-
কবিতা- সত্যি ই চেয়েছিলাম
সত্যি ই চেয়েছিলাম
-সুজাতা দাসআমি চেয়েছিলাম তোর সঙ্গে পথ চলতে-
তোর না বলা কথাগুলো সুন্দর ভাষা দিতে-
ভেবেছিলাম পথ ভল্গা থেকে গঙ্গায় পৌঁছাবে-
কিন্তু ভাবিনি শেষ কথাগুলো শেষ হবে না-পড়ে থাকবে মৃত সরীসৃপের মতো
বলা না বলা কথার পাহাড় হয়ে-
ঘৃণায় মুখ ফেরাবে সময়ও, যা অপ্রাসঙ্গিক-
কিছু অভ্যাস তো থেকেই যায়, যা সময়ও পাল্টাতে পারে না-
কিছু ব্যথা তো মনে করায়, কোনও ভুল ছিল দু’জনেরই-
ভেবেছিলাম কোনও রূপকথার গল্পের চরিত্র হবে জীবনটা,যেমন কোনও সোনার কাঠির ছোঁয়ায় জীবন্ত রাজকন্যা-
অথবা গভীর জলে ভেসে বেড়ানো কোনও মৎস্যকন্যা, যা কল্পনাতেই সত্যি হয়তো-
হয়তো জ্যোৎস্নায় ভাসা কোনও নিঃসঙ্গ পরি, যে চেয়েছিল কল্পনায় হারিয়ে যেতে মেঘেদের দেশে-
হয়তো খুঁজতে চেয়েছিল তোর মনের গভীরতা-
চেয়েছিল হয়তো একাত্ম হতে কোনও নিবিড়তায়-
বাড়িয়েছিলাম ভালোবাসার হাত, যা ফিরিয়ে নিতে কষ্ট হয়েছিল হয়তো-
আকাশের জ্বলে থাকা নক্ষত্রেরাও হয়তো ঝরিয়েছিল অশ্রু,
যা পৃথিবীর মাটিতে ঝরেছিল ঘাসের মাথায় শিশিরের মতো-
যা তোর বোঝার অনেক বাইরেই থেকে গেছে সময়ের পথ বেয়ে।। -
গল্প- গুডটাচ ব্যাডটাচ
গুডটাচ ব্যাডটাচ
-সুজাতা দাসএকটা ভয় আজ কদিন ধরে চেপে বসেছে ঊর্মিকে।ঊর্মিমালা বসু নামটা রাশভারি হলেও, ঊর্মি কিন্তু একটু সোজা সরলতায় ভরা এক মেয়ে।নিজের খেয়ালে নিজের মতো করে থাকতেই সে ভালোবাসে।
হৈ হট্টগোল চিৎকার চেঁচামেচি সে পছন্দ করেনা একে বারেই।তাই খুঁজে খুঁজে নির্জন অথচ নিজে সবাইকে দেখতে পাবে এমন জায়গা খুঁজে বার করে অফটাইম কাটাতো সে।
কিন্তু সেদিন সে টিফিন টাইমে খেলার মাঠের দিকে না গিয়ে দোতালার দিকের ছোটো ছাদটার দিকে যাচ্ছিল টিফিনের কৌটো আর জলের ফ্লাক্স নিয়ে।ঐ ছাদে যেতে হলে তিনতলার বারান্দা দিয়ে ঘুরে সিড়ি দিয়ে নামতে হয় কয়েক ধাপ।বারান্দার আছে ক্লাস নাইন আর টেনের দিদিদের ক্লাস।
ঐ ছাদটা খুব পছন্দ করে ঊর্মি, মাঝেমাঝে এসে বসে এখানে টিফিন বেলায়।সেদিন যখন ঐ বারান্দা দিয়ে হাঁটছিল ঊর্মি, তখন সে দুজন মানুষের কথোপকথন শুনতে পেল একটা ঘরের ভেতর থেকে।
একটু একটু করে সে এগিয়ে গেল ঐ ঘরের দিকে।আর অবাক হয়ে দেখলো স্কুলের ড্রয়িং স্যার এক দিদির গায়ে হাত দিচ্ছে আর দিদিটা দুই হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রথমে না বুঝলেও আস্তে আস্তে বুঝতে পারলো সে এটা খারাপ কিছু।কারণ ততদিনে স্কুলে গুডটাচ আর ব্যাডটাচ এর প্রশিক্ষণ পেয়ে গেছে সে।হঠাৎ আস্তে আস্তে সে পিছনে সরে গিয়ে সিঁড়ির ধারে এসে চিৎকার করে পড়ে যাবার অভিনয় করলো।তার চিৎকার শুনে সবাই ছুটে আসতে থাকলো বারান্দায়।
ড্রইং স্যার ও বেরিয়ে এলো ঐ ঘর থেকে ।সবাই ধরাধরি করে ঊর্মি কে টিচার রুমে যখন নিয়ে আসছিল তখন সে দেখলো সেই দিদিটি নিচে নেমে যাচ্ছে সকলের অলক্ষ্যে।এখন সে বোঝে বড় হওয়ার মানে, বোঝে কোনটা ভালো স্পর্শ আর কোনটা খারাপ স্পর্শ।এটা তাদের স্কুলেই শিখিয়েছেন লাবণ্য মিস, কারণ কয়েক দিন বাদে সে দশ বছরে পড়বে। সে আর বেবি নয় এখন ভাবলো মনে মনে ঊর্মি। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে অনেক চেষ্টা করেছিল মাকে সব বলার। কিন্তু একটা ভয় কাজ করেছিল তার মধ্যে কারণ মা হয়তো তাকেই বকবেন এই পাকামির জন্য। কিন্তু মেয়ের অন্যমনস্কতা শিবানীর চোখ এড়ায়নি।
সে বন্ধুর মতো মিশে পুরো ব্যাপারটা জেনে নিল ঊর্মির থেকে।অবাক হয়ে শুনছিলেন সব মেয়ের মুখ থেকে আর ভাবছিলেন এখনও দশ বছর হয়নি ঊর্মির কিন্তু তার উপস্থিতি বুদ্ধির কারণে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হতে হতে বাঁচলো। না মেয়েকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে নিজেকে বাঁচানোর সাথে সাথে অন্যের জন্যও ভাবলো মনে মনে শিবানী।অমিতকে বলল সে রাতে সব কথা।শিবানী নিজে হেডমিস্ট্রেসের সাথে দেখা করে সবকিছু জানালেন।মেয়েটির সাথে দেখা করলেন নিঃশ্চুপে যাতে কেউ কিছু ঘুণাক্ষরেও টের না পায়।একমাস বাদে আলোলিকা ব্যানার্জি এলেন নতুন ড্রয়িং টিচার হয়ে ঊর্মিদের স্কুলে। তার অনেক আগেই ড্রয়িং টিচার হিমাংশু বিশ্বাস পেয়ে গেছেন ট্রানস্ফার লেটার সুন্দর বনের এক প্রত্যন্ত গ্রামে।
আর ঊর্মি ভর্তি হলো ক্যারাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।। -
কবিতা- কল্পনা আকাশ কুসুম
কল্পনা আকাশ কুসুম
– সুজাতা দাসকখনও ভালোলাগাগুলো বৃষ্টির ফোঁটার মতোই ঠান্ডা ছোঁয়ায় ভরিয়ে তুলবে-
কখনও হয়তো বৃষ্টির ফোঁটা মনটাকে ভিজিয়ে দেবে-
কখনও দমকা হাওয়ায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে মনটা-
চোখের জল লুকাতে চাইবে বৃষ্টির ফোঁটার সাথে মিশে-
একটু ভালোবাসার ছোঁয়া হয়তো সারিয়ে তুলতে পারে ভেঙে পড়া মনটাকে-
তুই কী থাকবি সেই সময় পাশে?
ততক্ষণে ভালোলাগা সব কিছু হয়তো ছাড়তে কষ্ট হবে-
কষ্ট হবে হয়তো তফাত করতে ভালোবাসা আর ভালোলাগার-
তুই তখনও আছিস হয়তো কোনও নিরালায় মনের এক কোনে-
যেখানে বৃষ্টি ভেজা রাত কথা বলে নিশুতি রাতের সাথে আনমনে-
ভালোবাসা হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চায় হয়তো-
ব্যাকুলতা প্রাসাদ নির্মাণ করে অবাস্তবকে সাথে নিয়ে-
যেমন থেকে যায় কিছু কুন্ঠিত বিষাদ, তোর মতোই অবাস্তব প্রত্যাশা করে!
হয়তো কল্পনা পাখা মেলে উড়তে চাইবে আবার আপনমনে,
যেখানে তুই কল্পনাতেই মিলেমিশে একাকার। -
কবিতা- স্মৃতিরাও বাসি হয়!!
স্মৃতিরাও বাসি হয়!!
-সুজাতা দাসহারিয়ে যাওয়া নিজেকে খুঁজতে গিয়ে,
নিজের মনের কাছেই-
হঠাৎ একটা দমকা বাতাস সব কিছুই,
এলোমেলো করে দেয়-
তোর সেই ঠোঁট টেপা হাসিটা মনে করায়,
অনেক না বোঝা ভালোবাসা-
সেই বৃষ্টি ভেজা রাতে হঠাৎ বুঝতে পারা,
তুই ছাড়া সব কিছুই শূণ্য-কোনও এক রাস্তার বাঁকে হঠাৎ করেই দেখা,
অবাক আমি আজও জানিস!!
হারিয়ে যাওয়াটাও হঠাৎ করেই অসময়ে যেন,
হয়তো এমনি নিয়ম কালেরই-
মানতে চাই সবকিছু তবুও খুঁজে ফেরে এই মন,
ব্যথাতেই খোঁজা সুখেদের শুধুই-
তবুও চিনচিনে ব্যথাটা মনে করায় বারে বারে,
তুই ছিলি, আজও আছিস মনে-হয়তো মনের কোনও আট কুঠুরির একটাতে,
যেখানে মুখরিত করে অনুক্ষণ-
হয়তো ফল্গু হয়ে ওঠে স্মৃতির চোরাবালি তখন,
চোখের জল নেমে আসে ধরায়-
ঝাপসা চোখে আবছা এক অবয়ব ধরা পরে,
হয়তো স্মৃতি হারায় মাঝে মাঝে-
তবুও ভালোবাসি আজও তোকে ঠিক তেমনি,
যেখানে মুখরিত স্মৃতিরা আজ বাসি।। -
কবিতা- নিজেকে খুঁজে ফেরা
নিজেকে খুঁজে ফেরা
-সুজাতা দাসঅনুভূতিরা অসফল আজও চোরা বালির মতোই-
হৃদয় খুঁড়ে ফল্গু জাগাতে বেদনার যুদ্ধ শত শত-
তবুও খুঁজে ফেরে মন অসময়ে অবাক হয়ে আজও-
ভালোবাসার স্রোত বয়ে আনে সৌরভ অবিরত-
পথ চলাতেই যে আনন্দ তা পথ হারানোতে কোথায়?
নিত্য নতুন মিথ্যাচার হারিয়ে দেয় সত্যের অপলাপ-ভালোলাগা গুলো কেমন করে ভালোবাসা হয়ে যায়-
আজও আশারা হাতছানি দিয়ে অলক্ষ্যে ডেকে যায়-
ফেলে আশা শৈশব ফিরে পেতে আজও খোঁজ করা-
জীবনটা জীবনের মতো করেই ভেঙেছিল পথ চলা-
তবুও চিনচিনে ব্যথাটা মাঝেমাঝে নিজেকেই খোঁজে-
হয়তো তানপুরাটা নিজেই সেই পুরোনো সুর সাধে-ঐ বাঁশির করুণ সুর কী হ্যামিলটনের বাঁশিওয়ালার-
যা কল্পনাতেও বেজে চলে অহর্নিশি আর অবিরাম-
যার সুরে আজও হারিয়ে যাওয়া নিজেকে খুঁজতে-
নিশি যাপনের ব্যথা আজও তেমনিই বুকে বাজে-
আজও আশারা হাতছানি দিয়ে ডেকে চলে অলক্ষ্যে-
এখনও অনুভূতিগুলো নির্জীব আর নিরলস রয়েগেছে।। -
কবিতা- ভীষ্ম সংবাদ
ভীষ্ম সংবাদ
-সুজাতা দাসযেদিন গঙ্গার প্রেমে পাগল শান্তনু প্রস্তাব দিলেন বিবাহের-
শর্ত রেখেছিলেন গঙ্গা, তাঁর কোনও কাজে বাঁধা হবেন না শান্তনু-
তবুও বাঁধা দিয়েছিলেন শান্তনু, যখন অষ্টম সন্তান জন্ম নেবার পরে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিতে গেলেন সেই পুত্রকে-
পারেননি গঙ্গাকে দেওয়া শর্ত রাখিতে-
শর্ত মেনে ফিরে চললেন পুত্রকে সাথে নিয়ে, ফিরিয়ে দেবেন মানুষের মতো মানুষ করে, এই শর্ত পতিরে দিয়ে-গঙ্গার সাহচর্যে দেবব্রত বড় হতে থাকলো-
অল্পদিনেই পারদর্শী হয়ে উঠলো দেবব্রত অস্ত্রবিদ্যায়, দূরদর্শী হলেন চিন্তায় আর মননে-
সর্ববিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠলেন তিনি নিজের ক্ষমতায়-
একদিন মায়ের কাছে অস্ত্র শিক্ষাকালে শর নিক্ষেপ বাঁধিলেন গঙ্গার ধারাকে-
অদ্ভুত এই দৃশ্যের সম্মুখীন হলেন দেবব্রত, কার এই ক্ষমতা? মনে মনে ভাবিয়া এগিয়ে চলিলেন উৎস সন্ধানে-
খুঁজে পেলেন পত্নী আর সন্তানকে, অনেক আকুতিতেও ফিরলেন না তিনি আর রাজমহলে-
ফিরে চলিলেন দেবব্রত পুত্র শান্তনু সাথে-দিন তো চলে দিনের খেয়ালে, নিয়তির খেলাকে বুঝিতে পারে-
চললেন শিকারে তিনি বনের উদ্দেশ্যে-
চলতে চলতে হঠাৎ এক সুন্দর গন্ধ পাগল করলো তাঁকে-
গন্ধের উৎস খুঁজতে চললেন তিনি,গন্ধের সন্ধানে-
দেখলেন শান্তনু এক পদ্মগন্ধা মেয়ে-
পরলেন আবার প্রেমে তিনি, নিবেদন করলেন প্রেম কন্যার সকাসে-
দিলেন ধীবররাজ শর্ত একখান, দিতে পারেন বিবাহ যদি তার সন্তান রাজ্য পান-
ফিরলেন শান্তনু বিমর্ষ বদনে, দিন দিন গঙ্গাপুত্র জিজ্ঞাসে পিতারে-
বলিলেন কেমনে করিব দান এই রাজ্য অন্য পুত্রে, তুমি যে আমার জ্যেষ্ঠপুত্র দেবব্রত-পিতারে করিতে তুষ্ট করিলেন এক আশ্চর্য প্রতিজ্ঞা রাজ কুমার দেবব্রত- থাকিবেন কুমার হয়ে নিয়ে ব্রক্ষ্মচর্য-
এই ভীষণ প্রতিজ্ঞায় কাঁপিল মেদিনী, সঙ্গে কাঁপিল স্বর্গ মর্ত্য সুরধণী-
সেই হতে তাঁর নাম হইলো ভীষ্ম-
পেলেন শান্তনু হতে এক বর ইচ্ছা মৃত্যুর-
চলিলেন অতঃপর মায়ের সমীপে করিলেন বন্দনা গঙ্গার চরণে-
মাতৃ শীতলতায় করিয়া অবগাহন অতঃপর ফিরিলেন ভীষ্মদেব হস্তিনানগর-সংসারে থেকেও পারলেন নির্লিপ্ত থাকিতে, রাজকার্যে সহায়তা করেন অনুজে-
এই ভাবেই নানা ঘটনার সমাহারে হইলেন তাতশ্রী পঞ্চপাণ্ডব আর কৌরবের-
কৌরবের ক্রূরতা হতে রক্ষেণ পান্ডবে, দিতে থাকিলেন শিক্ষা তাঁদের কৃপাচার্য আর দ্রোনাচার্যের সাথে-
অস্ত্র শিক্ষায় পারদর্শী সমস্ত রাজকুমার, হইলেন তবুও অর্জুন প্রিয়পাত্র তাতশ্রীর অপার-
ধনুর্বিদ্যায় অর্জুনের পারদর্শিতায় আপ্লুত তাতশ্রী,রাখলেন অর্জুনে সদা পাশে তাঁর-এভাবেই একদিন গান্ডীবধারী অর্জুন, চলিলেন দ্রৌপদী সহিত শকুনীর কূটিলতায় পঞ্চপাণ্ডব সহিত বনে-
তেরো বৎসর কাল পূর্ণ হলো নানা ঘটনায়, ফিরিলেন ইন্দ্রপ্রস্থের নতুন রাজ সভায়-
নানা ছলে কাড়িলেন ইন্দ্রপ্রস্থ, করিলেন অবমাননা রাজবধুরে রাজসভার পরে-
লাগিল ভীষণ যুদ্ধ কুরুক্ষেত্রের মাঠে, চলিল আঠেরো দিন যুদ্ধ নানা কারনে-
শতশত প্রাণ গেল’গেল মহারথী, শিখন্ডীর কারণে ছাড়িলেন অস্ত্র; ভীষ্ম মহারথী-অর্জুনের বাণে বিদ্ধ হয়ে নিলেন শরসজ্জা, ছাপ্পান্ন দিন দিলেন পান্ডবে অগাধ জ্ঞান আর বিদ্যা-
মাতা গঙ্গা দিলেন কোল শেষ সময়ে এসে, চলিলেন অষ্টবসুর শেষ বসু নিজের আলয়ে-
ধুয়েছিলেন নিজ পাপ গঙ্গার সংস্পর্শে-
পতিত পাবনী রূপে চিরকাল তিনি স্বর্গ মর্ত পাতালে-
উচ্চারিত যখনই হয় নাম দেবব্রতর-
গঙ্গাপুত্র নামে খ্যাত হলেন, তাতশ্রী ভীষ্ম ।। -
কবিতা- আমি নারী
আমি নারী
-সুজাতা দাসআমি কৃষ্ণা, আমি পাঞ্চাল রাজ নন্দিনী; আমি দ্রৌপদী-
আমি অগ্নিকন্যা, যজ্ঞকুণ্ডডে জন্ম আমার; আমি যাজ্ঞসেনী-
আমি পঞ্চ স্বামীর পত্নী, পঞ্চপুত্রের জননী তবুও আমি অবহেলিত,তবুও এককী আমি খুঁজে ফিরি ভালোবাসা- আজও সেই মুখ রেখেছি লুকায়ে,
স্বয়ম্বর সভায় পা রাখার মূহুর্তে হয়েছিল যে চার চোখের দৃষ্টি বিনিময়-
পিছিয়ে এলাম সখা কৃষ্ণার অঙ্গুলিহেলন, চায়নি সরিয়ে নিতে পা
তবুও এগিয়ে গেছি একের পর এক রাজ পুরুষকে পেরিয়ে সম্মুখপানে-
কৃষ্ণ সখি আমি কৃষ্ণা সেই দিন হয়েছিলাম এক দাবার বোড়ে,শুরু হয়েছিল সেই দিন থেকে এক অন্ধকার দিকের সূচনা;
যা শেষ হয়ে ছিল এক ভয়ংকর ধর্মযুদ্ধে-
তারপর জিতলেন অর্জুন মাছের চোখ ভেদিয়া পাঞ্চালীরে,
কিন্তু ভাগ হলাম আমি পঞ্চপাণ্ডবে; শুরু হলো নারীত্বের অবমাননা-
চললাম তের বৎসরের জন্য বনবাসে, সেখানেও অবমাননা নানাছলে;রইলাম ক্রীতদাসী হয়ে বিরাট ভবনে এক বৎসর কাল সেখানেও কীচকের অবমাননা ঘিরে ছিল আমাকে-
ভালবেসেছিলাম অর্জনে কিন্তু একটু ভুলের কারণে চলে গেলে আমার থেকে অনেক অনেক দুরে-
বারো বৎসরের পরে ফিরেলেন চিত্রাঙ্গদা নাগরাজকন্যা উলপী আর কৃষ্ণ ভগিনী সুভদ্রাকে বিবাহ করে-
এখানেও অবমাননা আমার, পাওয়া হলো না আর অর্জুনে-
ভালোবেসেছিলেন অর্জুন সুভদ্রাকেই-এরপর ইন্দপ্রস্থ!! যজ্ঞস্থলে চলল সখা শ্রী কৃষ্ণের অপমান- বধ হলেন শিশুপাল একশ অপরাধ ক্ষমার পরে শ্রী কৃষ্ণের হাতে-
সুদর্শন ফিরে আসার সময় রক্ত ঝরালেন ভগবানেরও, সেই সময়ের উপকারের কারণে লজ্জা থেকে নিস্তার পেলাম কিন্তু রজঃস্বলা শরীরেও অবমাননার স্বীকার হলাম-আমি পাঞ্চালী আমি অবহেলিত অপমানিত প্রতিনিয়ত-
আমি হলাম কুরুসভায় বিক্রিত, অবনত মস্তকে হতে দিলেন স্ত্রীর অবমাননা পঞ্চ স্বামী,
ধর্ম হলেন বিমুখ অধর্মের কাছে-
কেমনে পারলেন সইতে অবমাননা পঞ্চপাণ্ডব-
তাকিয়ে ছিলাম আমি একবার আমার রক্ষার্থে সামন্তরাজ কর্ণের দিকে-
রেখেছিলেন মাথা নত এক রাজবধুর অবমাননার সামনে-
সখা কৃষ্ণ ভগবান- তিনি হতে দিলেন আমার লাঞ্ছনা-
সত্যি ই কী ছিলেন সখা তিনি? না আমি ছিলাম ধর্মযুদ্ধের এক ঘুঁটি মাত্র-এরপর যুদ্ধ শুরু শতশত বীর যোদ্ধার সাথে অভিমন্যু আর আমার পঞ্চ পুত্রের মৃত্যু হলো আমার সামনে-
ভগবান তুমি তো সব জানতে তবুও কেন হতে দিলে এই যুদ্ধ-
আজ আমি অপরাধী কুরুক্ষেত্রযুদ্ধের-
সব হারিয়েও খুঁজেছি ভালোবাসা যা আমার প্রাপ্য ছিল পাওয়াকিন্তু হারিয়েছি বারে বারে শুধু আমি যাজ্ঞসেনী বলে-
অগ্নিকন্যা আমি তাই হয়তো সব হারিয়েছি আপন ভাগ্যদোষে-
হে মাধব আমি তো ছিলাম সখি তোমার,তবুও কেন হয়নি পরিবর্তন যা তুমি অনাআসেই করতে পারতে-
আসলে তুমিও নিয়তির হাতে বাঁধা ছিলে তাই গান্ধারীর অভিশাপ তোমাকে স্পর্শ করেছিল-তোমার নিজের মুক্তি পেতে-
আসলে নারীর অবমাননা যেখানেই হবে ধ্বংসহবে সেই জায়গা এমনিই প্রকৃতির নিয়ম- তাই দ্রৌপদীরাই বারেবারে অপমানিত হন,
এই ধ্বংসের কারণ হিসাবে-
-
কবিতা- আবার আসিব ফিরে
আবার আসিব ফিরে
– সুজাতা দাসএখনও শূণ্য দিয়েই শুরু আর শূন্যতেই সব শেষ-
জীবনের অধরা শব্দবিন্যাস আজও স্বপ্নে অধরা-
প্রতি নিয়ত পেতে চায় অসময়ের কূটকচালিকে-
ভেঙেপড়া মনটা ছুঁতে চায় পাহাড়ের পর পাহাড়কে-
হয়তো খুঁজে ফেরা জীবনের কোনও পরিতৃপ্তিকে-
কখনও বৃষ্টির ফোঁটা চোখের জলে মিশে যায়-
কেউ মোছানোর আশ্বাস দিয়েও ফিরে চলে যায়-
কখনও অনেক মিথ্যে গল্প গুলোও মনেহয় সত্যি-
একটা সময় নিজেকেই মনেহয় গল্পের নায়িকা-
পথ খুঁজে ফেরা আজও শুধুই পথের সন্ধানে-
মুক্ত আকাশ খুঁজে ফেরা দিগন্ত থেকে দিগন্তে-
তুই চেয়েছিলি না বলা কথাগুলো আবার বলতে-
আমি চাইনি শুনতে আর মিথ্যে দিয়ে তৈরী রচনা-
হয়তো এটুকুই ছিল দু’জনের একসাথে চলা-
না বলা কথাগুলো আবার হয়তো ভাষা পাবে-
কোনও ছাড়পত্র ছাড়াই বলবে কথার ব্যাখ্যান-
আর চাইনা কোনও সত্যের অপলাপ আনমনেও-
ফিরে চলাই যদি নতুন আগমনী হয় তবে বলবো-
ফিরে চলো এভাবেই আগামীতে আরো সুন্দর রূপে-
আসিব আবার ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে তুই’আমি-
কোনও অন্যরূপে অন্যভাবে নতুন শব্দের ভাষা হয়ে-
যা হয়তো-আমাকে চেনাতে সাহায্য করবে তোকে।। -
কবিতা-কী নাম এই সম্পর্কের
কী নাম এই সম্পর্কের
-সুজাতা দাসঅদেখা এমন সম্পর্ক যা মাতৃ হৃদয়কে ভিজিয়ে দেয়,
হয়তো কোনও দিন দেখাও হবেনা একে অপরের সাথে
তবুও হয়তো মৃত্যুর দিন অবধি সতেজ থাকবে এই সম্পর্ক !
সেই আন্তরিক কোনও সম্পর্কের নাম কী হবে?
কিছু সম্পর্ক থাকে যার কোনও নাম থাকে না,
কিন্তু একটা ভালোলাগা থাকে ঐ সম্পর্কে,
তেমনই একটা সম্পর্ক যদি কারো জীবনে হঠাৎ এসে যায়!
সেই ভালোলাগা কোনও সম্পর্কের নাম কী হবে?
কিছু সম্পর্ক হয়তো এমনও আছে,
কখনও সারা জীবন একে অন্যের সাথে না দেখা করেই ভালোবেসে কাটিয়ে দিয়েছে,
কখনও দেখার তাগিদ অনুভব করেনি এতটা ভালো বেসেও!
সেই সম্পর্কের নাম কী হবে?
কখনও একসাথে বহু বছর কাটিয়ে দেবার পরও একজন আরেক জনের হয়না,
কিন্তু দুজনেই খুব সুন্দর ভাবে সব
কিছুকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করে!ভালো না বেসেও সুন্দর ভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার নাম কী হবে?
কখনও দুই বন্ধু এক সাথে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়,
কিন্তু কেউ কাউকে জীবনে পছন্দ করেনি;
জানতেও পারেনি কখনও দুজনেই,
বাহ্যিক রূপে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখা এই নকল বন্ধুত্বের আসলে কী নাম হওয়া উচিৎ?
ভালোলাগা অনেক সম্পর্ক কোনও কারণ বশত: ভালোলাগা থেকে দুরে সরে যায়,
কিন্তু সম্পর্ক থেকে কেউ বেড়িয়ে আসে না কখনও;
হাই হেলো তে রয়ে যায় সম্পর্ক-ভালো নালাগা এই সম্পর্কের কী নাম হওয়া উচিত্?
আসলে আমরা সকলকে নিয়ে চলতেই ভালোবাসি তাই আমরা মানুষ!
আমরা মানাতে ভালোবাসি মানতেও চাই,
যতক্ষণ আমাদের আত্নসন্মান চূর্ণ বিচূর্ণ না হচ্ছে;যতক্ষণ এই মানানর কাজটা চলতে থাকবে
আমরা নির্দ্বিধায় সমস্ত অসম্পর্ক গুলোকে সম্পর্কে পরিণত করে এগোতে পারবো হেসে-হেসে;
বিনা নামের সম্পর্ক কে নাম দেবার তাগিদেই।
আর নাম না হলেই বা!ক্ষতি আছে বলে কী মনে হয় আপনাদের ?
-
দেবে একটা আকাশ কী উপহার?
দেবে একটা আকাশ কী উপহার?
-সুজাতা দাসএকটা আকাশ কী উপহার পাওয়া যাবে-
যেখানে থাকবে শুধুই প্রশান্তির ঘনঘটা-
যদি তুমি রাখো নতুন দিশা-পথের শেষ প্রান্তে- হঠাত্-আপাতভাবে উড়তে চাওয়া মনটা-
ডানা মেলতে চাইবে-দিক্বিদিক পথ ছাড়িয়ে-
ভেজা মাটির গন্ধটা-হঠাত্ নাকে এসে মন খারাপটা বাড়িয়ে দেবে হয়তো-ছুঁয়ে দেখতে মন চাইবে হালকা হাতে-।
উড়তে থাকা মেঘের আস্তরণ ভেদ করে-আরও আরও উপরে-অদেখাকে দেখার এক আশ্চর্য নেশায় মেতে থাকা-
ফিসফিস অনেক অধরা কথারা-বলতে চাইবে অসময়ে-
নিজের মতো করে পুরোটাই-
কেমন যেন এক মন খারাপের সকালে-হাত ছুঁইয়ে যাওয়া- কিছু বৃষ্টির ফোঁটা- মনটাকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিতে চাইবে-
হঠাত্ আকাশের একদিক থেকে আরেক দিকে-ছড়িয়ে থাকা রঙধনুর ঐ রেখাটা- নিজের সাত রঙ ছড়িয়ে হেসে উঠতে চাইবে-কোনও অলস মূহুর্তে-
তুমি দেবে কী-একটা আকাশ উপহার আমায়?
যেখানে প্রচন্ড ঝঞ্ঝার পর-এক আঁচল মেঘেদের মেলা- হেসে লুটোপুটি খাবে আমার সাথে-
যেখানে অজস্র তারাদের ভীড়ের মাঝেও-আলাদা করে খুঁজে পাওয়া যাবে- আমার সত্ত্বাকে নতুন করে-
যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে-সহস্র সহস্রাব্দের জীবনী-যা তুলোট কাগজে লেখা-রাখা আছে সযত্নলালিত হয়ে লাল শালুতে-যেখানে আজও হয়তো প্রতিনিয়ত শব্দের অর্থবহ সংলাপে-লেখা হবে জীবনের অনেক অজানা তথ্য-এক আকাশ তারাদের মাঝে-
হঠাত্ অজস্র আলোর রোশনাই-দুচোখের তারাতে এক অদ্ভুত দর্শন নিয়ে এলো-
নিকষ কালো মেঘের বুক চিরে ছুটে চলা এক ধূমকেতুর লেজের মতো-এক গুচ্ছ সাদা বকের ডানার উপর-অরুনের শেষ আলোর ঝলক- উচ্ছলিত আনন্দে ভাসিয়ে নিল-
সমস্ত চরাচর হেসে উঠেছিল এক নতুন ভাবনার আলেক্ষে-যা তোমার উপহার না দেওয়া সত্ত্বেও-শুধু আমারই হয়ে রইলো-শুধু একটা আকাশ-