• কবিতা

    কবিতা- অসির গর্জন

    অসির গর্জন
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    তুমি সেদিন আমার হাতেই কলম দিয়ে বলেছিলে-এটা তোমার;
    তখন বুঝিনি এই কলমকে সঙ্গে নিয়েই চলতে বলেছ।
    তোমাকে, তোমার তুমিটাকে আর কোনদিন পাব না!
    পেলামও না।
    সেই কলমই আজ গর্জে ওঠে, কথা বলে।
    ছিন্ন বন্ধনকে টেনে আনে কাব্যের মোড়কে;
    এই ছিল তোমার মনে
    বুঝিনি, বুঝতে পারিনি!
    চারদিকে গভীর অন্ধকার গ্রাস করে ফেলবে,
    ভালোবাসার বেড়িতে বদ্ধ কারাগারে প্রবেশ করতে হবে,
    বুঝিনি তখন জীবনের ছন্দ, গন্ধ,
    গুমরে গুমরে কান্নায় মোড়া টকটকে লাল রক্ত গোলাপটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে ঝরে যাবে;
    বুনেছিলাম এক পৃথিবীর রঙিন আঁকা সব স্বপ্নগুলো।
    ভালোবাসার গোপন ঘরে আমার ভালোলাগা গুলোকে বুকে আঁকড়ে ধরে শুয়ে থাকি।
    যে নড়বড়ে সাঁকোটা দুলে ছিল সেদিন
    বোঝার আগেই দুজনে দুপাশে ছিটকে পড়লাম।
    জল থেকে উঠলাম ঠিকই!
    তবু কেউ কারুর হাতটা ধরতে পারলাম না।
    সেই মুহূর্তকালে মুখের হাসিটা কেমন যেন তরবারির আঘাতের মত ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল,
    বিদীর্ণ করেছিল হৃদয় প্রকোষ্ঠকে,
    ঝর ঝর করে ঝরে পড়া রক্ত প্রলেপ দিল ভালোবাসার ঘরে।
    সেদিন মানুষের মুখের আড়ালে মুখোশের এক ভয়ঙ্কর গন্ধ আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল।
    সব স্বপ্নগুলো কেঁদে কঁকিয়ে বলে উঠেছিল- চাইনা চাইনা এমন পৃথিবী!
    এত মিথ্যা, এত অপরাধ, এত রক্তাক্ত জীবন,
    এমন বন্দী জীবন; এমন দাসত্বের জীবন,
    এমন সংগ্রামের জীবন চাইনি তো কখনো!
    পৃথিবীর আগামী সত্যকে উপলব্ধি করে যে কলম তুলে দিয়েছিলে আমার হাতে
    আজ সেই অসিতেই ছিন্নভিন্ন হৃদয়ের সকল সত্যকে তুলে দিয়েছি বিশ্বমানবের জনজোয়ারে।
    শখের জীবনের পাতায় আর কিছু লিখতে পারবে না।
    ওই ধূমকেতুর মতোই একই আকাশের এখানে সেখানে ছুটে বেড়াতে হবে।
    বেড়াতে হবে স্বাদহীন মুক্তির আকাশে।

  • কবিতা

    কবিতা -“আতঙ্ক”

    “আতঙ্ক”
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    আতঙ্কে আতঙ্কে দিন কাটে
    লাশের ঘরে লাশের স্তূপ,
    পচা গলা দেহগুলো অবাঞ্ছিত
    কেউ আজ দেখে না, দেখতে আসে না।
    ছন্দে ছন্দে আকাঙ্ক্ষাগুলো মুক্তির সন্ধানে।
    সেই সূর্যটা ভালো করে তাপ নিয়ে আসে না;
    স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় শীর্ণতা গ্রাস করে,
    আকাশে মেঘলা দিনের মেঘমল্লার গান,
    বৃষ্টির সখ্যতা বাড়ছে দিনে দিনে,
    বৃষ্টিতে ভিজতে গেলে একাকীত্ব সামনে দাঁড়ায়।
    দূরবর্তী পরিযায়ীরা ক্রমাগত পথ চলে;
    দিন রাত্রির হিসেবের ঘরে বাতি জ্বলে না
    চোখের পাতায় ঝলসানো আলো
    ভীষণ জ্বালাপোড়া পোড়া রুটির আড়ালে।
    সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে আতঙ্কে আতঙ্কে
    আকাশের তারাগুলো মিটমিট করে দেখছে।
    একলা পথ চলা একাকীত্বের সঙ্গী হয়ে;
    শব্দগুলো রুদ্ধ; ভাষা হয়েছে বাক্যহীন
    ছন্দ হারিয়েছে চলতি পথের বাঁকে।
    সবাই যখন হারায় তখন কবিতারা মুখ তুলে চায়
    ঘুমোতে গেলেও নীরবে আর্তনাদ করে ওঠে-
    ব্যথা- যন্ত্রণার, হাসি-কান্নার আতঙ্কিত চাদরে।
    ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো দোল খায় নিরবিচ্ছিন্ন স্বপ্নগুলো;
    বিষণ্ণতার বিনোদনে আতঙ্কের ইতিকথার উপখ্যান,
    আবদ্ধ ঘরে ভো-কাট্টা ঘুড়ির মতো অন্ধকারের কনসার্ট।

  • কবিতা

    কবিতা- অবহেলার দান

    অবহেলার দান
    – সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    বুঝবে সেদিন বুঝবে
    হারিয়ে যাব যেদিন
    বুঝবে সেদিন বুঝবে।
    খুঁজবে সেদিন খুঁজবে
    আকাশ বাতাস ঘিরে
    খুঁজবে সেদিন খুঁজবে।
    ভাববে সেদিন ভাববে
    ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে
    ভাববে সেদিন ভাববে।
    কাঁদবে সেদিন কাঁদবে
    পাগল হয়ে উঠবে
    কাঁদবে সেদিন কাঁদবে।
    ভাসবে সেদিন ভাসবে
    গুমোট ঘরে জলোচ্ছ্বাসে
    ভাসবে সেদিন ভাসবে।
    গাইবে সেদিন গাইবে
    গান না জানা কম্পিত কন্ঠে
    গাইবে সেদিন গাইবে।
    জানবে সেদিন জানবে
    অনুভূতি উপলব্ধিতে জানবে
    জানবে সেদিন জানবে।
    ছুটবে সেদিন ছুটবে
    হাতড়িয়ে স্মৃত কণ্টক পথে
    ছুটবে সেদিন ছুটবে।
    ভাঙবে সেদিন ভাঙবে
    পড়বে মনে সঙ্গোপনে
    ভাঙবে সেদিন ভাঙবে।
    হারাবে সে দিন হারাবে
    হেলায় হারালে যা সখা
    হারাবে সে দিন হারাবে।
    পাবে না সেদিন পাবে না
    মরণ বেলায় হবে শ্রান্ত
    পাবেনা সেদিন পাবে না।
    বুঝবে সেদিন বুঝবে
    যেদিন হারিয়ে যাব,
    যেদিন থাকবো না পাশে,
    যেদিন হাসবো না আর,
    যেদিন কাঁদবো না আর,
    অবহেলে করেছ যে খেলা,
    মর্মে মর্মে উপলব্ধি হবে
    যেদিন কইবো না আর কথা।
    বুঝবে সেদিন বুঝবে
    বুঝবেই সেদিন বুঝবে।

  • কবিতা

    কবিতা- স্বপ্নে আমি আর রবি ঠাকুর

    স্বপ্নে আমি আর রবি ঠাকুর
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    কোন প্ল্যানচেট নয়; তবুও মুখোমুখি আমি আর রবি ঠাকুর
    জোব্বা পরিধানে সামান্য ঝুঁকে দাঁড়িওয়ালা আমাদের রবি ঠাকুর।
    অবাক আমি, বিস্ময়ে বললাম—
    আমার কাছে! আমিতো সাধারণ মেয়ে
    তোমার শরৎ বাবুর লেখা খ্যাতিমান সাধারণ মেয়ে নই আমি।
    এখানে আমার কথা কেউ বলে না!
    এখানে আমার কথা কেউ শোনে না, কেউ চেনে না, কেউ জানে না।
    আমি একা, একাকীত্বই আমার সঙ্গী।
    রবি ঠাকুর শুধু বললেন, “সৃজনশীল মানুষ সমাজের অমূল্য সম্পদ।

    যত্ন করে বাঁচিয়ে রাখ তোর সৃষ্টিকে।”
    আমার অঝোর ধারা নেমে এলো চোখে
    এত আনন্দ, এত মূল্য কোথায় রাখবো!
    এ যেন সাত রাজার ধন পাওয়া!
    তবু আমি বললাম, আমার কথা বাদ দাও ঠাকুর।
    তোমার কথা বল; আমি প্রাণভরে শুনি!
    তখন প্রাণের ঠাকুর বলতে থাকলেন, “আমার সব কথা —
    ওসব পেয়ে যাবি আমার গানে, তানে, গল্পে, কবিতায়, উপন্যাসে।
    ছোটবেলা থেকেই তো আমার সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছিস।
    আমি শুনলাম তোরা খুব অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছিস।
    একদিকে মহামারীর প্রাদুর্ভাব; অন্যদিকে প্রকৃতির অসন্তোষ,
    বিশ্বে মনুষ্যত্বের অবক্ষয়; বিবেকের পতন,
    চেতনার জলাঞ্জলি; ঔদ্ধত্যের রাজ চলছে।
    এ বড় কঠিন সময় রে। সাবধানে থাকিস,
    তোর সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সুন্দর কে পৌঁছে দে জনজোয়ারে।
    গৃহবন্দি মানুষের জীবন দুর্বিষহ! অমলের কথা পড়েছিস?
    কত অসহায় ভাবে জীবন কাটিয়েছে অমল!
    প্রকৃতির সান্নিধ্যে সৌন্দর্যের সম্ভোগে আনন্দ প্রাণ পায়।
    ভিতরে আর বাইরের মেলবন্ধন হলেই প্রাণ জীবন্ত হয়ে ওঠে।
    বুঝলি কিছু!”
    আমি শুধু অবাক হয়ে শুনছি।
    আরো বললেন,”আমাদের সময় স্বাধীনতার লড়াই চলছিল।
    আমাদের প্রাণ দেশমাতৃকার চরণে নিবেদিত ছিল।
    সে সময়ও অস্থিরতা ছিল; কিন্তু মানুষের মনুষ্যত্ব, বিবেক পূর্ণতায় ভরপুর।
    তা না হলে দেশ কি স্বাধীন হতো?
    এই গল্প তো তোর জানা!কি রে
    ঠিক বললাম তো!”
    আমি হতবাক, অবাক চোখে দেখছি, শুনছি গোগ্রাসে।
    এক দারুন অনুভূতি, এক দারুণ আনন্দ
    আমি আবেগের স্বরে বলে উঠলাম, জানো ঠাকুর
    তোমার শান্তিনিকেতনে আমি অনেকবার গেছি।
    সেখানে গেলে সত্যি শান্তি খুঁজে পায়; আমার ভীষণ প্রিয়।
    এত কাছে জোড়াসাঁকোর বাড়িতে কখনো আমার যাওয়া হয়ে ওঠেনি।
    তোমার গানে আমি আমার প্রাণ খুঁজে পাই,
    তোমার কবিতা আমার আবৃত্তি করতে ভীষণ ভালো লাগে।
    তোমাকে কি দিয়ে অভ্যর্থনা করি বলতো ঠাকুর!
    আমার কথা শুনে হাসলেন, বললেন—
    “ওরে পাগলি প্রাণের ঠাকুর কে তো প্রাণেই রেখেছিস;
    ওটাই তো আমার অভ্যর্থনা।
    আমাকে প্রতিনিয়ত মনে করছিস,
    এ তো আমার পরম পাওয়া রে।”
    বলে মাথায় হাত রাখলেন।
    আমি তার চরণে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করতে করতে গেয়ে উঠলাম—-
    “আমার মাথা নত করে দাও হে প্রভু
    তোমার চরণ তলে……………..”

    দেখি মা ডাকছে,’ওঠ আর কত ঘুমাবি।’
    উঠলাম, শুনতে পেলাম এফএম রেডিও তে বাজছে এই গানটা।
    রেশটা অনেকক্ষণ ধরে রইলো!
    কি যে এক অদ্ভুত ভালোলাগা-অদ্ভুত ভালোবাসা,
    অদ্ভুত অনুভূতি তা বলে বোঝানোর ভাষা নেই।

    শুধু মাকে বললাম, কেন ডাকলে?…

  • কবিতা

    কবিতা- কুমির ডাঙা

    কুমির ডাঙা
    – সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    এ কোন সময়ে আমরা রয়েছি!
    এক আকাশ নিষ্ঠুরতা
    ক্ষতবিক্ষত করে হৃদয়-মন,
    ঘুম আসে না;  ঘুমোলে এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কে জেগে উঠি,
    এই বুঝি ভূমিকম্প হবে, এই বুঝি সব ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে যাবে!
    জেগে জেগে যে স্বপ্নগুলো দেখতে দেখতে সময় পার হয়, দিন যায়, রাত যায়
    আবার একটা নতুন সকাল আসে;
    ঠিক তেমনি দিনে জেগে স্বপ্ন দেখা আর রাতে না ঘুমিয়ে জেগে থাকা!
    একে কি বলে! জানা নেই।
    চোখ দুটো ক্লান্ত অবসন্ন;
    বিরাট নীল আকাশের কোণে কোণে কালো মেঘ মেঘমল্লার সুরে গান ধরেছে
    আর আমাদের আতঙ্কের আবরণে মন খারাপের বেলায় শুধুই দুঃখের প্লাবন,
    ভিতরে ভিতরে হতাশার মোড়কে ব্যথা- বেদনা- যন্ত্রণার আচ্ছন্নতা,
    সান্ত্বনা বাক্য সব মিথ্যা; অসমাপ্ত গল্পের ছবি,
    সহনশীল অপেক্ষাগুলো অবসাদ আর নিঃসঙ্গতায় দোদুল্যমান,
    হয় খুব জোরে আতঙ্কে দুলবে নয়তো ছিঁড়ে পড়বে ভালোবাসার দেহটা।
    হামাগুড়ি দিয়ে মৃত্যুর প্রবেশ করছে জীবনের ফাঁক ফোকরে।
    দুর্গম পাহাড়ের ঢাল বেয়ে
    আমরা গড়িয়ে যাচ্ছি এক অতল গভীর খাদে
    নীরবে নিঃশব্দে বেঁচে থাকা অর্থহীন অনুভূতিতে আমরা প্রগলভ।
    ছোটবেলার খেলা —‘কুমির তোমার জলকে নেমেছি’
    “কুমির ডাঙা”খেলার মতই সকলেই ডাঙা খুঁজছি হতাশার অন্ধকারে।

  • কবিতা

    কবিতা- অন্ধকার

    অন্ধকার
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    উন্মত্ত পৃথিবীতে চারিদিকে অন্ধকার
    যেদিকে সকলে ধায় সেখানেও অন্ধকার,
    দশদিক অন্ধকার শুধুই অন্ধকার।
    যে ফুল ফুটবে মনে করেছিল
    সেও ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুকিয়ে গেছে;
    অকালেই ঝরে পড়বে বলেই এ অন্ধকার!
    মানুষের অসম্ভব স্বপ্নের ভিড়ে সব দিশেহারা
    চাওয়া-পাওয়ার সব স্তরেই শুধুই হা-হুতাশ।
    আলোও অপেক্ষা করতে করতে গতি শ্লথ করে ফেলেছে,
    যেখানে আলোর গতি একলক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল প্রতি সেকেন্ডে;
    সেখানেও অন্ধকার; এ যেন কোন অমানিশা নয়,
    যেদিকে তাকাই সেদিকেই ঘুটঘুটে অন্ধকার;
    এটা কি কোন গ্রহণ নাকি রাহুর দশা!
    অঘোষিত অবিরত অন্ধকারের ইতিহাসের পাতা
    যেখানে লেখা আছে জীবন সংকীর্ণ; নিহিত কালের এক নিদারুণ আতঙ্ক;
    যখন জেগে ওঠার থেকে ঘুমিয়ে থাকাই ভালো,
    যখন বাঁচার চেয়ে মরণ সেখানে শ্রেয়।
    আলাপণের গভীরতায় অন্ধকারের আতঙ্ক।
    এ কোন সময়ে আমরা চলেছি ব্যথায়, যন্ত্রনায়!
    যখন নীরবতায় চারিদিক অন্ধকার আর অন্ধকার শুধুই অন্ধকার।

  • কবিতা

    কবিতা- “অচেনা”

    “অচেনা”
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    এ তুমি কেমন তুমি! অবুঝ মনের
    পাষাণ হৃদয়ে নীরবতা সঙ্গোপনে।
    যে উত্তাল সাগরে তোমার বাঁধা ঘর,
    সেথায় নীল আকাশ চরম ব্যথায়;
    ইচ্ছেগুলো নিজের মতো করে সাজান;
    সেখানে স্পর্শ করবে কার এতো সাধ্য!
    ভালোবাসা ইতিহাসের পাতায় গাঁথা।
    বিভোর হওয়া তুমিটা বড়ই অচেনা!
    অভিশপ্ত ভালোবাসা আবেগী বালুকা
    সব মরীচিকা দর্শনে ভ্রম মিথ্যায়।
    বদলানো তুমি নতুনত্বের সৌন্দর্য
    সত্য সুন্দরে তুমি এক জড়ভরত

    যে তুমিকে ভালোবাসা খোঁজে হৃদমাঝে;
    এ তুমি কেমন তুমি অন্তরে বাহিরে।

  • কবিতা

    কবিতা- নীরবে হত্যা

    নীরবে হত্যা
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    ভালোবেসে কি সুখ তুমি জানো?
    জানো না তো!
    হত্যা করেছ অন্তরের ভালোবাসাকে
    নিঃশব্দে, নীরবে।
    ক্ষত-বিক্ষত করেছ হৃদয় প্রকোষ্ঠগুলিকে;
    কত নোনা জলের দাগ অদৃশ্য অবুঝ গালে।
    তুমি কি জানো!জানো না তো।
    জলে ভাসবে বলে সাজতে ভুলে গেছি,
    আত্মদহনে পুড়তে পুড়তে অঙ্গার হয়েছি,
    কতশত জমানো কথার ভারে পাষাণ হয়েছি।
    তোমার ছায়াপথ কতদূর বিস্তৃত তা আমার জানা নেই বলে
    স্বপ্নের ঘরে কত ছবি এঁকেছি–
    সেখানে শুধু তুমি আর তুমি।
    বিশ্বাস, ভরসা সবটাই ছিল দূর অস্ত;
    প্রতিশ্রুতিহীন কথার বাঁধনে বাধা ছিল ভালোবাসা
    যা আলগা হলে সবটা হারিয়ে যায়।
    হাতের উপর হাত রাখাটা হয়ত সহজ ছিল,
    ভালোবাসা সহজ নয়;ভালোবাসতে পারে না সবাই।
    তোমার সান্নিধ্যে বিমোহিত আমার প্রাণ- মন।
    ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ে তার অপূর্ব স্বাদ যদি জানতে!
    অদ্ভুত অনুভূতিতে মাইলের পর মাইল হাঁটতে কোনো যন্ত্রণা হয় না।
    কি সুখ অনুভবে নিভৃতে অবকাশে!
    অভিমান, ক্ষোভের নীরব আর্তনাদেও বলে উঠি ভালোবাসি, তোমাকেই ভালোবাসি।
    বোঝ সে ভাষা!বোঝ সে অনুভূতির কত গভীরতা!
    জানো না তো!জানবেই বা কি করে!
    তুমি যা বুঝেছিলে সেখানে ভালোবাসা মূল্যহীন।
    তাই ছুটে গেছে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে,
    অমন একটা ঝড়ে ছিঁড়ে ছুটে গেলে এমন কি আর হবে!
    কখনও বোঝনি রঙ ভর্তি করা তৈরি ক্যানভাসে
    একটা কালো আঁচড়ে পুরোটা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
    তোমার বোধের ঘর তখন ঘুণপোকাদের দখলে।
    জরাজীর্ণ ভালোবাসার ঘরে তাই হয়ত বন্ধ তালা!
    বিস্তীর্ণ পথ পার হয়ে থেমেছ হতাশার দেশে।
    ভারে ভারে নিঃশ্বাসে জমাট কত কষ্ট,
    পাষাণ করেছ হৃদয়, হয়েছ নির্বাক
    অন্তর দহনের চিল-চিৎকার তোমার একার।
    কখনও বুঝতে পেরেছ ভালোবাসা কী?
    কিভাবে ভালোবাসতে হয়!
    জানো তুমি!জানো না তো
    হয়তো বা জানো; একটু অন্যরকমই জানো।
    অনন্ত পথের ভালোবাসাকে হত্যা করেছ; হত্যা করেছ নিজের মনকে।
    তবু বলবে তো–ভালোই আছি, বেশ আছি।

  • কবিতা

    কবিতা- একটু থামো

    একটু থামো
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    এবার একটু থামো
    থামতে জানতে হয়।
    রাখো তোমার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিচার;
    তোমার বিচারের পদাঘাতে সব তছনছ।
    কারো চোখে জল তো কারো মুখ ম্লান,
    কারোর নীরব দীর্ঘশ্বাস তো কারোর নীরব অভিমান!
    আকাশ যেমন একটি তারার আশ্রয় স্থল,দিনহীনের ছত্রছায়া,
    বটের ছায়া যেমন পথমধ্যে পথিকের প্রাণ,
    সাগরের তরঙ্গ যেমন জীবনের ছলাৎকার আনন্দ;
    তেমন ভাবে ডালপালা বিছিয়ে দাঁড়াও; একটু থামো
    প্রতিশ্রুতিরা প্রতিষ্ঠার আলোয় গান করুক।
    হাতের উপর হাত রাখ; চোখের ‘পরে চোখ
    হয়ত বা অতি সহজ নতুবা খুব কঠিন কাজ;
    মায়া-মমতার আধার ঘিরে দেখাও তেমন দাপট,
    শীতলতার পরশ দিয়ে আস্ফালন করো দূর,
    এক লহমায় অতিক্রম করো সব বাধার সমুদ্দুর।
    এবার তুমি থামো।তোমাকে থামতেই হবে অধরা অধিকারে।
    থামো তুমি।থামতে জানতে হয়
    নইলে সবকিছুকেই হারাতে হয়; হারাতেই হয়।

  • কবিতা

    কবিতা- ভুল

    ভুল
    -সুমিতা পয়ড়্যা

     

     

    মূল্যহীন জলেই তৃষ্ণা মেটে
    জলবিহীন তৃষা জাগে কেমনে!
    জলেরই অপর নাম জীবন
    তৃষ্ণায় আসে মরণ।

    মরণের পরে সব ভালো লাগে
    বেঁচে থাকতে নয়
    নিঃশ্বাস তো সবাই নেয়
    মূল্য কজনে দেয়!

    ভালোবাসা আজ মূল্যহীন
    অহংবোধে আমি
    পরার্থবোধে সব ভুল
    স্বীয় বিশ্বাস অনেক দামী।

    জলের কোনো মূল্য নেই,
    মৃত্যুর কোনো মূল্য নেই,
    ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই;
    বিশ্বাস যখন ভুলেই ভরা
    তখন তাকে বোঝাতে পারবে কে
    ঐ মহাশূন্যের ঈশ্বর ছাড়া!

    অদৃশ্য লোকে হাতড়ায় যারা
    আত্মকেন্দ্রিকতার ঘোরে
    সত্যিকারের মানুষ যেথায়
    পায় না খুঁজে চোখ বন্ধ করে।

    তারাই আবার বড়াই করে
    মানবতার গান গায়
    হায় রে সমাজ কি বিচিত্র সাজ
    লজ্জাহীনের কি বোধগম্যের দায়!

    ভুলে ভরা জীবনে আজ কতই না রং
    কোনটাতে কত মূল্য কিচ্ছুটি জানা নেই
    বিশ্বাসের ঘরে মিথ্যার ফাঁদ, ভুল দিয়ে গাঁথা
    মূল্যটা সে জানবে কেমনে; সত্যিটাতে সব ফাঁকা।

<p>You cannot copy content of this page</p>