাবো”——-

You cannot copy content of this page