-
কবিতা- অব্যক্ত চুপকথা
অব্যক্ত চুপকথা
– অজয় চৌবেবলো কিভাবে কেমনে বোঝাবো কাকে?
কিছু এমনও অনুভব আর অনুভূতিও তো থাকে?
গভীর ঘুমের দেশে কিছু উদ্ভট স্বপ্নও থাকে,
যার স্মৃতি খুবই সাময়িক মগজ ধারণ করে রাখে।
বেশ কিছু জটিল রহস্যে এবং প্রশ্নচিহ্নও থাকে,
যার উত্তর ডেকে আনে শুধুই নির্বাক নীরবতাকে।
অজস্র তারাফুল চন্দ্র সূর্যকে মায়াবী মেঘ যেমনভাবে সাময়িক ঢেকে রাখে,
ঠিক তেমনই মনের আকাশ কোণে সাময়িক বেশ কিছু কপট রাগ আর অভিমানও জমাট হয়ে থাকে । -
কবিতা- কদাচিৎ আমিও তোমার মতোই
কদাচিৎ আমিও তোমার মতোই
-অজয় চৌবে
কদাচিৎ আমিও তোমার মতোই করেছি নিখোঁজের ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় স্মৃতিমুখের জোরদার গোপন তল্লাশী নিঃশর্ত,
কদাচিৎ আমিও তোমার মতোই রাগে অভিমানে একে অপরকে মুছে ফেলতে গিয়ে হয়েছি বারবার লজ্জাজনক ভাবে ব্যর্থ।
কদাচিৎ আমিও তোমার মতোই জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে বুঝেছি ঠুনকো সম্পর্কগুলোর বিচ্ছেদ কখনোই পায়ের নীচে মাটি আলগা করতে পারে না,
কদাচিৎ আমিও তোমার মতোই নির্বাক মনোভাবে বোঝাতে চেয়েছি যদি পারস্পরিক বোঝাপড়ার থাকে অটুট মেলবন্ধন তবে দূরত্বে কখনোই সম্পর্কের অদৃশ্য বাঁধন ছিঁড়ে যাবে না। -
কবিতা -অবুঝ অভিমানী
অবুঝ অভিমানী
– অজয় চৌবেবড্ড বেশী অবুঝ আর অভিমানী তুমি বোঝো না কেনো গুমোট সম্পর্কের শেষ পরিনামে থাকে বোবা কষ্ট আর চোখের জলের অদ্ভূত মেলবন্ধন,
কিছু কিছু বিরল মুহূর্তের অন্তিম লগ্নে সবকিছু জেনে বুঝেও হাসিমুখে মনের প্রিয় কে জানাতে হয় বিদায়ী অভিনন্দন।
মুখফুটে মুখোমুখি প্রকাশ করলেই বুঝি একেবারে সঠিক নিখুঁত ভালোবাসার বিজ্ঞপ্তি হয় প্রকাশিত?
বিদ্যমান থাকে দিনের সমস্ত তাঁরা রাতের অন্ধকার আকাশেও তবুও বেশ কিছু তাঁরা থাকে মেঘের চাদরে অবগুন্ঠিত। -
গল্প – প্রেম-অপ্রেম
প্রেম-অপ্রেম
– অজয় চৌবেকি হলো গোমড়া মুখ করে কি ভাবছো? অর্ক প্রশ্ন করলো ঝিমলীকে। ঝিমলী বললো-আচ্ছা সরকারী চাকুরী জুটলে ঠাঁটবাট আচার আচরণ কেন পাল্টে যায়?অর্ক বুঝতে পারলো গোমড়া মুখ করে থাকার আসল কারণ। তবুও জানতে চাইলো- কেন? কি হয়েছে? ঝিমলী বললো-সুবীর যখন থেকে পুলিশের চাকরীটা পেয়েছে তখন থেকেই আমার সাথে আগের মতো আর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছে না।সবসময় আমাকে না চেনার মতো ভান করছে। অর্ক মুচকি হেসে বললো -সম্ভবত পিছন দরজা দিয়ে চাকরীটা অর্জন করেছে।ঝিমলী বললো- কেন? অর্ক বললো- যদি নিজের যোগ্যতায় পরিশ্রম করে চাকরীটা অর্জন করতো তবে হয়তো তাঁর ঠাঁটবাট আচার আচরণের অদ্ভুত পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যেতো না। ঝিমলী বললো- সুবীর আর আমার সম্পর্কের বয়স প্রায় তিন বছর হয়ে গেলো। আমি যতোবার তাঁকে বলেছি- এবার আমাদের বিয়ে করা উচিৎ ততোবার বলেছে- না, আগে একটা সরকারী চাকরী অর্জন করি তারপর বিয়ে নিয়ে চিন্তাভাবনা করবো। অর্ক বললো- এবার কি করবে?সুবীর তো তোমাকে আর কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। ঝিমলী অর্কর হাতটা ধরে বললো- তোমাকে পাশে চাই। অর্ক বললো- আমি তো পাশেই আছি। বলো কি রকম সাহয্যে চাই তোমার? ঝিমলী বললো- আমি একবার সুবীরের বাড়ি যাবো। তোমাকেও আমার সাথে যেতে হবে। অর্ক বললো- যাবো। বলো কবে যাবে? ঝিমলী বললো- আজ তো মঙ্গলবার। সামনের রবিবার দিন চলো। অর্ক বললো- ঠিক আছে। তারপর রবিবার দিন ঝিমলী আর অর্ক সুবীরের বাড়ি পৌঁছে দেখলো- বাড়ির সদর দরজায় তালা ঝুলছে।অর্ক ঝাঁ চকচকে দোতলা বাড়ীটার পানে চেয়ে ঝিমলীকে বললো- সুবীরের বাবা কি করেন? ঝিমলী বললো- বাবা রেলের টিকিট পরীক্ষক আর মা কলেজের ইতিহাস বিষয়ের অধ্যাপিকা। অর্কর মুখে মুচকি হাসি। ঝিমলী বললো- হাসছো কেন? অর্ক বললো- এমনি। সুবীর নিশ্চয় প্রায়ই তাঁদের রাজকীয় জীবনযাপনের গল্প তোমার সাথে করতো? ঝিমলী বললো- হ্যাঁ।
– সুবীরের সাথে তোমার প্রথম পরিচয়টা হলো কিভাবে? ঝিমলী বললো- ফেসবুক থেকে। আমাদের তিনবছরের সম্পর্কের মধ্যে প্রথম একবছর একে অপরের সাথে মুখোমুখি দেখা হয়নি। তারপর বছর দু’য়েক আগে আমরা দুর্গাপূজোর বিজয়া দশমীর দিন প্রথম দেখা করি। তারপর মাঝে মাঝে প্রায়ই আমরা দেখা করতাম। অর্ক বললো- জানি। সম্ভবত তোমরা দু’বার দীঘা থেকেও ঘুরে এসেছো? ঝিমলী বললো- হ্যাঁ।
অর্ক বললো- আচ্ছা! আমার সাথে তোমার প্রথম পরিচয়টা মনে আছে?
ঝিমলী বললো- হুমম মনে আছে। কলেজে প্রথম বছর নবীনবরণ অনুষ্টানের দিন। অর্ক বললো- হুমম। ঝিমলী আরেকবার সুবীরের মোবাইলে রিং করার চেস্টা করলো কিন্তু ব্যস্ততা ছাড়া আর কোনো শব্দ শুনতে পাওয়া গেলো না। অর্ক বললো- ফালতু চেষ্টা করছো। সুবীর তোমার নম্বরটা ব্লক করে দিয়েছে। দাও আমি একবার চেষ্টা করে দেখি আমার মোবাইল থেকে। ঝিমলী অর্ককে সুবীরের নম্বরটা দিয়ে বললো- দাও আমাকে তোমার মোবাইলটা দাও। ঝিমলী অর্কর মোবাইল থেকে সুবীরকে রিং করতেই অপার প্রান্ত থেকে একটা মেয়েলী আওয়াজ ভেসে এলো- কে বলছেন? ঝিমলীর গলার আওয়াজটা বুঁজে আসছিলো। অর্ক ঝটপট মোবাইলটা নিজের হাতে নিয়ে বললো- সুবীর বলছো? অপারপ্রান্ত থেকে মেয়েটি বললো- না সুবীর এখন রুমে নেই। অর্ক বললো- আপনি কে বলছেন? মেয়েটি জানতে চাইলো- কেন বলুন তো? অর্ক বললো- সম্পর্কের নামটা জানা ভীষণ জরুরী তাই জানতে চাইছি।
মেয়েটি বললো- আপনি কে বলছেন সেটা আগে বলুন? অর্ক বললো- সুবীরের বন্ধু।আমার নাম অর্ক মুখার্জী। মেয়েটি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বললো- আচ্ছা! আপনি কি সুবীরের একেবারেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু? অর্ক বললো- হ্যাঁ। কিন্তু কেনো বলুন তো?
মেয়েটি বললো- তবে সুবীর আপনাকে আমাদের বিয়েতে নেমন্তন্ন করেনি কেন?
অর্ক নিশ্চুপ। ঝিমলী মনমরা হয়ে একটা গাছে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মোবাইলের অপার প্রান্ত থেকে মেয়েটি ক্রমাগত hello hello hello করে চলেছে।অর্ক আর কোনো কথা না বলেই মোবাইলটা সুইচ অফ করে দিলো। তারপর ঝিমলীকে বললো- একটা বাজে খবর আছে। সুবীর বিয়ে করেছে। ঝিমলী নিশ্চুপ, হতভম্ব। অর্ক বললো- জানতাম সুবীর তোমার সাথে প্রতারণা করবে। কিন্তু কখনও কোনোদিন তোমাকে সে কথা বলার সাহস পাইনি।কারণ তুমি সুবীরের প্রেমে অন্ধ হয়ে ছিলে। তোমার মা বাবাও যদি সুবীরের সাথে মেলামেশা করতে বারণ করতো তবুও সেসময় তাঁদের আদেশ তুমি মান্য করতে না। ঝিমলী বললো- চুপ করো। সত্যি বলছি আমার খুব ভুল হয়েছে। এইমুহূর্তে নিজেকে ভীষণ বোকা বোকা মনে হচ্ছে। এবার থেকে ফেসবুকে আর কখনও কোনোদিনও কোনো অচেনা ছেলের সাথে আর কথা বলবো না।
অর্ক মুচকি হেসে বললো-ৎঅদ্ভুত সিন্ধান্ত তোমার। আচ্ছা! সব ছেলেরাই কি সুবীরের মতো একই মানসিকতার হয়?
ঝিমলী বললো- জানি। তবুও আমি এবার থেকে আর কোনো অপরিচিত ছেলের সাথে কথা বলবো না। তারপর বেশ কিছুটা সময় নীরবতা পালনের পর ঝিমলী হঠাৎ অর্ককে প্রশ্ন করলো- আচ্ছা ! তোমার সাথে আমার সম্পর্কটা ঠিক কি ধরনের বলো তো?
অর্কর মুখে কোনো শব্দ নেই। মনে মনে বিড়বিড় করে নিজেকে নিজেই বললো- থাক না গোপন প্রেম নির্বাক বোবা হয়েই চিরদিন।
যে সম্পর্কটা বন্ধুত্বর সুন্দর মহান তকমা পেয়েছে সেই সম্পর্কটাকে প্রেমিকের তকমা দিয়ে সঙ্কুচিত করতে যে চাই না কিছুতেই। ঝিমলী বললো- কি হলো? আমি কিছু একটা প্রশ্ন করেছি জবাব দাও। অর্ক ঝিমলীর চোখে চোখ রেখে মুচকি হেসে বললো- আমাদের সম্পর্কটা হলো একেবারেই নির্ভেজাল খাঁটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ঝিমলী বললো- ঠিক। সেটাই যেন চিরদিন অটুট থাকে। অর্ক ঝিমলীর চোখে চোখ রেখে বললো- কথা দিলাম থাকবে।
(সমাপ্ত) -
অসহায় মিষ্টি প্রেমের গল্প
অসহায় মিষ্টি প্রেমের গল্প
-অজয় চৌবে
প্রায় ঘন্টা দু’য়েক অপেক্ষার শেষে পিয়ালী এলো। কৌশিক রেগে প্রশ্ন করলো- এতো তাড়াতাড়ি এলে? পিয়ালী ওড়না দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে বললো- তাড়াতাড়ি করে বের হতে গিয়ে মোবাইলটা বাড়িতে ভুল করে ফেলে রেখে এসেছি। বাসে চাপার কিছুক্ষণ পরেই প্রচণ্ড শব্দ করে বাসটার পেছনের বাম পাশের চাকাটা ফেটে গেলো। বাসটা কাত হয়ে রোডের ধারে একটা গাছে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। যাক বাসের মধ্যে সেরকম ভাবে কারুর কোনো কিছুই চোট লাগেনি।কৌশিক বললো- আমি দুই থেকে তিনবার তোমার মোবাইলে রিং করেছিলাম, সুইচ অফ বলছিলো। ভাবলাম বাড়ি থেকে বের হতে পারোনি, হয়তো সে কারনে লজ্জায় মোবাইলটা সুইচ অফ রেখে দিয়েছো? পিয়ালী বললো- মোটেই না। বাড়িতে বাবা সকালবেলায় সব্জির বাজার করতে বেরিয়ে যেতেই- আমি সেই সুযোগে ঝটপট করে বেরিয়ে পড়লাম। মা ঠাকুর ঘরে বসে পুজো সারছিলো। কৌশিক পিয়ালীকে থামিয়ে দিয়ে বললো- আর বলতে হবে না, তারপর তুমি তোমার মাকে বললে- মা আমার বাড়ি ফিরতে একটু দেরী হবে, অনিতার বাড়িতে চললাম। পিয়ালী রীতিমতো অবাক হয়ে বললো- হুমম ঠিক, অদ্ভুত তুমি কি করে জানলে? কৌশিক মুচকি হেসে বললো- কিছু কিছু ভাবনার অনুমান খুব সহজেই করা যায়, আবার কিছু কিছু অনুমান আকাশ -পাতাল ভাবিয়ে তোলে। পিয়ালী বললো- কই আমি তো তোমার মতো ভাবনার গভীরে যেতে পারিনা? আমার ভাবনাগুলো ইদানিং শুধু তুমি আমিতেই সর্বদা সবসময় ঘোরাফেরা করে। কৌশিক বললো- জানি, বুঝতে পারি ভীষণ। হয়তো সে কারনেই এখনও তোমার অদৃশ্য মায়ার বাঁধনে বাঁধা হয়ে থেকে গেছি। পিয়ালী বললো- আমার আজকাল আর কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। বাড়িতে চার দেওয়ালের মাঝে কেমন যেন নিজেকে খাঁচা বন্দী পাখির মতো মনে হয়। কৌশিক মাটির দিকে মাথা নত করে বললো- আমার এখন এই মুহূর্তে কিছুই করার নেই। বাড়িতে অভাবের সংসারে আমি ভীষণভাবে দায়িত্ব, কর্তব্যেবোধে অদ্ভুতভাবে অসহায় জব্দ। একটা মোটা মাইনের কাজের খোঁজ পেয়েছি কিন্তু বাড়ি থেকে অনেক দুরে। আমি বাড়ি ছেড়ে, তোমাকে ছেড়ে দুরে থাকতে কিছুতেই পারবো না। কৌশিক চিন্তার ভাঁজ পড়া পিয়ালীর মুখের দিকে চেয়ে রইলো- তারপর আকাশের পানে চেয়ে বললো- মেঘলা মেঘে ঢাকা আমার জীবন।চারিদিকে অদ্ভুত জমাট যেন আমাবস্যার রাতের মতো গভীর ঘন অন্ধকার। আমি সেই অন্ধকারে চড়াই উৎরাই পথে জীবন সংগ্রামে টালমাটাল হাঁসফাঁস করতে করতে সম্মুখপানে হাঁটতে হাঁটতে চলেছি। আমি পারবো না কিছুতেই আমার অন্ধকার জীবনে তোমাকে জোর করে নিয়ে আসতে। পিয়ালী থমথমে গম্ভীর মুখে নির্বাক হয়ে কৌশিকের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ খিল খিল করে হাসতে লাগলো। কৌশিক হতবাক! হঠাৎ এভাবে পিয়ালীকে হাসতে দেখে বললো- এই কি হলো তোমার? একাকীত্বর বোবা কষ্টে মাথাটা একেবারেই গেছে। পিয়ালী হাসি থামিয়ে বললো- না, মোটেই মাথা খারাপ হয়নি আমার। মাথাটা এখনও ঠিক আছে বলেই আমি তোমার প্রেমে জীবনে বেঁচে থাকার ছন্দ হারায়নি। বরং তোমার কাছে আমি অদ্ভুতভাবে ঋণগ্রস্ত।
আমি শিখেছি কিভাবে সমস্যা,কষ্ট, যন্ত্রণাগুলোকে পা দিয়ে মাড়িয়ে জীবনযুদ্ধে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে হয়। না না আমি ভন্ড প্রেমিকার মতো তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। কৌশিক একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে বললো -পিয়ালী এটা কঠোর বাস্তব।এখানে প্রকৃত প্রেম চড়া দরে বিক্রি হয়ে যায় । মোটা মাইনের ছেলেরা ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে যায়, -অসহায় দুর্বল প্রেমিকদের প্রেমিকাদের।পিয়ালী বললো -কৌশিক আমি আছি তোমার সাথে। তুমি দেখো একদিন ঠিক তোমার মেঘলা আকাশটা কেটে যাবে। পূর্ণিমার আলো হয়ে আমি তোমার সাথে জীবনের চড়াই উৎরাই পথে হাঁটবো।জীবনের ক্রমাগত কষ্ট,যন্ত্রণা, সমস্যাগুলোকে হাসতে হাসতে বলবো -আমাদের প্রকৃত প্রেমের কাছে তোমরা -তুচ্ছ, ভীষণ নগন্য তুচ্ছ।
#সমাপ্ত# -
অবুঝ ভালোবাসা
অবুঝ ভালোবাসা
-অজয় চৌবেআমার তোমার সাথে কখনও কোনোদিন দেখা হবে না জেনেও-
তুমি বারবার প্রশ্ন করো
-আমাদের কি সত্যিই কখনও কোনোদিন আর দেখা হবে না?
প্রশ্নের জবাবে আমি রাখি –
শুধুই একঘেঁয়ে বিরক্তিকর নির্বাক নীরবতা।
আমাদের অকৃপণ কাল্পনিক সুখে ভরা
তিল তিল করে গড়ে ওঠা অফুরান ভালোবাসার সুখনীড়
আর কখনও কোনোদিন বাস্তবায়িত রূপ পাবে না,
–সবকিছু ঠিকঠাক বেশ ভালোভাবে জেনে বুঝে-
-তবুও তুমি নাছোড়বান্দা হয়ে আমাকে বারবার পিছুডাক দাও,
-সেই পিছুডাকের জবাবেও – আমি রাখি
-শুধুই একঘেঁয়ে বিরক্তিকর নির্বাক নীরবতা।
কারণ?- অকারন মিথ্যা প্রত্যাশার চেয়ে
একঘেঁয়ে বিরক্তিকর নির্বাক নীরবতা অনেক অনেক শ্রেয়। -
বিস্ময় প্রতিশ্রুতি
বিস্ময় প্রতিশ্রুতি
-অজয় চৌবেতোমার গল্পের শেষ অধ্যায়ে যখন
কেও খোঁজ রাখবে না কারুর
-আমি তুমির নিজস্ব রঙ্গীন পৃথিবী
পরিচয় পাবে যখন বর্ণহীন ধূসর,
– ঠিক তখনই হবো আমি
-কোনো এক রাতজাগা নিশাচর পাখি
,-অথবা হয়ে যেতে পারি সকাল বেলার
– ফুরফুরে প্রবাহমান বসন্ত সমীরণ।
চাওয়া-পাওয়ার ঘাত-প্রতিঘাতে
ঘায়েল তুমি অন্তরমনের
গোপন প্রেমের দরজা খুলে
মনমরা উদাসী মুখে যখন বলবে,
-আমার আঁধার সময়ে
ধারে কাছে আশেপাশে নেই কেও,
-হয়তো ঠিক তখনই হয়ে যেতে পারি আমি
-উত্তাল উন্মাদ বেগবান বাঁধনহারা সুনামীর ঢেউ। -
গোপন বোবা অভিমান
গোপন বোবা অভিমান
-অজয় চৌবেছন্দহীন মনের গোপন কথা আর বলবো না
কখনও কোনোদিন বলবো না,
– কেমন করে অন্তর মনের স্মৃতির গভীর কবর থেকে
উঠে আসো তুমি কারণে -অকারণে?-
বলবো না- আর কখনও কোনোদিন বলবো না।
রাত্রি নিঝুম, -বোবা শূন্যতা কেমন করে ভাবে তোমাকে কাল্পনিক কল্পনায়?
– না আর বলবো না, -কখনও কোনোদিন বলবো না।
কেমন করে তোমার অবহেলার চাদরে
আমার তোমার প্রতি নাবালক ভালোবাসা
মুখ ঢাকে অভিমানী অদৃশ্যমান মুখোশে ?
না আমি বলবো না, – আর কখনও কোনোদিন বলবো না, -কারণ? –
তোমার কদাচিৎ অহেতুক নির্বাক নীরবতায় আমারও তো হয় ? –
গোপন বোবা অভিমান। -
বোবা আর্তনাদ
বোবা আর্তনাদ
-অজয় চৌবেপ্রতিবাদ না করলে নিজে থেকে এই কঠোর সংগ্রামী পৃথিবীতে কেও সহজে বুঝবেই না
-তোমার সঠিক প্রয়োজন অথবা প্রাপ্য অধিকার,
একটা সদ্য জন্ম নেওয়া দুগ্ধ শিশুও বোধহয় জানে এই চরম ধ্রুব সত্য?
-তাই হয়তো সে কান্নার মধ্যে দিয়ে করে অর্জন- তাঁর বেঁচে থাকার খাবার।
আজ দয়া,মায়া,সততা, মানবিকতা
-মনের গোপন কারাগারে হয়ে চলেছে মরা -আধ-মরা,
-গণতন্ত্রের গর্বিত আদর্শ বোমা-বুলেটের আঘাতে টালমাটাল ঝাঁঝরা হয়ে হাঁটছে বিলুপ্তির পথে,
সমাজে যোগ্য প্রতিভাবান যুবক-যুবতীর সরকারী চাকরী প্রায় নেই,
লাউ ডগার মতো লকলক করে বাড়ছে- দূর্নীতি,ঘুষ,
-জাত -পাতের সংরক্ষণ এখনও অটুট
-রাজনীতির নোংরা অভিসন্ধির মদতে।
আজ অন্যায়-অবিচারে ভরা এই অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজেে
– ভীষণ ভীষণ প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ সৎ সাহস,
-গগনভেদী- হুঙ্কার- চিৎকার- বলিষ্ঠ প্রতিবাদ,
গম্ভীর গভীর প্রশ্নচিহ্ন এবং অজুহাত – বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে?
-তাই নিজ নিজ গর্তে ইঁদুরের মতো গোপনে চুপিসারে প্রায় সবাই করি
-নিষ্ফল-বোবা আর্তনাদ। -
ঈষাণ ও সায়নীর প্রেম
ঈষাণ ও সায়নীর প্রেম
-অজয় চৌবেআমার বিয়েতে এলে না কেনো? নিমন্ত্রিত এসেছিলো সবাই শুধু তুমিই যাওনি। আমার খুব রাগ হয়েছিলো ভেবেছিলাম আর কখনও কোনোদিন কথা বলবো না তোমার সাথে। ঈষাণ মুচকি হেসে মুখ ফিরে থাকা সায়নীকে বললো- তবে আজ এলে কেনো? রাগ করেই থাকতে পারতে দূরে। সায়নী এবার ভীষণ রেগে ঈষাণকে বললো- তোমার বাড়িতে এসে তোমার সাথে এভাবে দেখা করার জন্যে তুমি খুশী হওনি? ঈষাণ গম্ভীর মুখে বললো- না আমি খুশী হতে পারিনি কারণ আমি তোমাকে নিজের মতো করে কাছে পেতে চেয়েও কাছে পাইনি। সায়নী নিশ্চুপ। ঈষাণ বললো- আমি তোমার কাছে একবছরের মতো সময় চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার ছিলো ভীষণ তাড়া। সায়নী বললো- আমি কিন্তু তোমাকেও বলেছিলাম- চলো পালিয়ে বিয়ে করি কিন্তু তুমি বলেছিলে- চোরের মতো পালিয়ে বিয়ে করবো না। কাজটা পাকাপোক্ত হোক, বোনের বিয়েটা হয়ে যাক তারপর ধুমধাম করে বিয়েটা করবো। ঈষাণ বললো-হুমম বলেছিলাম। সায়নী বললো -বাবা মা মোটা মাইনের ধনী পরিবারের সরকারি জামাইএর খোঁজ করছিলো এবং পেয়েও গেলো। ঈষাণ বললো- তুমিও তখন আমার প্রতি আর ভরসা রাখতে পারলে না? সায়নী বললো- ঠিক তাই কিন্তু বিয়ের একমাস পর আমার মনে হলো- আমি বোধহয় তোমার প্রতি ভীষণ অবিচার করেছি? ঈষাণ বললো- না তুমি মোটেও অবিচার করো নি, কারণ আমিও নিজেকে ভীষণ গুটিয়ে নিয়েছিলাম সেই সময়। বাবা মা জীবিত নেই, বোনটাকে বিয়ে দেওয়ার চাপ আর আমার কাজটাও সেরকম পাকাপোক্ত নয় তাই মনে হয়েছিলো- ঈশ্বর যখন যা করেন হয়তো ভালোই করেন। সায়নীর চোখে জল। ঈষাণ মুচকি হেসে সায়নীর চোখের জল মুছতে মুছতে বললো- পাগলী বিচ্ছেদে কখনও কোনোদিন প্রকৃত প্রেম ঘৃণায় রূপান্তরিত হয়না। আমি হাজার চেষ্টা করেও তোমাকে ঘৃণা করতে পারিনি বরং নিজেকে গোপনে চুপিসারে দোষারোপ করেছি বহুবার। সায়নী বললো- কথা দাও তুমি আমার সাথে যোগাযোগ রাখবে। ঈষাণ বললো- কথা দিলাম তোমার কষ্টের সময় প্রাণপণ চেস্টা করবো পাশে গিয়ে দাঁড়াবার। নিজের অফুরান তোমার প্রতি ভালোবাসা নিংড়ে দিবো তোমাকে হাসিখুশী রাখতে কিন্তু ভুল করেও তোমার সুখের দিনে বারবার ডাকলেও আমাকে তুমি তোমার কাছে পাবে না। সায়নী বললো- সত্যি আমি ভীষণ খুশী এবং মুগ্ধ হলাম, তুমি এভাবেই নিজের মতো মাথাউঁচু করে জীবনের বাকি পথ হাঁটতে থাকো। আমিও কথা দিলাম তোমায়, আমার হৃদয়পুরে গোপনে চুপিসারে আমার প্রেমিকের আসনে তুমি শুধু তুমিই থাকবে বিরাজমান চিরদিন। আর কেও না।