-
কেন যে!
কেন যে!
-কৃষ্ণ বর্মনশান্ত বিকেল সোনালী সকাল
তারা খসা রাত মলমল পথ
সজ্জিত রথ—-
কথা দেওয়া এর কোনোটাই তোকে দেওয়ার মতো সামর্থ্য
আজো গড়ে ওঠেনি আমার।
কথা আর কল্পনার কারসাজিতে
স্বপ্নের বুননে পারদর্শী ছিলাম যতটা
বাস্তবে তার চেয়েও আনকোরা আমি।আদর্শ প্রেমিক ছিলাম আমি
দার্শনিক সহযাত্রী নই।ভীষন বোকা তুই।
আজও কেন যে বিশ্বাস করিস!
ভরসা রাখিস আমার উপর! -
বুদ্ধিজীবি বুদ্ধিজীবি
বুদ্ধিজীবি বুদ্ধিজীবি
-কৃষ্ণ বর্মনবুদ্ধজীবি বুদ্ধজীবি ,
বুদ্ধি তোমার কই?
আমার ছেলে অনশনে
অপরাধী বই।বুদ্ধিজীবি বুদ্ধিজীবি,
তুমি কি ঘুমাও?
আমার মেয়ের গর্ভপাত
যন্ত্রনাটা ফাও।বুদ্ধিজীবি বুদ্ধিজীবি,
বোধে অনটন?
তাই বুঝি না লেখার
করেছো আজ পন?বুদ্ধিজীবি বুদ্ধিজীবি,
তোমার মাথায় ছাদ,
ওদের খোলা আকাশ
যৌবনে বরবাদ।বুদ্ধিজীবি বুদ্ধিজীবি,
তোমার কলম কই?
শেষযাত্রায় ছড়িয়ে দিও
তোমার শব্দ খই। -
যতটুকু রঙীন হলে
যতটুকু রঙীন হলে
-কৃষ্ণ বর্মনযতটুকু রঙীন হলে আমার আমি অচেনা হয়ে যাবে না
যতটুকু রঙ লাগালে
রঙের কোনো ক্ষোভ বা ঈর্ষা হবে না
আমি ঠিক ততটুকু রঙীন হতে চাই।আমি চোখের সামনে দেখেছি
রঙ কিভাবে রঙের শত্রু হয়ে ওঠে।
কোনো বিধি নিষেধ রঙের সাথে রঙের বিরোধকে
নিষ্পত্তি করতে পারেনি।
যারা হিসেব কষে রঙীন হতে পেরেছে
আপোস করতে তাঁদের কোনো অসুবিধা হয়নি।
বেহিসেবী রঙের নেশারী চাইলেও পারে না
নৈঃশব্দের রঙকে আপন ভাবতে।চিহ্নিত রঙকে বরাবর সাপলুডোর গুটির মত
চরাই উতরাই পেরোতে হয়েছে।
রঙের ধূলা যে যত তাড়াতাড়ি শরীর থেকে ঝেরে ফেলতে পারে
সে তত বেশী আধুনিক আর মানানসই হয়ে ওঠে।
বোকারাই সাদা কালোকে রঙ ভেবে
আলো কিংবা অন্ধকারের পক্ষ নিয়ে
জগদ্দল পাথরের স্বীকৃতি পায়।রঙে আমার কোনো ছুৎমার্গ নেই।
রঙকে ভয় পাওয়ার মত অতটা কাপুরুষ আমি নই।
অবহেলা কিংবা উপেক্ষা করে এই টগবগে বসন্তে
বেরঙীনের বদনাম কুড়োতেও আমি প্রস্তুত নই।
আমি শুধু আমার আমিটাকে আগলে রাখতে চাই।
তাই যতটুকু রঙীন হলে আমার আমিটা
অচেনা হয়ে যাবে না,
আমি ঠিক ততটুকুই রঙীন হতে চাই। -
নারী বিগ্রহ কথা….
নারী বিগ্রহ কথা….
-কৃষ্ণ বর্মননারী শুধু বিগ্রহ পূজার জন্যই
প্রতিদিনের নিগ্রহে তাই ভ্রুক্ষেপ নেই কারও।
সেজে ওঠে আলোর মালা বেজে ওঠে বাঁশি
মন্দিরে মন্দিরে মন্দ্রিত হয় উপাসনা মন্ত্র
তবুও মন্দ কপালের বন্ধ কপাট খোলে না।
উপাচার আর উপবাসে উৎসর্গীকৃত হৃদয়
উপাস্তু বিগ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠায় বিহ্বলিত হয়,
অথচ প্রাণদাত্রীর বেঁচে থাকার আপ্রাণ আর্তনাদে
বিচলিত হয়না বিন্দুমাত্র।আকণ্ঠ অলঙ্কারে ভূষিত বিগ্রহের দশ হাতে
দশবিধ অস্ত্রের সজ্জায় শক্তি অর্পনে
প্রদর্শিত হয় শক্তিয়ায়ন বা ক্ষমতায়নের মহানুভবতা,
ধ্বনিত হয় স্বাগত শঙ্খধ্বনি,
প্রজ্জ্বলিত দীপশিখার নীল রক্তে
শক্তি নিঃশেষ হয়
বৃহত্তর শক্তির শুভকামনায়।
বাস্তবে অশক্ত অসহায় নারীর জীবনে পৌছায় না
কোনো উপাচার কিংবা সুবিচার।
উদাসী বিষাদে আরও তীব্র হয়ে ওঠে
বেদনার অদৃশ্য আলোড়ন,
শরীরে বিষের প্রভাব
নিথর নিস্তেজ নির্বাক মন।বিগ্রহে আগ্রহ জাগে
সাগ্রহে অনুগ্রাহী সমাগম
নারী শুধু বিগ্রহে নয়
বাস্তবেও সে সক্ষম। -
দিন বদলের কবিতা
(বদলা নয় বদল চাই……..)
দিন বদলের কবিতা..
-কৃষ্ণ বর্মনবদলা চাইছেন যারা তাঁরা কি নিজেদের বদলাতে রাজী আছেন?
যে বিয়াল্লিশ জন শহীদ প্রাণ হারালো
তাঁরা এমনি এমনি শহীদ হননি।
তাঁরা মাইনাস চল্লিশে কর্তব্য আর দেশপ্রেমের
উষ্ণতা নিয়ে জেগে থাকতেন
যাতে আপনারা নিশ্চিন্তে নিরাপদে
উপভোগ করতে পারেন ঘুমের স্বাধীনতাকে।
তাঁরা দূর্গা পূজা, ঈদ, গুরু নানকের জন্মদিনে
প্রিয়জনের কাছে ফেরেননি
যাতা আপনারা পরিবার পরিজনের সাথে
উৎসব উপভোগ করতে পারেন নির্বিঘ্নে।
মা যখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী
তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন দেশমাতার শত্রুদের
অন্তিম শয্যা আয়োজনে।তাঁরা আহত সহযোদ্ধাকে কাপুরুষের মত
পিছনে ফেলে রেখে আসেননি কখনো।
সন্ত্রাসের আক্রমণে নিরীহ মানুষকে
নিজের কাঁধে পৌছে দিয়েছন নিরাপদ আস্তানায়।
সুনামী, ভূমিকম্প কিংবা দূর্ঘটনার চরম বিপদসঙ্কুলতায়
তাঁরা নির্ভয়ে নেমেছেন দুর্গম গিরি কান্তার মরু
কিংবা দুস্তর পারাবারে।তাঁরা যুদ্ধ করতেন যুদ্ধের জন্য নয়।
তাঁরা যুদ্ধ করতেন শান্তির জন্য।
তাঁরা বুলেট ছুঁড়তেন অহেতুক প্রাণনাশের জন্য নয়।
তারা বুলেট ছুঁড়তেন মাথায় মস্তিষ্কে
জমে থাকা জেহাদ আর সন্ত্রাসকে ধ্বংস করার জন্য।তাঁরা বদলা চাইতেন না।
তাঁরা বদল চাইতেন।
বদলার বদলে বদলার মৃত্যু উপত্যকাকে
শান্তির স্বর্গোদ্যানে রুপান্তরের স্বপ্ন দেখতেন তাঁরা।
আজ যারা তাঁদের মৃত্যুতে বদলার ধোঁয়া তুলছেন
ট্রেনে, বাসে, ফেসবুকে, টিভির পর্দায়
তাঁরা নিজেদের বদলাতে রাজী আছেন তো?কাল থেকে নিশ্চয়ই আপনারা সকলে
সৎ আর সত্যনিষ্ঠ থাকবেন
পরিবারে, সমাজে, কর্মস্থলে, দেশের প্রতি।
নিশ্চয়ই ভারতের কোথাও টেবিলের তলায় হবে না লেনদেন,
আড়ালে আবডালে হত্যা করা হবে না কন্যা ভ্রণকে,
বৃদ্ধা মা বাবা বৃদ্ধাবাস থেকে ফিরে আসবে পরিজনের মাঝে।
টগবগে যৌবন যাঁদের শিরায় ধমনীতে এখন বদলার পারদ স্রোত
তাঁরা নিশচয়ই পরীক্ষায় নকল করা থেকে বিরত থাকবে,
মাদকাসক্তির মধুচন্দ্রিমা থেকে বাস্তবে ফিরে
রুখে দাঁড়াবে সমস্ত অন্যায় আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
কাল থেকে ধর্ষণ আর বধূহত্যার শিরোনামে
অলঙ্কৃত হবে না কোনো পত্রিকার প্রথম পাতা,
সব শিশুরাই নিখাদ আনন্দে উল্লাসে হবে স্কুলমুখী।
সত্যিই এরকম অসংখ্য বদলকে শীলমোহর দিয়ে
পুরো ভারতটাই আগামীকাল থেকে–
না না আগামীকাল কেন
আজ থেকেই পুরো পাল্টে যাবে,
যদি আপনাদের বদলার দাবীকে স্বীকৃতি দিয়ে শুরু হয়
আরেকটা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।আপনার যদি সত্যিই সত্যিই বদলে ফেলেন নিজেদের,
বদলে দেন দেশটাকে,
তবে আমি কথা দিচ্ছি
আমিও চাইবো বিলাল্লিশটি তরতাজা প্রাণের
প্রতিটি বিন্দুর রক্তের হিসেব।
আমিও শ্লেষ, ব্যঞ্জনা আর উপহাসের সব কৌশল পাল্টে
আপনাদের বদলার স্লোগানের সাথে কন্ঠ মেলাবো,
পায়ে পা মেলাবো রক্ত ভেজা বদলার পথে,
আমার লেখনীর তীব্র ঘৃণা আর প্রতিবাদে লিখবো
বদল নয় বদলার কবিতা। -
পতঙ্গ
পতঙ্গ….
-কৃষ্ণ বর্মনবিহঙ্গের সাথে বৈরীতা নেই
অথচ রয়েছে ঈষৎ ঈর্ষার শীতল স্রোত।
পরশ্রীকাতর পাখনা তাই ডানা ছিনতাই করতে চেয়েছে বারবার,
আকাশ ছুঁতে পারেনি বলে
মাটিকেও মাটি বলে স্বীকার করেনি কখনো।
অঙ্গে অঙ্গে পতিত ভাবনার সহবাস।
একটা পচন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে
মস্তিষ্ক হৃদয় শিরায় উপশিরায়।আলোর আল বেয়ে মুখ গুঁজে চলতে চলতে
হঠাৎ উড়ুক্কু ইচ্ছে পাখনা মেলেই
মুখ থুবরে পড়েছে অন্ধকূপে।
এলোমেলো পথ আর ঝাপসা দৃষ্টির
অগোচরে একটা তীব্র অর্ন্তদাহ
অন্তরে অন্তরে অন্তরকে বনান্তরের ব্যবধানে
মনান্তর ঘটিয়ে দিয়েছে অন্তিম রায়দানের মুহূর্তে।
আকাশটা তাই আপন হয়ে উঠতে পারেনি।
আপন পাখনাটাও আকাশ হতে পারেনি।
বিহঙ্গের সাথে প্রকাশ্যে বিরোধ বা বিবাদ না করেই
পঙ্গুত্বকামী পতঙ্গ তাই বিরাগে বীতশ্রদ্ধায়
অঙ্গে অঙ্গে বিষের চাষ করে চলেছে
একদিন সমস্ত শিষ্টাচার আর সৌজন্য লঙ্ঘন করবে বলে। -
আমি শোকাহত নই…
আমি শোকাহত নই..
-কৃষ্ণ বর্মন
শোকাহত,শোকস্তব্ধ,মর্মাহতের শব্দ ভান্ডারে ক্রমশ জমছে
সমবেদনার চোখের জল।
আক্রোশের ছাইছাপা আফসোস হতে চাইছে
মর্মভেদী তীব্র চীৎকার।
সংবাদে,বিবাদে,প্রতিবাদে দোষারোপ আর প্রতিশোধের সুর।
যারা রাস্তায় পড়ে থাকা নিথর কিংবা আহত মানুষকে
সচেতনভাবে এড়িয়ে যায়,
নিজের বৃদ্ধা মাকে ফেলে আসে ফুটপাথে
কিংবা অবহেলায় রাখে সিঁড়ির নীচে
তাঁরা সবাই আজ দেশপ্রেমিক।এইসব ছবি ছাড়াও আরো কিছু ছবি আছে
যেখানে কোনো দিন পৌছাবে না
সান্ত্বনা কিংবা ক্ষতিপূরণের প্রলেপ।ঘুমোতে যাওয়ার আগে আজ আর ফোনে গলা শুনতে পায়নি
শহীদ জওয়ানের শিশুকন্যা।
সামনের মাসেই বাড়ি ফিরে যে দাদার
কেনার কথা ছিল বোনের জন্য লাল বেনারসী,
সে এই প্রথমবার বাড়ি ফিরবে কোনো দেরী না করে,
বরং কথা দেওয়া দিনের বহু আগেই
তেরঙা পতাকাকে বুকে জড়িয়ে।
জীবনে প্রথম বাবা হওয়ার আনন্দকে
প্রেয়সীর মাথার পাশে থেকে ভাগ করে নেবে
অথবা সন্তানের হৃদস্পন্দনে বুকে জড়িয়ে
অনুভব করবে বলে ভেবেছিল যে সৈনিক
সে আজ নিজেই স্পন্দনহীন।
অলিন্দে বসে থাকা ক্ষীণ আঁখি দুটি
নিজের জীবনের গোধূলী বেলায়
সূর্যাস্তের আগেই শূন্য হাহাকারে স্বাগত জানাবে
বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়ের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন সোনার টুকরোকে।আক্রোশ ক্রমশ স্তিমিত হয়ে যাবে।
আক্রমনের ঝাঁঝালো ইচ্ছেও নিস্তেজ হবে।
আবার হাতে হাত মিলিয়ে আলিঙ্গন করবে রাষ্ট্র নায়কেরা
বিদেশী বন্ধুর পতাকা তলে।
সামনের বিশ্বকাপে দেশবাসী মেতে উঠবে
ভারত পাকিস্তানের খেলার চুড়ান্ত উত্তেজনায়।
সব ক্ষত মিলিয়ে যাবে।
উথলে ওঠা দেশপ্রেম মিলিয়ে যাবে নিস্তরঙ্গ নিথরতায়।
মোমবাতিগুলো ফুঠপাথ কিংবা শহীদ বেদী থেকে
স্বমহিমায় ফিরে যাবে
ভ্যালেন্টাইন ডে-র ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের টেবিলে।এভাবেই ২৬/১১ হারিয়ে গেছে
জনস্রোতে কিংবা দেশেপ্রেমের ভীরে।
১৪/০২-ও এভাবেই একদিন সুস্হ হয়ে উঠবে
মিলিয়ে যাবে সব ক্ষত
চির তিমিরে আর বেদনার গভীরে রয়ে যাবে শুধু
শহীদের পরিবার যত। -
বেঁচে থেকো আলো.
বেঁচে থেকো আলো.
-কৃষ্ণ বর্মন.সবুজ সবুজ অনুভূতি উপেক্ষিত বারবার;
বঞ্চনার তীব্র প্রদাহে ম্রীয়মান আবেগ;
অজান্তেই হেঁটে যাওয়া আত্মঘাতী পথ;
কবরে কবরে ঘৃণার স্মারক স্তুপ;
পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কুঞ্জে
মাতাল মক্ষীর তন্দ্রা যাপন—
মুহূর্তগুলো এভাবেই মৃত্যুর মুখোমুখি বসেও
মিথ্যের প্ররোচনা অস্বীকার করে
সত্য আর সত্যির প্রতিবিম্ব আঁকে
বর্তমানের চোখের তারায়
স্পন্দনে স্পন্দনে নান্দনিক অনুরনন খোঁজে
মনন আর মননশীলতার আতস কাঁচে,
কণায় কণায় সংঘর্ষ অনিবার্য বারবার
তবুও আলো আলোতেই বাঁচে। -
একুশে এক লজ্জার দিন…
একুশে এক লজ্জার দিন…
-কৃষ্ণ বর্মনএকুশে গর্বের নয়
একুশে এক লজ্জার দিন।
আমার ভীষন লজ্জা হয়
সারা বছর যারা প্রতিদিন উন্মুক্ত করে ভাষার আব্রু
তাঁদের গায়ে মিথ্যে ভাষা প্রেমের পোষাক দেখে।
একুশের একুশ হওয়াতে যাদের কোনো অবদান নেই
এমনকি একুশের উত্তরসূরীর পরিচয় যারা
ভুলে থাকে সজ্ঞানে সচেতনভাবে
তাঁরা যখন অমর একুশকে আমার একুশ বলে দাবী করে
আমি তখন লজ্জিত হই।
আমি লজ্জায় লাল হয়ে যাই
প্রভাতফেরীর সাথে হাঁটতে হাঁটতে আমার ছোটো বেলার
বাংলা মাধ্যমের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা
চিরকালের মত বন্ধ দেখে।আমার বাংলার বুকেও রেলের কামরায়
হিন্দী আর ইংরেজীতে ঘোষনা শুনতে শুনতে যেতে
আমার লজ্জার পরিমান আরও বেড়ে যায়।
প্রতিদিন যখন আমার ছেলেই সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফেরার পর
“গুড ইভিনিং ড্যাডি” বলে স্বাগত জানায়
তখন আমার লজ্জাকে লুকানোর কোনো জায়গা খুঁজে পাই না।
এই আমিকেই আবার একুশের সকালে
পাড়ার মোড়ে কিংবা বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে
একুশের কথা বলতে হলে
আমি ভিতরে ভিতরে লজ্জায় শেষ হয়ে যাই
অথচ মুখ ফুটে প্রকাশ করিনা না
কারণ আমি নিজে যা বলি
অনেক সময় আমি নিজেই তা বিশ্বাস করিনা।একুশে আমার কাছে তাই গর্বের নয়
একুশে এক লজ্জার দিন। -
আলাপ সংলাপ…
আলাপ সংলাপ…
-কৃষ্ণ বর্মনআলাদা করে কোনো আলাপকেই আজ আর মনে পড়ে না।
শুধুমাত্র নিজের সংলাপকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে
সামনের মানুষটির কথা শোনার সময় হয়ে ওঠে না।
সংলাপে সংলাপে শুভেচ্ছার পুষ্প স্তবক সাজাতে গিয়ে
শোকের মালা গাঁথা হয় শব্দের সাথে শব্দ জুড়ে।
ঔদ্ধত্য আর অহঙ্কারে ম্লান হয়ে যায়
বিপরীত কিংবা পার্শ্ববর্তী মৃদু কন্ঠস্বরগুলি।
অনুভব,আবেগ আর চেতনার লাশ
মৌনতার চাদর জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
অবহেলা আর উপেক্ষার বেদনা
এড়িয়ে যাওয়ার জন্য।অথচ এক সময় আলাপ জমত।
আলাপী সময় আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকত
আলাপী আপনজন কিংবা অপরিচিত জনকে।
সংলাপে সংলাপে আলাপের আন্তরিকতায়
প্রলাপও বিলাপের প্রলেপ ভুলে
আলাপের অভয় বানীতে আশ্বস্ত হত;
বিশ্বাস করত আলাপী আরোগ্যের বৈধতাকে।এখন আলাপে আগ্রহী নয় কেউই।
আলাপকে এখন সন্দেহ।
আলাপকে এখন ভয়।
আবার যদি আলাপ জমে ওঠে,
স্বৈরাচারী সংলাপের পরাজয়।