-
পৃথিবীর কষ্ট
পৃথিবীর কষ্ট
-তোফায়েল আহমেদপৃথিবী বিশাল জলরাশির উপর দাঁড়িয়ে আছে
পাহাড় পর্বতের পায়ায়,
আঠারো হাজার সৃষ্টির লালন পালনে উপকার
করছে, পরম মমতা ধারায়।মায়ের সম পৃথিবী, সৃষ্টির সকল সন্তানের আপন
মাটির কোমল শরীর নিয়ে,
বিলিয়ে যায় দেহ- প্রাণ, বিনিময় কিছু নাহি চায়,
উজার করা অবারিত ভালোবাসা দিয়ে।তার দেহ কেটে ফসল ফলাই,ফসলে জীবন বাঁচে
বুকে রয়েছে স্নিগ্ধ সমারোহ সবুজের,
পৃথিবীর শরীর টুকরো টুকরো করে তপ্ত আগুনে
পুড়ে ইট তৈরী করে ইমারত হয় আবাসের।তার বুকে ঘর বানিয়ে যাপন নিত্য নৃত্য করি উল্লাস
পরের উপর বাহাদুরি ক্রয় বিক্রয়,
অথচ তার উপর বোমা মেরে রক্তাক্ত করি হিংসাকে
উড়াই,দম্ভের রাজত্ব করি,কিন্তু নাহি সদয়।সন্ধ্যা হলে তার বুকে ঘুমিয়ে দিবা ক্লান্তি দূর করি
প্রভাত হলে জাগি,চরণ দেমাগ দলিতে ঘুরাই,
পৃথিবীর কোলে জন্ম নিয়ে তাকেই করি অত্যাচার!
অবসানে অগনিত সৃষ্টি তারই অতলে পায় ঠাঁই।প্রকৃতি থেকে বনজ ফলজ ভেষজ বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস
ছায়া,ফুল জীবন ধারণে পাই,
সাজানো প্রকৃতিকে নষ্ট করি,সংরক্ষণ যত্ন নাহি করি,
নিরব রক্তক্ষরণে তাকে কাঁদিয়ে যাই।পৃথিবীর মন প্রাণ আছে,ব্যথায় সে কষ্ট পায়,
চিৎকারে কখনো ঝড় তুফানে বিদ্রোহী হয় স্বজনায়,
বৃষ্টির সাথে কান্না করে বন্যায় ভাসায়,মায়ের লালন কোমলতায় ফিরে যায় সন্তানের মায়ায়।
অচিনে চেনেনা তাকে,নির্বোধের চেতন বোধ পলাতক,
জীবনের দম্ভ মোহ লোভ স্বার্থের অহমিকায়,
পৃথিবী সৃষ্টির আপন মম,পরম আত্মীয়,উপকারী বন্ধু,
তাকে কষ্ট না দিয়ে সোহাগে যত্ন করি কৃতজ্ঞ মহিমায়।সৃষ্টির সেরা মানুষ জাতি,বিধাতার শ্রেষ্ট উপহার,
বিবেক জ্ঞান ইচ্ছায় স্বাধীন জীবন যাপন করে হচ্ছি পথ ভ্রষ্ট,
পৃথিবীর বয়স অজানা,বৃদ্ধ হলেও দৃষ্টিতে তরুণ,মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণী তার ক্ষতি করেনা,ইহা পৃথিবীর কষ্ট।
-
জগৎ খেলা
জগৎ খেলা
-তোফায়েল আহমেদমানুষ চায় তার সুন্দর নর -নারী, বাড়ি
গাড়ি ধন সম্পত্তির আয়োজন,
আশার বিমুখতায় ভবিষ্যৎ ডেকে বলে
মিটাবো তোমার সব প্রয়োজন।মন চায় তার মনের মত মানুষের মিলন
সন্ধানে জীবনের হয় ক্ষয়,
মনের মানুষ মন বুঝেনা অমিলের জন্য
আসেনা মনের আসল জয়।জীবন খোঁজে জীবনানন্দ ভব প্রত্যয়ে
সুখ অধরা রয়েছে পলাতক,
মনানন্দ ঘুরে বেড়ায় জগতের বহু পুরে
নিয়ে তার চলমান জ্বালাতক।জীবন চায় তার সত্যায়িত ভালোবাসা
প্রকৃতির আপন স্বভাব প্রেমে,
ভালোবাসা উদয়ে সোহাগ বাড়ায়,অস্তে
অন্তর পোড়ায় স্মরণের ফ্রেমে।যৌবন শরীরের শিকার অমৃত রসায়নে
আরবার তার চলে ক্ষয়,
সৃষ্টির উল্লাসে আদমের চাষাবাদ চলে
মনুষত্বের নাহি আসে জয়।চাতক -চাতকীর মরু সমান পিপাসা
তৃষিত বারির সুধা অভাব সুরে,
মেঘেরা খেলা করে ঘুরে দূর আকাশে
নদীর আসা যাওয়া সাগরপুরে।পাখির দুঃখ, ঝড় বৃষ্টি, ঘর বাড়ি নেই
ডালে ডালে থাকে কষ্ট করে,
ক্ষুধার জ্বালায় আহারে মাঠে গেলেই
ডানা ভেঙ্গে মানুষে ধরে মারে।অথচ এই পাখির কলকাকলীতে সন্ধ্যা
আসে সৃষ্টিকে নিশিতে ঘুমাতে,
শর্বরীর বিদায়ে জাগিয়ে দেয় প্রাণীদের
কন্ঠ সুরের কর্মের রাঙা প্রভাতে।মখলুকাতের চাষাবাদ কর্তা করেন
ভব রহস্যের মাটির কোলে,
জীবন পেয়ে মোহ ইচ্ছায় করে পাপ
রুপান্তরের অংক ভুলে।গরীবরা খেটে মরে কেষ্ঠের ঘর্মাক্তে
ক্ষুধার ক্লান্ত জ্বালা মেটাতে,
ধনীরা গরীব খাটায় অর্থ যশ বাড়াতে
বিলাসের পরশে থাকতে।এই পৃথিবীর কোলে প্রাণ আসে যায়
ক্ষণিকের খেলা খেলতে,
আরো কত গোপন আপনায় অজানা
তবু চাহেনা কেহ মরতে।জগৎ খেলাঘরে খেলছে খেলা বিবিধ
বুঝা বড় দায়, আশা -নিরাশায়,
কে কে যাবি আয় তোরা পারাপারের
সত্য জ্ঞানের আলোকিত নৌকায়। -
পিয়াস পিপাসা
পিয়াস পিপাসা
-তোফায়েল আহমেদ
ললাটের লিখনে মিলন, রাখিবে জানিও যতন, তাদেরই মতন।শুনেন তবে বন্ধুরা মোর বেহুদা ছোট গল্পের কথন।
পৃথিবীর ঘুর্নীপাকে প্রেমিকের সাথে প্রেমিকার দেখা।কাকতালীয় নয় বাস্তবতায়।জীবনের কর্ম তাগিদে দুটি পথের কখনো মিলন হয়।ট্রেনের ক্রস লাইনের সিগনালের মতন।ভাগ্যের সুপ্রসন্নতায় দুজনাই একাকী। ব্যক্তি জীবন থেকে কেহই রিট্রায়ার্ড করেনি।বয়সতো বাতাসের মত গতিশীল। উভয়ের পরিবেশ থেকে আরম্ভ করে সবাই জানে দুটি মানুষের জীবন পরিক্রমার কথা।
কেহ বা পক্ষে কেহ আবার বিপক্ষে ছিল মতামত নামক বাস্তবতার বাহুডোরে।কেহ আবার কুৎসা রটানো স্বভাবের ছিলো।বোধ দিয়ে যারা বুঝেছে তারা কখনো জীবনের বিরুদ্ধে সায় দেয়নি।জীবন ছিলো তাদের দুজনার দুটি হ্নদয়ের মিলনে।মোহনায় বাঁধ সেজেছে পিপিলিকার দল।সুন্দরের পুজা সবাই করে। নিজে অন্যে। ধন্যে ভরে, হেরে না গেলে চরণে।পিপাসা নামক একটি মেয়েকে ভালোবাসতো পিয়াস নামক এক ছেলে।দুজনায় রুপ নিলো ভালোবাসার ভালো হ্নদয়ের মিলন।কথায় বলেনা! দূরের প্রেম কাছে ডাকিলে আরো কাছে আসো, কাছের প্রেম দূরে ঠেলিলে চিত্ত দিয়ে ডাকো।দুটি কর্মে দুজনার জীবন।ভালোবাসায় ছিলো একত্রিত ভূবন।সঙ্গত সংগীতের আড়ালে হারালো একে অপরজনকে।অবনির প্রাকৃতিক গুলো নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ।চিরন্তন তাদের পথ চলার জীবন।ভালোবাসা কোন কৃত্রিম বস্তু নয়।প্রাকৃতিক ভাবেই হয়।হ্নদয় হ্নদয়কে খোঁজবে তাহা চিরন্তনময়।ভালোবাসা কোন ফুল নয়।
ইহা কোন চরের বালু ও নয়। ইহা মোরছালিন গাছের মতন। ভেতর নরম বাহিরে শক্ত।বাহির যতই বলুক দূরে থাক। ভেতর বলবেই সময় অসময়ে কাছে আসো।এই সত্যকে সত্যায়িত করা লাগেনা।ইহা অব্যয়। পিয়াসের দেখা পিপাসা পেলো এক গোধুলি লগ্নের পড়ন্ত বিকেলের আলো আধারিতে।দিঘির জল তখনো খানিকটা চোখে পড়ে।দুজনার নীড় এখানেই ক্ষনিকের সময়ের গর্ভে।চারিদিকে নিস্তবদ্ধ হয়ে আসছে পরিবেশের প্যাঁচালির শাব্দিক উচ্চারনগুলো।বাড়ি ফেরার তাড়া দুজনার।পিয়াসের বাড়ি বহু দূর।পিপাসা ছুটিতে বাড়ি আসছে।এখনো বাসায় যায়নি।উভয়ের সাক্ষাতে পিয়াস কথা বলে নিরবতা ভাঙ্গলো।
শুরু হলো শব্দের বৃষ্টি।দুজন দুজনার আপন নয়ন দৃষ্টি।বাস্তবতা আনমনা হলে ও নয়ন মন এক সাথে মিলে বাস্তবতাকে হাড় মানালো।পিপাসার কন্ঠে ভারি অদম্যতা। কথার উপরে কথার সঙ্গম।চোখের সহবাসে মনের চঞ্চল চাতক চাতকী অপেক্ষার প্রাপ্তিতে স্নান করছে।চোখের জলে লবনের তিক্ততা নেই।এ জল যেন মিঠা নদীর পানির সম। কৃতজ্ঞতারা হাসি দিচ্ছে অচেনা দূরের স্বর্গ থেকে।সবুজে বসে দুজনা পাশা পাশি জীবন ঘর্ষন করে আগের মতই নিজেদেরকে পাল তোলা নৌকায় চড়ে পানি ছিটিয়ে ভালোবাসা কুড়াচ্ছে।কিসের ভয়।নাহি সংগোপন। মানেনা বাঁধা ভিন্ন মানুষের মন মালিন্যের।এ যাবত কেহ কারো খবর রাখেনি যে পরিবেশ।তাদের কথায় কি বা আসে যায় বিশেষ?উভয়ের বাড়িতে কেহই জানেনা তাদের আগমণী বার্তা।পৃথিবীটা অবাক দৃষ্টিতে যেন মায়ার কান্নায় তাদের সহানুভূতি জানাচ্ছে।
বিদ্যুত নেই সেখানের পরিবেশে।ক্রমেই অন্ধকার ঝাঁপিয়ে আসছে।নিরবতার পরিধি বেড়ে যাচ্ছে।কত চেনা অচেনা শব্দের বিচিত্র্যে নিজেদেরকে সংযোমে রেখেছে ভালোবাসার মূল্যায়নে।ফুলের পাঁপড়ির মত ঝড়ে পড়ছে দুজনার কথার কলি।স্নিগ্ধ ছড়াচ্ছে দুজনার হ্নদয় পটের নিভৃতেই নয়, জীবনের আনাচে কানাচে, অবশেষে মোহনার মিলন বাঁশির মূর্ছনায়।কি কাতরতার অস্হিরতা।ব্যকুলে আকুল লজ্জার লাজুক লতা। কখনো আড়ষ্ট কখনো ফুটন্ত।এ যেন আরে বারে অগনিত।দীর্ঘশ্বাস এখনো আসে।একে অপরের দীর্ঘশ্বাসরা খেলা করে প্রেম যমুনার আকুলি ব্যকুলির বাঁকে।
পিয়াসের কাঁধে ঝুলানো বেগ।একই দৃশ্য পিপাসার।পিপাসার হ্নদয়ে জাগিলো যে আজি পিয়াসের তৃষ্ণা।
কে মিটাবে মনের জ্বালা ডলে পড়ে কৃষ্ণা। মাথা ব্যাথার ঔষুধ পেয়েছে ঘুমের টেবলেট লাগবেনা।ঘুম গেলো নিজের বাড়ি বেড়াতে ছুটিতে আজ দুজনা।রাত্রীর শরীরে জোনাকি পোকা আলো জ্বেলে কাকে দেখছে। মশারা গান গায় এ দৃশ্য দেখে। পাখিরাতো ঘুমানোর কথা, তারা কেন ডাকে।ভালোবাসার ভালোবাসা তারা ও আজ আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে।আকাশের চাঁদ খানি কেবলি উঠিলো।আলোর জোছনারা পবিত্রে ডাকিলো।দুজনার চেহারাটা লাল হয়ে লজ্জাগুলো সাজিলো।পাঁপড়ির ভিতরের আঁখির কি সুধা জাগিলো।হাতগুলো নড়ে চড়ে বাহুর বন্ধন ছিঁড়ে।বুকের জমিনে কে চাষ করছে ভালোবাসার গান গেয়ে ধীরে ধীরে। পেছনে ছিলো পিপাসাদের বাড়ির গ্রাম্য বাংলা ঘর।সেখানে গিয়ে দুজনা কাছা কাছি বসলো, কেহ কারো নাহি পর।।পিয়াস দরজা লাগাতেই পিপাসার ধ্বনি মৃদু স্বরে বাজিলো।কি করছো তুমি? দরজা কেন লাগাইলা? আমিতো তোমার এখনো বৈধ কেহ নই? কলংন্ক হবে জানিবা। যদি কেহ এসে পড়ে তোমারই মান- আগে যাবে, ভেবেছি -ভাবিয়া।লোকে জানে তোমার আমার প্রেম ছিলো কবেকার আগে।বেজেছে বাঁশি আজি দুজনার হ্নদয় শাখে।ভয় নেই, জয় আছে।ক্ষয় আর হবেনা।পিরিতের আঠা লেগেছিলো আগেই, তাইতো মিলেছে হিয়া দুজনার আজ এই প্রত্যয় ছাপিয়া।ভয়কে জয় করবো, শপথ নিলাম তোমায় ছুঁয়ে বুকের কাঁপুনিকে ঝেড়ে নিলাম।রাত পোহালেই চলে যাবো অদৃশ্যে হারিয়ে। এখন কি করবো বলনা পিয়াস?আমার যে কিছু ভয় শংসয় হয়, বুকে কম সাহস।আমিতো আছি! ভয় নেই , বন্ধন ছিড়িবার পূনরায় মিলানো রস। কপালের লেখন তোমার সাথে পারিবনা প্রিয়া হারাবার।পাশে বসো।বাহিরে শিশির পড়ছে। তার শব্দ শোন।চাঁদের আলোতে পৃথিবী আলোকিত, সে আলোতে মোরা আলোকিত হবো।কুয়াশার চাদরের ভেতরে ডেকে যাবো দুজনা।কন কনে শীত তাড়াবো মোরা, উষ্ণতা ছড়াবো বাহুযুগলের জড়ানো আষ্টে পিষ্টে।তাকাবো দুজনাতে দুজনার মিলন সুধাতে।আরে বারে জাগিবে বাড়িবে অমৃত মোদের আপনালয়ের ক্ষুধাতে।
নাহি সহিবে অপেক্ষার বাণী, আপেক্ষিকতায় বহু ভুগেছি।আজ যাহা হবার হবে, বিধাতায় তাহাই মেগেছি।চোখের তৃষ্ণারা শান্ত হলো, মনের আগুন জ্বলছেই।তারুন্যতায় ডলে পড়লো পিয়াসের পিপাসা বাহুতেই।ঘুম আসলো অচেনা সুরে জড়ানো লেপ্টে চেপ্টে।কাক ডাকা ভোর হলো বাড়ি থেকে তাদের ভাগিতে।
কামনার বাউল গান ধরেছিলো ক্ষনকালের শরীরে।ভালোবাসার ফুঁ এসে নিভিয়ে দিলো অস্হির জাগানো অঙ্গে।দুজনা চলে গেলো, রেখে গেলো তাদের সব জমানো আবেগ।সেই থেকে দুজন দুজনাকে পুরাতন জীর্ণতাকে আস্তা কুড়
-
পৃথিবী ও সৃষ্টি
পৃথিবী ও সৃষ্টি
-তোফায়েল আহমেদ
বসুন্ধরার প্রাকৃতিক পরিবেশে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন আঠারো হাজার বিচিত্র চরিত্রের জীবন,
শ্রেষ্টত্ব উপহার দিয়েছেন মানুষ জাতিকে ভালোবেসে
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আছে যারা সুজন।অবারিত সুন্দর প্রাকৃতিক সবুজে ঘেরা পরিপূর্ণতায়
মানুষের চলে সামাজিক যাপন বিচরণ,
বিনয় সভ্যতা সহনশীলতা শ্রদ্ধা মায়ার ভালোবাসায়
সৃষ্টি সৃষ্টিতে করতে সত্যায়িত আচরণ।জন্মের আগেই মানুষের সৃষ্টি,জন্মটা ধারাবাহিক কৃষ্টি
চলে আদমের নিবাস সংসার বসবাস,
পরমাত্মা আত্মা মন দিয়ে দেহের আকার নির্মাণ করে
এখানে চালায় মানব ফসল চাষাবাদ।সৃষ্টির প্রারম্ভিকেই এই ধারাবাহিক জীবনের উদয় ও অবসানের স্রোতের চক্রের সম ঘুরছে,
কে কি করছে সব ক্যমেরাবন্দি,লিখিত দলিল,ভিডিও,
বিধাতার নিয়োজিত অদৃশ্যরাই করছে।ইচ্ছার স্বাধীনতা একমাত্র মানুষ পেয়েছে কথনে চলনে
ও চর্ম কর্মের এই ক্ষণিক দুনিয়ায়,
কিন্তু,ভব যাপনে অর্থ লাগে, তার পিছু পিছু ঘুরে ঘুরে
ইচ্ছা শিকার হয় প্রকরণী মায়ায়।মৃত্যু অবধারিত সত্য, সবাই অবগত,শয়তান এসে পাপ কাজ করতে বাস্তব ও স্বপ্নে উৎসাহ দেয়,
অন্তরের দখল ছাড়া সব জায়গাতে তার দাপটি খেলা
চালায়, সুন্দর সৃষ্টিগুলোকে বিপথে নেয়।কি অদ্ভুত জীবন,ভবের যাপনে করতে হয় যুদ্ধ,পাপ করায় একজন, অপরাধী আরেকজন,
এপারের টানে ওপার হারায়, জীবন চলে মধু মায়ায়
ছায়ায়,সুজন ব্যস্ত নিয়ে রসিক ভোজন।এখানে সবাই রসিক রসায়নের আলাপ করে পৃথিবী
নামক খেলাঘরে কানামাছির খেলনা খেলায়,
হেলায়- অবহেলায়,বেলায়- অবেলায়,শালায়- শালায়
ভেলায়- ভেলায়,আসল ভুলে নকলের মেলায়। -
লালনে আপন
লালনে আপন
-তোফায়েল আহমেদ
আপন যখন পর হয়ে যায় সঙ্গতে
আপন থাকে কষ্টেতে,
গোপনে কিছু অভিমান ঝরে যায়
দৃষ্টির লবন বৃষ্টিতে।কষ্টের উপর কষ্টের নাচন খেলায়
বুকটি করে ব্যথা,
জীবনের মধু যাপন থমকে দাড়ায়
অল্প বলে কথা।আপনার যত সুধা আপনেই মিটে
অন্যে মিটে না,
অসুখের দাওয়াই আপনার ঘরে
অবুঝে খোঁজেনা।জীবনের স্বভাব হারিয়ে খুঁজে
এটাই আপন ধর্ম,
পিপাসার কন্ঠ জলে হয় শান্ত
জল বুঝেনা তার মর্ম।মনের গহীনে ব্যথার বসবাস
রজনীও জানেনা,
সারাজীবন বহে বেড়ায় তাকে
বর্তমানকে বলেনা।এর নামকেই বলে ভবের জীবন
খোঁজতে হয় তার আপন,
আপনাকে খুঁজে আপন ডুবালেই
দুঃখ করে যায় রোপন।আপনার কথা আপনে শেষ হয়না
নিঃশ্বাসের ঢেউয়ে চলে,
আপন যখন আজীবন গোপনে
থাকে, তাকেই আপন বলে।বর্তমান চলে তার স্রোতের ধারায়
চলমানে চলন মিলন,
সবিনয়ের জীবন অভিনয় করে
গোপনে লালনে আপন। -
পাখির জীবন ও মনুষত্বের লজ্জা..
পাখির জীবন ও মনুষত্বের লজ্জা..
-তোফায়েল আহমেদঘর নাই বাড়ি নাই, এতবড় সুন্দর দুনিয়ায়
গাছের ডালে ডালে তারা ঝুমায়,
পাখিদের কন্ঠ কলকাকলিতে সন্ধ্যা আসে
অবহেলায় বিছানা ছাড়া ঘুমায়।ভোরের কন্ঠে সৃষ্টিদের ডেকে বলে যায়
সবাই, ঘুৃম থেকে উঠো!
মসজিদে নামাজ পড়ে পবনে সু-স্বাস্থ্যের
জন্য বন্ধুরা কিছুক্ষণ হাঁটো।পাখির কৃতজ্ঞতা এক বিধাতার পরে করে
এই মায়ার যুদ্ধ জগতে,
রিযিকের মালিক আল্লাহকে ডেকে ডেকে
মাঠে যায় আহার করতে।পাখিরা ও সংসার করে, প্রকৃতির সবুজে
গোপনে করে আপনে যাপন,
কত স্বপ্ন পাখিরা ও দেখে, আশা ভবিষ্যতে
ঘুরায়, পবিত্র তাদের মনন।পাখিদের দুঃখ ব্যথা মান- অভিমান আছে
ভালোবাসার ঘর উড়ে, কত ভাঙ্গন,
দৃষ্টির রোদনে কষ্টের বৃষ্টি ঝরিয়ে আকাশে
সুধায়, আমি শুনেছি পাখিদের ক্রন্দন।মানুষের মত তারা অকৃতজ্ঞ নয়, বিশ্বাসী,
চলেনা মন্দে, মোহ, স্বার্থের লোভে,
মন জয় করে তারা বন্ধুত্ব করে,গহীন বন,
পাখিদের নিরাপদ,জন্ম মৃত্যুর ভবে।রোদ বৃষ্টি, ঝড়- তুফান মাথায় নিয়ে তারা
যাপন করে,কারো অভিযোগ নাহি স্বরে,
কচি মাংস খেতে ফাঁদ পেতে পেতে তাদের
কত অমানুষ আছে,ডানা ভেঙ্গে ধরে।বাসা বানায়,সাথীকে নিয়ে থাকার আশায়
যৌবনের রসায়নের মধু স্বাদ মিটায়,
পাখিরা চর্মের কর্মে, টুকিয়ে, টুকিয়ে লম্ফে
খায়, সংসার সাজাতে পতিকে বুঝায়।আকাশের পথে উড়ে উড়ে খাদ্যের সন্ধানে
দল বেঁধে দৃষ্টির বহু দূরে যায়,
মা, নিজে আগে খায়না শিশুদের চুমো দিয়ে
মুখে মুখে আদর করে খাওয়ায়।পাখির জীবনে অর্থকরি লাগেনা, এই সৃষ্টিরা
কারো ক্ষতি,মিথ্যে বলেনা, সত্যের গান গায়,
মানুষ শ্রেষ্ঠ জীবন পেয়ে পথভ্রষ্ট, মানবতাহীন,
নিষ্পাপ ক্ষুদ্র পাখির কাছে মনুষত্ব লজ্জা পায়। -
পরিবেশ সংরক্ষণ
পরিবেশ সংরক্ষণ
-তোফায়েল আহমেদ
গাছ লাগিয়ে সবাই পরিবেশ বাঁচাই, বলনে
ছড়াই, সচেতন এই মঙ্গলের বাণী,
একজন মানুষ ঘর বাড়ির কাছে কমপক্ষে
গাছ লাগাতে হয় তিনখানি।বনজ,ফলজ,ও ভেষজ প্রয়োজনীয় গাছ
সব মানুষের দরকার,
আসবাবপত্র,ফল ও অসুখের চিকিৎসায়
সাহায্য করে গাছ চমৎকার।বিপদের সময় মানুষ গাছ বিক্রি করে
অর্থের সাহায্য নেয়,
মানুষের সব দুষিত নিঃশ্বাস গাছ খেয়ে
বিশুদ্ধ অক্সিজেন সৃষ্টিকেই দেয়।গাছের ছায়ায় মানুষ বসে ক্লান্তি তাড়ায়
গাছ জ্বালানীর চাহিদা মিটায়,
অবারিত সুন্দর প্রাকৃতিক সবুজের দিকে
তাকিয়ে,দৃষ্টির উজ্জ্বলতা বাড়ায়।গাছে, পাখির কলকাকলিতে সন্ধ্যা নামে
তারপর,মানুষ রাতের কোলে ঘুমায়,
পাখিদের সুরে প্রভাত আসে,রবকে ডাকে
মসজিদে যেতে সৃষ্টিকে ঘুম থেকে জাগায়।নিজের উপকার নিজেই করি গাছ লাগিয়ে
অন্যকে লাগাতে বুঝিয়ে বলি,
সুস্থ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও সংরক্ষণে
চলো সবাই গাছ লাগাতে চলি।প্রয়োজনে একটি গাছ কেটে তার পাশেই
আরেকটি গাছ লাগাই, অপরে স্বরি,
পরিবেশ বাঁচাতে আপনা জাগাই যত্নে রত্ন
কামাই,পরিবেশ বান্ধব জীবন গড়ি।পরিবেশকে সাজাতে কবিতার আন্দোলন
এবং বাস্তবে চারা রোপণ করি ও স্বরি,
পরিবেশ বাঁচলে সব সৃষ্টিরা সু স্বাস্থ্য পাবে
সবার মঙ্গলে লেখাটি শেয়ার করি। -
অনুভূতির রোদন
অনুভূতির রোদন
-তোফায়েল আহমেদ
চেতনায় কালো বৈশাখী গতির সম ঝড়
আপনে পরের অভাব স্বর,
রক্ত শাসনে অন্তরে জ্বর,মথিত রুদ্ধ স্বর
নির্যাসে দরিদ্র মর মর।তপ্ত কল্পনার হীন এই অভিমান স্বকীয়ে
বিরাজ,ভাঙ্গনের খেলাঘর,
ক্ষণিকের ভুবনে জৈনিকের রুক্ষ্ণ আচরণ
কেন! জীবনের ক্ষুদ্র বালুচর।সত্যেরা পলাতক মিথ্যার জয় মুখরোচক
সমাজে নিখুত অবিচার,
স্বার্থপরের কপালে লোভ- মোহের টিপ
কুসংস্কারের দৃশ্যে জাদুঘর।পৃথিবীর বয়স শেষ,সৃষ্টিরা পাপের মিতা
মনুষত্বের বৃথা চিৎকার,
বিবেক ইচ্ছার দলিতে লন্ড -ভন্ড, হতাশ
আত্মার গোপন ধিক্কার।বিত্ত পিতারা বিরাট নেতা, বাধ্যগত জন
মুখরিত প্রাপ্তি অধিকার,
আড়ালে বিড়াল খেলা,অর্থ রসের দোলন
অপরাধ চলছে চমৎকার।মানতার মানুষ,বক্র পথে নেশার চলন
নির্বাক বুদ্ধি সচেতন জন,
আঁখি তুই অদেখায় থাক, কথনে মন্দ
দ্বন্দ্ব,অনুভূতির রোদন নাহি পতন।বাহির ঝলমল,ভেতরে ময়লায় রঙিলার
নৃত্য,ভ্রষ্ট,কারাগারে শ্রেষ্টের কষ্ট,
দৃষ্টিতে বৃষ্টি শুকায়,বুকের দু- ইঞ্চি নীচে
অন্যায় হয়না বিন্দু নষ্ট।পৃথিবী আজ রক্তাক্ত,মরুভূমি করে যায়
চাতকের সাথে পিপাসার ক্রন্দন,
কোথায়! মঙ্গল পবনের ঢেউ ,উড়িয়ে নে!
আসুক শান্তির বাণী,ভালোবাসার বন্ধন।কত ছন্দের পতন,সৃষ্টির নবীন,ধারাবাহিক
রুপ,এই এক অবাক খেলাঘর,
আপনা থাকতেই আপনাকে ধর,বিধাতার
নির্বাহী আদেশ পালনে মর।অনুভূতির আন্দোলন কবিতার ঘরে প্রকাশ
সংকিত চলনে থম্কিত বিকাশ,
প্রকৃতির সম সবুজ আলোকিত অবারিত
মনের দৃষ্টিদের বোধের পঠনে ফুটুক বিশ্বাস। -
বিজয়
বিজয়
-তোফায়েল আহমেদবিজয় দিবসে ত্রিশ লক্ষ শহীদের
জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা,
তাদের জীবন দিয়ে বাংলাদেশ
পেয়েছে বিজয়ের স্বাধীনতা।বিজয়ের কোন বয়স, ক্ষণ নাই
সে সদা মসৃন উজ্জ্বল,
তাজা রক্তের যুদ্ধে কেনা বিজয়
এখন স্মৃতির দাবানল।সুন্দর হাসি ফুটাতে পারেনি বিজয়
দেশের মানুষের,
অমানুষরা বিজয়ের ফুল ফুটতে
দেয়না,কারণটা স্বার্থের।বিজয় আকাশের পতাকায় উড়ে
পত -পত করে,
কারো জীর্ণ ঘরে বস্ত্র খাবার নেই
ভোগে অসুখ জ্বরে।কত লোক বিজয়ের কোলে বসে
নরম ভালোবাসা করে,
গরীব লোক তার প্রাপ্য পায়নি
পিয়াস পিপাসায় মরে।বিলাসীরা বিলাসে থাকে কোমল
সুখের পুলকিত ঘরে,
বেকারের চাকুরী নাই,ধিক্কার আছে
তাই কেহ বিপথে ঘুরে।দেশ কখনো গরীব নয়,তাকে গরীব
করে রাখা হয়,
মালোয়েশিয়ার দিকে তাকালে দেখি
সুশাসনেই মানুষের জয়।মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মিটেনি
অর্থ কষ্ট সব গরীবের,
বিজয়ের ডামাঢোল একদিনই বাজে
উন্নতি হয়না অসহায়দের।শীতের কম্বলে ডুব দিয়ে কেহ সুখের
মঙ্গলে নিশিতে ঘুমায়,
ছালা, কাঁথা মুড়িয়ে ফুটপাতে থেকে
কেহ নির্ঘুমে ঝুমায়।বিজয়ের স্বাদ মানুষে নাই, বন্দি সে
তবু রোদনে জানাই অভিনন্দন,
অভিমান করে থেকোনা কিছু সুখ
গরীবকে দিও,থেমে যাবে ক্রন্দন। -
অমর সঙ্গীত
অমর সঙ্গীত
-তোফায়েল আহমেদ
স্মরণ সুধায় অমর সঙ্গীত জল্পনায়
আজীবন বাজে,
ডোল নাই, বাদ্য নাই, আয়োজন নাই
নিরবে চলে রোজে।ভালোবাসা এমনই অনুভূতির চলন
যা, মন সৃষ্টি করে,
বান তুফানে শুকনো পাতার আবেশে
স্বভাব ধ্বনিতে ঝড়ে।শুরুটা সুন্দরের পরিপাটিতে চমৎকার
সুখ বিলাসী রসায়ন,
বিবিধ জাগতিক সঙ্গত আচরণ প্রবনে
মান অভিমান পরায়ন ।এক হাতে তালি বাজেনা বৃথাই চেষ্টা
অপর হাত ভাঙ্গা,
তীর ভাঙ্গা খেলায় স্রোতের গর্জন চলে
নিভৃতে রক্ত দাঙ্গা।উপরে ফিটফাট ভেতরে অমর দলন
কষ্টের তিক্ত সোপান,
কাউকে বলেনা আপন ব্যথার কথন
হয়না তার পতন।আশা যেমন দূর ভবিষ্যৎকে দেখায়
কত রঙিন স্বপন,
বর্তমান পালায় সময়ের ধূর্ত স্রোতে
প্রাপ্তি থাকে গোপন।বিয়োগের অংক, যোগ করলেই বৃথা
মন, যোগ করতে বলে,
বার বার ফলাফলে শুন্য বৃত্ত পায়
তবু যোগ করেই চলে।রকমারি কত আশারা স্মৃতির বাসায়
কল্পনায় বসে,
জীবনের যত স্বাদ ছায়াছবির আদতে
একাগ্রে যায় চষে।বনের সবুজ দাবানলের অগ্নি স্রোতে
জ্বলে পুড়ে যায়,
সন্ধানী মন বন খুঁজে খুঁজে গর্ত করে
সবুজের শেখর পায়।