-
কবিতা- “অমৃতের সন্ধানে”
“অমৃতের সন্ধানে”
-সুমিতা পয়ড়্যাসে এসেছিল..
ওই যে দূরে অশ্বত্থ গাছটা
ঝিরঝির হাওয়া পাতা নাড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছিল,
এক চিলতে রোদ্দুর উঁকি দিয়ে দেখেছিল-
এক মাথা অবিন্যস্ত চুল,
ক্লান্ত পথিকের মতো উদাসী আনমনা,
খুঁজছিল তার চোখ; খুঁজছিল তার আপনার আপনজনকে
সে বলেছিল, ভালোবাসা দেবে-ভালোবাসা!
শুধু ভালোবাসা চেয়েছিল।
সে খবর জানে কজন!
কান পাতলেই শোনা যায়
ভালোবাসা দেবে…ভালোবাসা।
এক ভিখারী!
ভালোবাসার ভিখারী, গভীর রাতে স্বপ্ন দেখা ভিখারী,
ভালোবাসার পাওয়ার কাঙাল ভিখারী,
একাকী পথ চলার ভিখারী।
সে বলেছিল- একবার ভালোবেসে দেখো
আগুনে পুড়বে, কত ক্ষত সৃষ্টি হবে গভীর গোপনে
কলঙ্কিত চাঁদের মত জীবনে কালিমা লেপন দেবে
তবু বুকের মাঝে বোধের এক শিহরিত অনুরণন।
যার বোধ সুক্ষ্ম, ব্যাপ্তি অনেক।
কেমন এক ভালোলাগা অমৃতের স্বাদ।
ভালোবাসার ভিখারী সে।
ভালোবাসা চায়; অপূর্ণতার সাঁঝ-সকাল
সে এসেছিল। বার বার আসে
প্রতীক্ষার অনাহারে ভালোবাসা খোঁজে-
ভালোবাসা দেবে- ভালোবাসা…. -
কবিতা–“গল্পটা দুজনেরই”
“গল্পটা দুজনেরই”
-সুমিতা পয়ড়্যাগল্পটাতো দুজনেরই ছিল
তবে একজনেরই কান্না হল কেন?
মনে হয় ভালোবাসা অন্যের হয়ে বেঁচে থাকে।
বাস্তবতা এটাই–মিলন হবে না।
ভালোবাসা হারালে কষ্টগুলো কঁকিয়ে ওঠে।
কাউকে পূর্ণতা দিয়ে শূন্য হবার কালে
সত্যিই কি মিথ্যা আবেগ; সত্যিই কি অভিনয়?
আবেগের খেলায় মানুষের জীবন মরণ।
তবু কেন হৃদয়ে শিহরণ তোলে মর্মর ধ্বনি!
জীবনটাকে সিক্ত করে রাখে মুন্না ধারায়
নাটক নাকি উদ্ভাসিত মায়ার টান!
মনের গভীরতা অনুভূতি সব অধরা।
ছোট্ট জীবনে ভালোবাসার মানুষ ভালোবাসারই থাকে।
ভালোবাসার পাগল এক নিঃশ্বাসে পাহাড় চূড়ায় উঠতে পারে,
আকাশ ভরা মুক্তধারার মুক্ত বাতাসে উড়তে পারে,
অদেখা অচেনা পাতালপুরে ঢুবতে পারে।
তবুও মানুষ একা।
তবু মানুষ কত অচেনা।
অপেক্ষারা প্রতীক্ষায় বসে থাকে তার আপনজনকেই পাবে বলে!ভালোবেসেই তো গল্পটা শুরু হয়েছিল
তবে একা হলো কেন!
চলে গেল, মুছে দিলো সব এক। কথাও বললো না।
কিন্তু মুছলো কি? গল্পটা তো সেই লেখায় থাকলো।হারিয়ে গেল অনেক কিছুই।
হারিয়ে দিল কিন্তু সত্যিই হারাতে পারলো কী! -
কবিতা–“অন্তত একজন”
“অন্তত একজন”
–সুমিতা পয়ড়্যাপ্রত্যেকের একজন কেউ থাকুক
ইচ্ছেরা সেখানে গুরুত্ব পাবে,
ভরসাগুলো ডালপালা মেলে ধরবে;
ছত্রছায়ায় বিশ্রাম নিতে কষ্টটা থাকবে না।প্রত্যেক মানুষের এমন একজন মানুষ থাকুক
যেখানে সারাক্ষণ খুনসুটি চলবে,
যেখানে দোষারোপের পরও ভালোবাসা থাকবে;
যেখানে নিজেকে ছোট করতেই ভালো লাগবে।প্রত্যেকেরই এমন কেউ থাকুক
হারতে চাইলেও হারতে দেবে না,
আসমুদ্রহিমাচল এর মত সব বাধা দূর করে দেবে;
ইচ্ছে করলেই ভুলটা সংশোধন করে দেবে।একজন, অন্তত একজন কেউ থাকুক
যে শুধু বলবে ভালোবাসি ভালোবাসি,
অনেক বকাঝকার পরও জড়িয়ে ধরে বোঝাবে;
ক্ষমা করে দেবে অনুক্ষণ।থাকুক না এমন একজন
অন্তত কেউ একজন—-
যাকে ভুলে থাকা যাবে না
যাকে না ছুঁলে ঘুম আসবে না
যার কাছে হারতেই ভালো লাগবে
যাকে না পেলেও এক অনন্য স্বাদ অনুভূত হবে।থাকুক না এমন কেউ
প্রত্যেকের একজন কেউ থাকুক।
থাকুক না কেউ একজন চিরদিন। -
কবিতা- খেলাঘর
খেলাঘর
-সুমিতা পয়ড়্যাকবিতারা নাকি শব্দের খেলাঘর
কলম সেখানে খুনসুঁটি করে
খোঁচা দিয়ে বেদনা ভালোবাসাকে জাগ্রত করে,
মনের ঘরে মন তো উড়নচণ্ডী
ছুটে চলে মায়ার টানে।
কখনো বালিশ ভিজে তো কখনও ঝরে মুক্ত দল
নিঃশ্বাস ঘন বাষ্পে ভারী হয়ে যায়
শূন্যতা গুলো হু হু করে বইতে থাকে;
অসহায় ক্ষরিত অনুভূতিগুলো শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে কবিতারা গড়ে তোলে তার কবিতার সম্রাজ্য।
রাত জেগে ছন্দ মিলায়ে আবার শান্ত স্নিগ্ধ অপূর্ণতার,
সাধ্যের ঝাপসা আলোয় আগমনী গান গেয়ে ওঠে,
বেদনার ক্ষত নিয়ে পিপাসিত মন সুখের ছবি আঁকে,
আর স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা খুঁজে ফেরে তার স্বপ্নের পাগলকে।
বাস্তবে হোক কিংবা কল্পনায় ভাষা থেমে থাকে না;
কবিতারা উদাত্ত কণ্ঠে হাঁক দিয়ে ওঠে
বলে ওঠে–“তোমরা বুঝবে না
কোনদিন তোমরা বুঝবে না।”
কবিতারা একাকিত্বের কথা বলে,
নির্জনতার কথা বলে, উদ্দীপনার কথা বলে,
অভিমানগুলোকে রাঙিয়ে তোলে;
বাস্তবতার করুণ, মলিন ঝাপসা দৃষ্টিগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়ে অতীতের স্মৃতিকে যত্ন করতে জানে।
ভবিষ্যতের গন্তব্যকে সুন্দরের পরিকল্পনায় কবিতা আপন আলোয় আপন মনে খেলতে পারে!
খেলা ঘরে কবিতারা শব্দের খেলা খেলতেই ভালোবাসে। -
কবিতা- সে আসবে বলে
“সে আসবে বলে”
-সুমিতা পয়ড়্যাসে আসবে বলে–
ঝরা পাতারা বলেছিল
আর একটা দিন থাকি।
সে আসবে বলে—
পান্ডু বর্ণের সবুজেরা
করেছিল কানাকানি।
সে আসবে বলে–
ঘাসের শিশিরবিন্দুগুলি বলেছিল
দিগন্তের সূর্য দেরিতে এসো।
সে আসবে বলে–
ভোরের পাখিরা গান ধরেছিল
“এসো এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে……”সে আসবে বলে–
নীল আকাশের গায়ে চন্দ্রটা
তখনো আলো ছড়াচ্ছিল।
সে আসবে বলে–
ফোটা ফুলেরা ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে
মৃদু মন্থর বাতাসে দুলছিল।
সে আসবে বলে–
দোয়েল কোয়েলরা আনন্দরাগে
তান ধরেছিল।
সে আসবে বলে
বিবর্ণ মলিনতারা জীর্নতারা
সোহাগে রঙ ঢেলেছিল।
সে আসবে বলে–
বন্দি খাঁচার পাখিরা উড়বে বলে
ডানা মেলে ছিল।
সে আসবে বলে–
শূন্যতারা পূর্ণ হবে বলে
অপেক্ষা করেছিল।
সে আসবে বলে–
আকাশে বাতাসে রঙে রঙে
বসন্ত রেঙেছিল।
সে আসবে বলে–
পরাগ, সৌরভ, ফেরারি মনেরা
ব্যাকুল হয়েছিল।
সে আসবে বলে–
শিহরিত মন কম্পনে কম্পনে
স্বপ্ন দেখেছিল।
সে আসবে বলে–
অসম্ভবের সঙ্গত উৎসবে
নীরবতারা হেসেছিল।
সে আসবে বলে–
এসেছিল সবাই, আমিও
প্রতীক্ষিত অন্তরে আবাহন জানিয়েছিল।
মহামিলনের মহাসঙ্গমে আপনার আপনজনকেই
সবাই খুঁজেছিল। -
কবিতা- ছন্দপতন
ছন্দপতন
-সুমিতা পয়ড়্যাআমি এক স্বপ্ন দেখা মানুষ দেখেছি
যে সকলের উষ্ণতাগুলো সুন্দর করে রোপন করেছে,
একাকিত্বের ভিড়ে অশ্রুধারায় জলসিঞ্চন করেছে,
নৈসর্গিক প্রেমের বিন্দুতে একা রাত জেগেছে।
তবু ভালোবাসার অতল গহবরে পৌঁছাতে পারেনি।যে ভালোবাসার শিকড় বহুদূর পর্যন্ত ব্যাপৃত
যেখানে স্বপ্নের পাগলাঝোরা জল ঢেলেছে,
শুধু বাঁচিয়ে রেখেছে ডালপালা মেলে ধরে;
সযত্নে চয়ন করেছে অনন্তকালের সুখ ভেবে
গোপনে এঁকেছে স্বপ্নের সাদা ক্যানভাস
একটুও কাটাকুটি নেই; শুধুই জলছবি।
তবু ভালোবাসার ঘরে শূন্যতায় ডুবে গেছে।স্বপ্ন দেখা মানুষের সেই অনন্তকালের প্রেম, অনন্তকালের স্বপ্নকথারা গুমরেছে
চুপকথারা চুপ করে থাকে অনন্ত রাত জেগে
শুধু দেখেছে ভালোবাসার কত রং, কত রূপ, কত গন্ধ;
তবু ভালোবাসার কথা শুনতে পায় নি।সুপ্ত ভালোবাসা পারেনি ভালবাসতে
পারেনি সাবেকি ফুল ফোটাতে;
কোথাও হয়তো সিঞ্চিত জলের অভাব ছিল!
অভাব ছিল কথার রাজ্যে না বলা কথাদের
অভাব ছিল কথার রাজ্যে শব্দচয়নের
তাই কোনো ভালোবাসার কথা বলতে পারেনি।
তাই হয়তো কেউ ভালোবাসার কথা বলে নি!স্বপ্নে শুধু দেখেছে স্বপ্নের আপনজনকে
জীবনের কথা বলা মানুষ স্বপ্নের কথা হয়েই রয়ে গেল
গভীর গোপনে নোনা জলের স্বপ্ন সুখ অনুভব করেছে বারংবার
তবু ভালোবাসার ঘরে আগুন জ্বালাতে পারেনি।
পারেনি ভালবাসতে; ভালোবাসি বলতে আপন সরলতায়।
ভালবাসার মধ্যে এক স্বপ্ন দেখা মানুষ স্বপ্নেই ভেসেছিল।
কিন্তু তার কোন কূল পাওয়া হলো না!
বলা হল না- “আমি ভালোবাসি, ভালোবাসি তোমাকে।” -
কবিতা- আমার একটা তুমি চাই
আমার একটা তুমি চাই
-সুমিতা পয়ড়্যাদিন- রাত এক করে অনেক ভেবেই বলছি–
আমার একটা তুমি চাই।
মাথাটা কাঁধে রাখার জন্য
আমার একটা তুমি চাই।
বুকের মধ্যে মুখটা গুঁজে দিয়ে
নোনা জল ঝরবে তার জন্য
আমার একটা তুমি চাই।অনেক দূর হাঁটার জন্য,
হাতে হাত রাখার জন্য,
এলো চুলে বিলি কাটা আলতো পরশের জন্য
আমার একটা তুমি চাই।
একটা বাহুতে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জন্য,
পাশের সিটে বসে গল্প করার জন্য,
একলা ঘরে জড়িয়ে ধরে বসে থাকার জন্য
একটা তুমি চাই;শুধু একটা তুমি।
কি করছ?ঘুমাচ্ছ?খেয়েছ?জিজ্ঞাসার জন্য,
অবসরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য,
হাসিতে হাসিতে ভরিয়ে রাখার জন্য
একটা তুমি—-সকালে আলতো ছোঁয়ায় ঘুম ভাঙানোর জন্য,
সারাদিনের কাজের ব্যস্ততায় থাকা আমি তুমি
সময় পেলেই একটু আদর, একটু খুনসুটির জন্য,
পূর্ণ হৃদয়ের ভালোবাসার জন্য
আমার একটি সারাক্ষণের তুমি চাই।
গল্প করার জন্য, মন ভালো করার জন্য,
স্বপ্নে আমার ভালোবাসাকে পাওয়ার জন্য,
উদ্দাম, উচ্ছ্বাসে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য,
জ্যোৎস্নালোকে ছাদে গিয়ে পুণ্য স্নান করার জন্য
আমার সত্যিকারের একটা তুমি চাই।অনন্তকালের অন্তরাত্মা শোনো,
বহু প্রতীক্ষার দীর্ঘ সময় শোন,
আকাশ-বাতাসের ছান্দিক সুর শোন;
শুনছ তোমরা; আমার ভালোবাসায়
আমি শুধু একটি তুমি চাই তুমি।
যে তুমিতে আমি একা থাকব একা,
যে তুমিতে বিশ্বাস, সত্য,মর্যাদায় ভরপুর থাকবে,
যে তুমিতে মুগ্ধতা থাকবে শুধু আমার জন্য;
এমন একটা তুমি চাই!এমন একটা তুমি।
আমার শুধু একটা তুমি চাই। -
কবিতা- বৃত্তের ঘেরাটোপ
বৃত্তের ঘেরাটোপ
সুমিতা পয়ড়্যাবৃত্তটা তো বৃত্তই!
তা ছোটই হোক আর বড়ই হোক।
একটা কেন্দ্রবিন্দু
আর তার পরিধি।
চাইলেও ছোট করতে পারবে না
চাইলেও বড় করতে পারবেনা।
একই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে,
পরিধি ও একই; পরিসরের দূরত্ব একই
ভেবেচিন্তে চললেও একাই লড়তে হবে
বোতামে চাপ দিয়েই হোক; চাপ বোতামে দিয়েই হোক
বৃত্তের মাঝখানে যতই অবস্থান থাকুক না কেন
কেন্দ্রবিন্দু তুমিই!
দম বন্ধ হয়ে আসে আসুক,
শিয়রে প্রমাদ আচ্ছাদিত
দুঃস্বপ্নের অন্ধকার গোটা বিশ্বকে যেখানে গ্রাস করেছে
সেখানে একটা বৃত্ত বলয়ে থেকে বেশি আর কি করা যাবে!
খবর সত্যি হোক আর মিথ্যে হোক ধনী ধনীই থাকবে;
গরিব গরিবিপনায় বড়লোকই থাকবে।
সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ যখন বৃত্ত বলয় গ্রাস এর শিকার
তখন আমরা তো কোন ছাড়!
রাহু ,কেতু, শনি, অমাবস্যা, পূর্ণিমা সব দশায় আমাদের খুব কাছে।
তাকে অস্বীকার করবে সাধ্য কোথায়!
বাঁচে আর মরো সবটাই ওই চক্রব্যূহে আটকে আছে।
সবাই ঢুকতে জানে, বেরোতে জানে না
বেরোনোর পথ নেই; পথপ্রদর্শক নেই
তাই আর একবার ভেবে চিন্তে রবি ঠাকুরের গানের ভাষায় এগোতে হবে——
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
তবে একলা চলো রে”। -
কবিতা- অপেক্ষমান
“অপেক্ষমান”
-সুমিতা পয়ড়্যাসেই তেমাথার মাথার মোড়
আজ ও আছি দাঁড়িয়ে
হাতছানির অপেক্ষায়।
একলা দাঁড়িয়ে আছি
দাঁড়াতে দাঁড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি
হায়রে আমার একলা ঘর
হায়রে আমার তাকিয়ে থাকা।
চাতকের মতো উদাস চাওয়ায়
সহজভাবে দাঁড়িয়ে থাকা।জানিস কি তুই
একলা আমি দাঁড়িয়ে আছি
অনন্ত বিস্ময়ে কত যুগ যুগান্তরে।
ক্লিওপেট্রার চুম্বনে অমরত্ব লাভ
বঞ্চিত করেছি বারংবার।
আত্মগরিমায় অন্তর্দহন পুড়েছে,
অনাবৃত আকাশ তলে ঠিকানা করেছি নিজের;
বেঁচে আছি, গভীর অন্ধকার
ছুঁয়ে দেখেছি আত্মবিশ্বাসে।
আসেনি, কেউ আসেনি।সাতরঙা রঙে রাঙাবে হৃদয় পট।
কোন অমৃত রস বার্তা বয়ে আনেনি
যাতে নিজের অহং কে রঞ্জিত করা যায়!
অবিরাম প্রাণের স্পন্দন অনুভূত
প্রতিটি শিরা-উপশিরায় রক্তিম চাঞ্চল্য;
সকল সৃষ্টি, কৃষ্টি গাঁথা অনিবার
সকল স্তুতি গানের অবারিত মুক্তদ্বার
তবুও কেউ আসে না, আসেনি।সেই হতভাগ্য আমার একার দাঁড়িয়ে থাকা।
সূর্য উদিত হয় অস্ত যায় আবার উদিত হয়
ডুব দেয়া আর ওঠা, ওঠা আর ডুব দেয়া
আর একা একা দাঁড়িয়ে থাকা।
হাতছানির অপেক্ষায়।
অপেক্ষমান দাঁড়িয়ে থাকা আমি
আর তেমাথার মোড়।
অধরা হাতছানির অপেক্ষায়
শুধু অপেক্ষায়…….। -
কবিতা- বিষাদের রঙ
বিষাদের রঙ
– সুমিতা পয়ড়্যাখুঁজে পেলাম–
বিষাদের হরেক রকম রঙ,
ওই যে কান্নাভেজা বালিশটি
তার রঙ সোঁদা মাটি–
তা না হয় ধরিত্রীকে দিলাম।ওই যে কাঙ্গাল ভিখারি
শুধু ভালোবাসা খুঁজে বেড়ায়
তার রঙ আগুন;
যে শুধু হৃদয়কে পোড়ায় প্রতিক্ষণে,
আগুন তুই ফাগ বসন্তেরই থাক!ওই যে বিষন্ন মন–
তার রঙটা ঠিক যেন ধূসর!
ওটা আকাশ তোকেই দিলাম।
ওই আলো-আঁধারির সম্মোহিনী রূপ
ওখানেই যে ধূসর কে ভালো মানায়।ওই যে উন্মাদিনীর, পাগলিনীর চঞ্চলতা
যে শুধু ভালোবাসার আবেগে ভাসতে জানে!
তোকে কোন রঙটা দিই বলতো?
হ্যাঁ, হ্যাঁ! নীলটাই তোর জন্য সঠিক,
অনেক কল্পনার জালে নিজেকে ধরে রাখিস,
তুই বরং কবির কলমেই থাক।
না বলা শব্দরা নীল কল্পনায় নীলাম্বরীর সাজে থাকতে পারবে!আর ওই যে কালো রঙটা,
চুপিচুপি নিস্তব্ধ রাতে প্রবেশ করে
চারিদিক অন্ধকারে কালো রঙটা কেমন যেন প্রগাঢ় হয়ে ওঠে।
তোকে আর কার কাছে রাখবো!
এমন নীরব নিশ্চিত ভয়ঙ্কর মৃত্যুর প্রতীক;
তুই বরঞ্চ অভিযাত্রী হয়ে রাত্রির কাছে যা ।
সেখানে তুই ভবিষ্যতের কথা বলতে পারবি।এই যে আমার শ্যাওলা সবুজ রঙ
চাতকের মত অপেক্ষা করে থাকিস;
সময় কত দ্রুত বয়ে যায়
তা যদি তুই জানতিস!
অপেক্ষমান তুই ইতিহাসের ঘরেই যা।
ওখানে তুই অতীত বর্তমানের কথা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে আঁকতে পারবি।বিষন্ন বিষাদের হরেক রকম রঙ–
লাল, হলুদ, আসমানী, কমলা, বেগুনী
আরো কত যে রঙ!এত রঙ যে বয়ে বেড়াবো সে ক্ষমতা অস্তিত্ব আজ আর নেই।
জীবনের সব বিষাদের রঙগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
তাইতো সাদা পাতা সাদাই থেকে গেলো,
অন্তরের বিষাদের হরেক রকম রঙের ব্যাখ্যা দিয়ে
হয়তো বা কবিতা লেখা যায়; হয়তো বা নিজেকে আচ্ছন্ন করে রাখা যায়,
কিন্তু আর আঁকা যায় না।
হরেক রকম কাটাকুটি করতে করতে সাদা পাতাগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে কখন!
নিভৃতে স্মৃতির ঘরে সাদা রঙ সুখ স্বপনে শান্তি খোঁজে বোধ হয়।!