অণু কবিতা
-
অণু কবিতা- আর্তি
আর্তি
– অমিতাভ সরকারকল্পনার কবচ কুণ্ডলে
কেন বেঁধে দিলে?
আশ্চর্য প্রদীপ জ্বালিয়ে
মুছে ফেলো যত দুঃখ,
নাবালক শিশুর ফুলগুলো দিয়ে তৈরি হোক
নব প্রজন্ম।
নীতিমালার তলায় চাপা থাক শ্রমের লালসা।
বসন্তের কোকিল ডাকুক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে।ক্ষুধার অন্ন জুটুক ঘরে ঘরে নির্বিঘ্নে।
আর সভা নয় ফানুসের সাজে,
আশ্চর্য প্রদীপ জ্বলুক প্রতিবাদী ঝড়ে। -
অণু কবিতা- সৌন্দর্য তুমি এলে –
সৌন্দর্য তুমি এলে
– বৃষ্টি (পলি ঘোষ)তুমি এলে এক মেঠো পথে এক মুঠো রোদ্দুর হাতে,
কন্ঠে গাঁথা পলাশ শিমুল ফুলের মালা।
চোখের কোনে জমে ছিলো এক আকাশ অভিমান….
বুকে ঝরে পরুক মনের আবেগে এক পশলা বৃষ্টি।
ঠোঁটের কোণে থাকুক তোমার এক মিষ্টি মধুর স্মৃতি।
আমার স্বপনের পথে বন্ধু হয়ে চিরদিন।
শিরা উপশিরায় হৃদয়ে স্পন্দনে,
তুমি এলে অনন্ত সুখের সময়।
তুমি এলে.. -
কবিতা- জীবন যাতনা
জীবন যাতনা
-অমিতাভ সরকারআমার যখন সময় হল,
তুমি গেলে পাটে।
সেইখানেতে সুখে থাকো,
এই ইচ্ছা বটে।কষ্ট ছিল -ভীষণ কষ্ট,
ছিলাম সামর্থহীন।
সুখ যখন স্বপ্ন দেখাল,
তুমি তখন বিবেকহীন।বসন্তের এই খুশির সময়,
পড়ছে মনে বেশি।
আঁকতে গিয়ে তোমার ছবি,
নেই তো সেই খুশি।রক্ত গোলাপ হাসছে দেখি,
নেই তাতে স্পৃহা।
প্রিয়া আমার কোন দেশেতে,
আনন্দ হারা হিয়া।সুখের মধ্যে দুঃখ বোধ,
সেটাও জীবন জ্বালা।
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির রুপ সায়রে,
এইতো জীবন খেলা। -
অণু কবিতা- বীজমন্ত্র
বীজমন্ত্র
– সুজিত চট্টোপাধ্যায়ভালো থেকো..
বললেই কী ভালো থাকা যায়?
শর্ত আছে না,
ভালো রাখার শর্ত; পুরণ করেছিস?
না? হায়, তবে হলো না।
বীজ বপন কর, তবে তো ফসল,
ভালোবাসার, ভালোরাখার আনন্দ ফসল।
নে, এইবারে ভালো থাক
এইভাবে আজীবন,
ভালো রাখাই ভালো থাকার বীজমন্ত্র ।। -
অণু কবিতা- জীবন যাদু
জীবন যাদু
– দেসা মিশ্রআকাশের গায়ে কালো ধোঁয়ার মত হাত যেন ছুটে আসে ফুলেদের দিকে,
নিঃশ্বাস বন্ধ হয়।
আগুনের রঙ আরো হিংস্র হয়ে পুড়িয়ে দেয় স্বপ্ন, – আগামীর ভোর।
ঘুম ভেঙে শিশু দেখে আঁচলহীন জীবন।
ঘাসের রঙ পাল্টে লাল।জীবনের চেয়ে বড় মঞ্চ নেই… যাদুর
মেলায় ঘুরছি হর রোজ।
দিনের শুরুতে আমরা সবাই রাজা দিন শেষে নিখুঁত ভিক্ষুক। -
অণু কবিতা- যখন প্রতিবাদ
যখন প্রতিবাদ
– সুজিত চট্টোপাধ্যায়কপালে চিতা জ্বলছে
বুকে পাথরের স্তুপ।
এখানে সূর্য আগুন ঝরায়
সমুদ্র এসিড।
রোবসপিয়র এখনো জীবিত
গিলোটিন পরাস্ত মিথ্যা চাতুরীর কাছে।
প্রতিটি গৃহের কোনায় কোনায়
দানা বাঁধছে যুদ্ধ।
ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে
এবার পদপিষ্ট হও রোবসপিয়র,
কিষাণ দল হাঁটছে, চোয়াল শক্ত করে
ভয় বেড়ালকে দেখিও, ওরা বাঘের বাচ্চা। -
অণু কবিতা- হেমন্তের পাখি
হেমন্তের পাখি
– অতীশ দীপঙ্করবসে আছি উত্তরের বাতাস আসবে ঘরে;
নিশীথ নির্জনে শত নক্ষত্র আঁধার এখানে;
পুষ্করণী চুম্বন করে মরা পাতার শব্দ নিয়ে
নিস্তব্ধতার মাঝে ঘুঙুরের শব্দে পাতা ঝরে!
উড়ে যায় রাতপাখি মহা শূন্যে খুব ভোরে
শুধু দেখি অমানিশার অন্ধকার চারিদিকে!
খুঁজে চলি হিমেল বাতাস এ প্রান্তরে বসে–
আলোক বিন্দু হতাশার সমুদ্র হতে বহু দূরে! -
অণু কবিতা- জানালা
জানালা
– সুজিত চট্টোপাধ্যায়মন খারাপ হলেই
জানালা কাছে ডেকে নেয়।হৃদয়ের কপাট খুলে দিয়ে বলে
এই দ্যাখ, চলমান সুখ।চোখ থেকে মনের দুরত্ব কত!
মন থেকে মস্তিষ্কের?কবি জানে, তবুও কে জানে কেন
কবিতায় ফাঁক থেকেই যায়।আসলে কবি নয়, জানালা সব জানে
অনেক দূর পর্যন্ত, যতদূর মন যায়, যতদূর। -
অণু কবিতা- কুঁড়ি ফুটেছে
কুঁড়ি ফুটেছে
– অমিতাভ সরকারমন চেয়েছে তোমার আমার,
চুপ থাকলে কি আর হবে।
ফুল ফুটেছে গাছ সেজেছে,
আর প্রেম কি আড়ালে রবে?চন্দ্র কিরণে হাসির জোয়ার,
তারারা মিটিমিটি হাসে।
প্রেমের তরী পারে ভিড়েছে,
ভাসবে সোহাগ রসে।ভাটিয়ালি সুরে নদী বয়ে যায়,
ছাওনি ঢাকা তরী।
দুজনের প্রেমে আকাশ দুলছে,
চাঁদের আলোয় হেরি। -
অণু কবিতা- পথের শিশু
পথের শিশু
– সোমকাঁদছে কত পথের শিশু
ঝরছে চোখে জল।
একমুঠো ভাত পাবার আশায়
জীবনটা নাজেহাল।ডাস্টবিনেতে খাবার জোটে
কুত্তার সাথে লোড়ে।
শীতের রাতে ঘুম আসে না
ছেঁড়া জামায় মুড়ে।স্বপ্ন ওদের চোখের পাতায়
একমুঠো ভাত খাবার।
দুঃখ চেপে হাসি মুখে
দিন পেরিয়ে যাবার!